ছাইদুর রহমান নাঈম, কিশোরগঞ্জ থেকে :
গ্রাম থেকে শহর সবখানেই প্রকৃতির মধ্যে সৌন্দর্যের ঢেউ লেগেছে৷ বাতাসের সাথে দুলছে গাছে গাছে কৃষ্ণচূড়া সহ বাহারি অনেক ফুল। প্রকৃতিকে শিল্পীর ছোঁয়াতে যেনো সাজিয়ে রাখা। দাবদাহের মধ্যে ভরদুপুরে মৃদু বাতাসের সাথে ফুলের নড়াচড়া দেখলে মনকে মুহূর্তে শীতল করে দেয়৷ সৌন্দর্যের গভীরে হারিয়ে যায় উদাসীন মন৷ হৃদয়ের মধ্যে এনে দেয় প্রশান্তির নরম ছোঁয়া। মেঘলা আবহাওয়া এই সৌন্দর্য যেনো আরো কয়েকগুণ বৃদ্ধি হয়৷ এসময় মনে হয় বৃষ্টির পানি শরিল ভিজিয়ে সকল ক্লান্তি ভুলিয়ে দিয়ে যায়৷
কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে প্রকৃতির এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে৷ প্রকৃতিজুড়ে এখন রঙের উৎসব। তারই অংশ হয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র মুক্তমঞ্চ যেন রূপ নিয়েছে এক জীবন্ত চিত্রশালায়। চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে কৃষ্ণচূড়ার লাল ফুলের সৌন্দর্য। তা উপভোগ করতে প্রতিদিন সকাল থেকেই মুক্তমঞ্চে আসছেন তরুণ-তরুণী, শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কৃষ্ণচূড়ার প্রেমে মজেছে সবাই।
কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা নিঃশব্দে উপভোগ করছেন প্রকৃতির এই অনন্য দৃশ্যপট। শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকেও মানুষ ছুটে আসছেন এই মনোরম পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে। মুক্তমঞ্চ ঘিরে থাকা কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো এখন ফুলে ফুলে ভরা। গাছের সবুজ পাতাগুলো যেন ফুলের নিচে হারিয়ে গেছে। ঝরে পড়া ফুলে রাস্তার ধারে তৈরি হয়েছে এক লাল গালিচা। শহরের ক্লান্ত পথিক এসে ঘুমিয়ে পড়ে গাছের তলায়৷
জেলার বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুর- আগরপুর রাস্তার দুইপাশে কৃষ্ণচূড়ার গাছ যেনো প্রকৃতির আরেক সৌন্দর্যের হাতছানি দিচ্ছে৷ গাছের সবুজ পাতার মধ্যে লাল কৃষ্ণচূড়ার রং দেখে মনে হয় লাল সবুজের পতাকা। নীরবে নিভৃতেই সৌন্দর্যের এই দৃশ্য মুগ্ধ করছে মানুষকে৷ প্রতিদিন প্রকৃতি প্রেমী মানুষের আনাগোনা লেগেই রয়েছে৷ বাতাসে রাস্তায় কৃষ্ণচূড়া ফুল ঝরে পড়ার পর আরো দিগুণ সৌন্দর্যের দৃশ্যপট দেখা যায়৷
ভাগলপুরে কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্য দেখতে আসা প্রকৃতি প্রেমী আকরাম হোসেন মুন্না বলেন, আমাদের দেশে প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় দৃশ্য মনকে উদ্ভাসিত করে। এই সময়ে পথেঘাটে বাহারি ফুল দেখতে পাচ্ছি। এগুলো আসলে মন ভালো করার উপদান হিসাবে দেখছি। আমাদের সবাইকে প্রকৃতি বাঁচিয়ে রাখতে হবে৷
প্রকৃতি প্রেমী কাইয়ুম খান জয় বলেন, রাস্তা দিয়ে চলার সময় এমন প্রকৃতির সৌন্দর্যে থমকে দাঁড়াই। এই দৃশ্য অবলোকন করলে মনে তৃপ্তি আসে। কৃষ্ণচূড়া, জামরুল, সোনালু সহ বাহারি সব ফুল দেখতে পাচ্ছি।
