Skip to content

খাগড়াছড়িতে ওয়াদুদ ভূঁইয়ার সাম্রাজ্যে বিএনপি আছে চরম বিপদে

সাঈদুর রহমান রিমন ও তুহিন ভূঁইয়া, খাগড়াছড়ি ঘুরে এসে:
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সারাদেশ থেকে ফ্যাসিবাদের দোসররা পালিয়ে গেলেও খাগড়াছড়িতে ওয়াদুদ ভূঁইয়ার নামে নব্য ফ্যাসিস্ট সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জেলা বিএনপির এ সভাপতির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ভয়ংকর সিন্ডিকেট চাঁদাবাজি, দখলবাজি, লুটপাট, মামলা বাণিজ্য, সরকারি দপ্তরসমূহে আধিপত্য বিস্তারসহ জেলার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো জবরদখলপূর্বক হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। শুধু দিঘীনালা উপজেলা থেকেই ৪০০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। আরেক উপজেলা মাটিরাঙ্গায় চাঁদাবাজি হয়েছে দুই শতাধিক কোটি টাকা। গোটা জেলায় চাঁদাবাজি-লুটপাটের পরিমাণ চার হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

নিজ দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে জেলার সাধারণ মানুষের অজস্র অভিযোগ ওয়াদুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। আছে লুটপাট, দখল, চাঁদাবাজিসহ পেশাদার অপরাধী প্রতিপালনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগও। এসব ব্যাপারে বহুল আলোচিত এই নেতার বক্তব্য জানতে বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে বাংলাভূমি। সর্বশেষ ওয়াদুদ ভূঁইয়ার ম্যাসেঞ্জার ও হোয়াটস অ্যাপে লিখিতভাবে ৪টি প্রশ্ন পাঠিয়ে সেসবের জবাব চেয়ে বিনয়ী অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু ওয়াদুদ ভূঁইয়া লিখিত প্রশ্ন সিন করলেও কোনো বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থেকেছেন।

ওয়াদুদ ভূঁইয়ার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ও দখলবাজি থেকে ঝাড়ু বাজার থেকে কাঠ ব্যবসা, প্রেসক্লাব থেকে সাংবাদিক ইউনিয়ন- কোনকিছুই রেহাই পায়নি। সিংহভাগ ক্ষেত্রে তার জুলুম অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন ভিন্নমতাবলম্বী বিএনপি নেতা-কর্মীরা। ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অন্তত ৭০টি মামলায় জেলার অন্তত চার হাজার বিএনপি নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে, সীমাহীন নিপীড়ন-নির্যাতন ও হয়রানির মুখে তাদের অধিকাংশই খাগড়াছড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তার অব্যাহত জুলুমবাজি থেকে নিজের আপন ভাতিজা-ভাগ্নেরাও রেহাই পাচ্ছেন না। যাকেই তিনি দলে বা নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছেন তাকেই মামলা-হামলার টার্গেটে পরিণত করে ছাড়ছেন। প্রথম স্ত্রী রেখে ২৮ বছর বয়সী এক টিকটকার তরুণীর সঙ্গে ওয়াদুদ ভূঁইয়া প্রেম-পরিণয়ে আবদ্ধ হয়েছেন, বিয়ে করে সংসার পেতেছেন। তাকেই বানিয়েছেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা। ব্যস্ত টিকটকার এই দ্বিতীয় স্ত্রী জাকিয়া জিনাত বিথীর টিকটকে এখন ওয়াদুদ ভূঁইয়াও সেলিব্রেটি হওয়ার চেষ্টায় বেশি ব্যস্ত। প্রতিনিয়ত তাদের টিকটক মার্কা ভিডিও-ছবি আপলোড এবং তাতে লাইক, শেয়ার, কমেন্ট দিতে দিতে বিএনপি নেতা কর্মীদের প্রাণ ওষ্ঠাগত।

