>শ্রীপুরে টিয়ারগ্যাস, ফাঁকা গুলি; আহত অর্ধ শতাধিক, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি
শাহান সাহাবুদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় নয়নপুর এলাকা। মঙ্গলবার (৩ জুন) সকালে জিন্নাত নিটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকরা আন্দোলনে নামলে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। শেষপর্যন্ত সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ছুটি না পেয়ে লাফিয়ে পড়ার অভিযোগ: সোমবার সন্ধ্যায় কারখানার ছাদ থেকে পড়ে নিহত হন শ্রমিক জাকির হোসেন (২৫)। নিহত জাকির নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বাদে চিরাম গ্রামের মোক্তার উদ্দিনের ছেলে। তিনি ওই কারখানায় অপারেটর পদে কর্মরত ছিলেন। সহকর্মীরা জানান, ছুটি ও পাওনা টাকা না পাওয়ায় মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন জাকির।
মঙ্গলবার সকালে শ্রমিকরা কারখানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে ভাঙচুর চালান এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন।

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ: শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ ঠেকাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হন। শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলে ১২ পুলিশ সদস্যও আহত হন বলে জানায় পুলিশ। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে।
সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ: পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তাদের উপস্থিতিতে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
শ্রমিকের ভাষ্য: আন্দোলনকারী শ্রমিক রুহুল আমিন বলেন, “জাকির ছুটি চেয়েছিল, দিতে চায়নি। তাকে অপমান করা হয়। সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিচার চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ এসে হামলা চালায়।”
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বারিক বলেন, “শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি তদন্তাধীন। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। পারিবারিক কলহ থেকে আত্মহত্যা কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে শ্রমিকেরা হঠাৎ রাস্তায় নেমে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। ঈদের আগে এমন অবস্থায় যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা ভেবে পুলিশ বাধা দেয়।”
কর্তৃপক্ষ নিশ্চুপ: ঘটনা নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিসিটিভি ফুটেজে আত্মহত্যার ইঙ্গিত: কারখানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, জাকির হোসেন একাই ছাদে হেঁটে গিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। এরপর হঠাৎ নিচে লাফিয়ে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জাকিরের মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি প্ররোচনার ফল—তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই ঘটনায় শিল্পাঞ্চলে ফের একবার শ্রমিক নিরাপত্তা ও মানবিক আচরণের প্রশ্ন সামনে এনেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েন রয়েছে।
