
মাহাবুর রহমান, কাপাসিয়া থেকে:
কাপাসিয়ার ভাগ্নে হিসেবে পরিচিত আলম আহমেদ ঢাকা থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে গাজীপুরের কাপাসিয়ার নিজ গ্রামে বাড়িতে যাতায়াত করতেন হেলিকপ্টারে করে। মা’য়ের নামে মরিয়ম ফাউন্ডেশন নামে গড়ে তুলেন আলিশান প্রাসাদ। তবে ৫ আগস্টের পর কাপাসিয়ার মাটিতে হেলিকপ্টারটি আর ওঠানামা করতে দেখা যাচ্ছে না। উধাও হয়ে গেছে হেলিকপ্টার, গা ঢাকা দিয়েছেন ব্যাংক লুটেরা, শিল্পপতি আলম আহমেদ।
গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর গা ডাকা দিয়েছেন স্বৈরাচারী সরকার প্রধান শেখ হাসিনার সন্তান দাবিদার আলম আহমেদ। অনেকের গ্রেপ্তার কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা গেলেও আলম আহমেদকে আর দেখা যায়নি। আলাদিনের চেরাগ পাওয়া অজস্র টাকায় রাজনীতিতে পা রাখা আলম আহমেদ গাজীপুরের কাপাসিয়ার সনমানিয়া ইউনিয়নের আড়াল এলাকায় আধিপত্য গড়ে তুলেন।
বিশাল এলাকা জুড়ে নিজ মা’য়ের নামে রাজপ্রাসাদ বানিয়ে নাম দিয়েছেন “মরিয়ম ভিলেজ”। আলম আহমেদ এখানে আসা-যাওয়ায় বাহণ হিসাবে ব্যবহার করতেন হেলিকপ্টার। যে-দিন আসতেন সে-দিন ঢাকঢোল পিটিয়ে ৫’শ থেকে ১ হাজার টাকায় ৩ থেকে ৪ হাজার লোক ভাড়া করে আনা হতো এবং খাবারের আয়োজন করা হতো। মানুষকে খাওয়ানোটা দোষের কিছু নয়। কিন্তু নিজের বিলাসিতা ও জনপ্রিয়তা কুড়াতে লাখা লাখ টাকা খরচ করে খাওয়ানোর নামে মানুষ জড়ো করার পিছনে খায়েশ ছিল এমপি হওয়ার।
বিভিন্ন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া কথিত লুটেরা আলম আহমেদের হেলিকপ্টারে যাতায়াতে গ্রামের সহজ সরল মানুষকে বোকা বানিয়ে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকাই ছিল তার উদ্দেশ্য। ইতিমধ্যে অনেকটা করতেও পেরেছিলেন। পরক্ষণেই তার নাম যুক্ত ঋণখেলাপিদের তালিকা প্রকাশ হওয়ায় ইমেজ হারান তিনি। গরুর বিরিয়ানি খাওয়ার ভিড় জমাতে দেখাও যাচ্ছে না আগের মতো ভোজন রসিকদের। নেই হোন্ডা বাহিনীর শোডাউন। আলাদিনের চেরাগ পাওয়া ধনাগারের মালিক সেজে কারি কারি টাকা খরচ করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ ও মসনদ দখলের মনোবাসনা অবশেষে অপূর্ণ রেখেই পালিয়ে গেছেন ভাগ্নে শিল্পপতি আলম আহমেদ।