খাগড়াছড়ি জুড়ে চলছে ভয়ংকর পরিস্থিতি
ওয়াদুদ ভূঁইয়া কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক পদে আসীন হলেও খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি পদটি আঁকড়ে আছেন এখনও। এর আগে প্রায় দেড় যুগ ধরে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদটিও কব্জায় রেখেছিলেন তিনি। সে হিসেবে টানা ৩৪ বছর যাবত ছলে বলে কৌশলে খাগড়াছড়ির দলীয় নিয়ন্ত্রণ কুক্ষিগত ছিল ওয়াদুদ ভূঁইয়ার কাছেই। বিগত দুটি সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বিএনপির সিদ্ধান্তে সমীরণ দেওয়ান ও পরবর্তীতে তার ভাতিজা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া ফরহাদ ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পাওয়াকে আজও মানসিক ভাবে মেনে নিতে পারেননি ওয়াদুদ ভূঁইয়া। সেই প্রতিহিংসার আগুনেই বিএনপি নেতা কর্মীদের জ¦ালিয়ে পুড়িয়ে দগ্ধ করা হচ্ছে। সিনিয়র নেতা সমীরণ দেওয়ান ক্লিন ইমেজধারী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা না করলেও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া ফরহাদ, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম বাদল, যুবদল নেতা আব্দুস সালাম, সাবেক ছাত্রদল সভাপতি পৌর মেয়র জয়নালসহ দলের বেশিরভাগ ত্যাগী নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করা হয়েছে।
সাবেক জেলা ছাত্রদল ও পরবর্তীতে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বাবুল বিগত ১৫ বছর ওয়াদুদের ভয়ে ফেনীতে মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছেন। খাগড়াছড়ির পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র রফিকুল ইসলামকে ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করার অপরাধে (!) জেলা যুবদল নেতা, জনপ্রিয় কাউন্সিলর শাহ আলমকে ন্যাক্কারজনক ভাবে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় তারই ছোট ভাই খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বর্তমানে জেলা যুবদল নেতা শাহাদাতের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটানোর বাজে দৃষ্টান্তও সৃষ্টি হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, ২০১৮ সালে সংসদ নির্বাচনে ভূঁইয়ার আপন ভাতিজা তৎকালীন রামগড় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ হতে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে শহীদুল ইসলাম ফরহাদ ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়নে আওয়ামী লীগের একতরফা নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন- সেই ভাতিজাকেও এলাকা ছাড়া করে তার জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছেন তিনি। ৫ আগস্টের পর ৪০টিরও বেশি মামলায় বিএনপি নেতা শহীদুল ইসলাম ফরহাদকে আসামি করা হয়েছে। যা নিয়ে খাগড়াছড়ির জেলা বিএনপিতে চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

