নুর আলম সিদ্দিকী মানু:
সারাদেশজুড়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখনই সক্রিয় হয়ে উঠেছে এক ভয়াবহ ভেজাল সিন্ডিকেট। বিশেষ করে কোরবানির মাংস রান্নায় ব্যবহৃত মসলা—তার মধ্যে অন্যতম হলুদ মরিচ গুঁড়াকে কেন্দ্র করে চলছে এক নিষ্ঠুর প্রতারণা। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা মসলা প্রস্তুতকারী কিছু অসাধু কারখানায় মেশানো হচ্ছে ইটের গুঁড়া, রঙ, ধুলাবালি ও ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান—যা মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবন দুটোর জন্যই ভয়ংকর হুমকি।
এসব কারখানার আশেপাশে বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দারা দিনের পর দিন দুর্গন্ধ, বিষাক্ত ধোঁয়া ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভুগলেও প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। অথচ এই ভেজাল মরিচের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে দেশের প্রতিটি বাড়ির রান্নাঘরে। গরিব-ধনী, শহর-গ্রাম নির্বিশেষে সবাই এই অদৃশ্য বিষ গ্রহণে বাধ্য হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ভেজাল মরিচ গুঁড়া নিয়মিত গ্রহণে লিভার, কিডনি ও পরিপাকতন্ত্রে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে। শিশুদের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ ও নানা জটিল সমস্যা।
ভেজালকারীদের দৌরাত্ম্য রুখতে জরুরি অভিযান
পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বাজারে যখন মসলার চাহিদা ও দাম দুটোই বাড়ছে, তখন লাভের লোভে কিছু অসৎ ব্যবসায়ী এই ভয়াবহ পথ বেছে নিচ্ছে। এদের রুখতে এখনই প্রয়োজন জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনিক বিশেষ অভিযান। অপরাধী চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সচেতনতার বিকল্প নেই: এই মুহূর্তে স্থানীয় মানুষ ও সচেতন নাগরিকদেরও উচিত ভেজাল প্রস্তুতকারী কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। ভেজালের খবর জানাতে হবে প্রশাসনকে, প্রয়োজন হলে গণমাধ্যমেও বিষয়টি তুলে ধরা দরকার। পাড়া-মহল্লা, বাজার ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
পবিত্র ঈদুল আজহার পবিত্রতা ও স্বাস্থ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে, প্রতিরোধ গড়তে হবে। ঈদ যেন পরিণত না হয় বিষ মিশ্রিত উৎসবে—এটাই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা।