হয়রানি আর মামলা বাণিজ্য তুঙ্গে
আগস্টের পট পরিবর্তন যেন খাগড়াছড়িতে ওয়াদুদ ভূঁইয়া ও তার অনুসারীদের জন্য স্বর্গসুখ এনে দিয়েছে, হাতে হাতে তুলে দিয়েছে আলা দীনের চেরাগ। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ৫ আগস্ট পরবর্তী বিশ দিনের মধ্যেই ওয়াদুদ ভূঁইয়া ও তার সহযোগীরা গোটা খাগড়াছড়ি জেলার প্রধান প্রধান ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিজেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে। হামলা, ভাঙচুর, লুটপাটের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের ভীতসন্ত্রস্ত করে তাদের প্রতিষ্ঠান, প্রাইভেট হাসপাতাল, জায়গা-জমি, কাঠ, বাঁশ, ঠিকাদারি থেকে শুরু করে গুচ্ছগ্রামের রেশন বাণিজ্য পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হয়।
একইসঙ্গে ওয়াদুদ বাহিনীর সদস্যরা জেলা-উপজেলার পতিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সহস্রাধিক বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর-লুটপাটের পাশাপাশি প্রায় ৭০টি মিথ্যা-গায়েবি মামলায় আসামি করা হয় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে। এসব মামলাতেই কৌশলে বিএনপি নেতা কর্মীদের আসামি বানিয়ে তাদেরকেও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে ওয়াদুদ ক্যাডাররা। এছাড়াও মিথ্যা, সাজানো মামলায় আসামি করা হয় অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সাংবাদিক, প্রবাসী, সরকারি চাকরিজীবী, মানবাধিকার কর্মীসহ দল নিরপেক্ষ ব্যক্তিদেরও। মামলার আসামীর তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার কথা বলেও হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
খাগড়াছড়িতে প্রতিহিংসামূলক মামলাকে হয়রানি ও বাণিজ্যের পুঁজি হিসেবে ব্যবহারের যে-সব ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দেওয়া হয়েছে দেশের অন্য কোথাও তার নজির নেই বললেই চলে। মামলাকে বাণিজ্যে পরিণত করার ঘৃণ্য চক্রান্তের অংশ হিসেবে এক বছরেরও বেশি সময় যাবত দুবাইয়ে অবস্থানকারী মিজানুর রহমানকেও আসামি বানানো হয়েছে। দীঘিনালা উপজেলার অধিবাসী ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান টেলিফোনে জানান, ওয়াদুদ ভূঁইয়ার মূল ব্যবসা হলো মামলা বাণিজ্য। তিনি বিভিন্ন স্তরের লোকজনকে মামলা দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তার বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
এমনই মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত দীঘিনালা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের কর্মী আবদুর রহমান ও হাঁচিনসনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী জামিন নিতে খাগড়াছড়ি চিফ জুডিশিয়াল আদালতে পৌঁছালে ওয়াদুদ ভূঁইয়ার ক্যাডাররা আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তাদের তুলে নিয়ে যায়। হাইস্কুল মাঠে নিয়ে উভয়কে বেধড়ক পিটিয়ে থানা পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ তাদেরকে আটক দেখিয়ে আদালতে হাজির করলে তাদের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবীকেও দাঁড়াতে দেয়া হয়নি।
আওয়ামী লীগের শাসনামলেও নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দুইবারের নির্বাচিত খাগড়াছড়ি পৌরসভার সাবেক মেয়র রফিকুল আলমের বিরুদ্ধেও এ পর্যন্ত প্রায় তিন ডজন মামলা দেওয়া হয়েছে। অব্যাহত হুমকি ধমকি ও হয়রানির মুখে তিনিও খাগড়াছড়ি ছেড়ে পলায়নপর জীবন যাপন করছেন। রফিকুল আলম জানান, ৫ আগস্টের পর একাধারে অর্ধশত মামলা রুজুর কিংবা এক মামলায় ৮ শতাধিক লোককে আসামি করার কোন নজির দেশের কোথাও নেই। খাগড়াছড়িতে সেই ন্যাক্কারজনক নজিরও স্থাপন করেছেন ওয়াদুদ ভূঁইয়া। মূলত: অবৈধ দখলদারি, চাঁদাবাজি ও লুটতরাজের অপকর্ম বাধাহীন ভাবে চালাতেই মিথ্যা মামলার অপকৌশল চলছে খাগড়াছড়িতে।

স্বৈরাচারী কায়দায় দল চালান ওয়াদুদ ভূঁইয়া- অভিযোগ ভাতিজার
সাবেক সংসদ সদস্য ও খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ‘স্বৈরাচারী কায়দায়’ দল চালানোর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাঁর আপন ভাতিজা রামগড় উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া। একই সঙ্গে পৌর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনে তাঁর চাচা অনিয়ম করেছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। গত ২১ মে দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলেন মো. শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া। এসময় উপস্থিত ছিলেন রামগড় উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী, সহসভাপতি মুজিবুল হক, ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক আবুল কাশেম, রামগড় পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মোতাহের হোসেন প্রমুখ।
খাগড়াছড়ির রামগড়ে নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেন না। দলের গঠনতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্বৈরাচারী কায়দায় নিজের খেয়াল খুশি মতো কমিটি ঘোষণা করেছেন, যা দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থি ও নীতিবহির্ভূত কাজ। এর ফলে জেলায় বিএনপি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, অতীতেও ওয়াদুদ ভূঁইয়ার এসব অনিয়মের ব্যাপারে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অভিযোগ করা হয়েছে। নেতা-কর্মীদের দাবি, কেন্দ্রীয় নেতারা এবারের অনিয়মের তদন্ত করে নবগঠিত পকেট কমিটি বাতিল করে গঠনতান্ত্রিক উপায়ে কমিটি গঠনের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

দীঘিনালাতেই ৪০০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি
সম্প্রতি ওয়াদুদ ভূঁইয়ার আস্থাভাজন নেতা দীঘিনালা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিনের বিরুদ্ধে ৪০০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক মোতালেব হোসেন। এ নিয়ে প্রত্যেক উপজেলায় দলের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদে ফুঁসে উঠছেন। ৫ আগস্ট পরবর্তী ওয়াদুদ ভূঁইয়া তার নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে দখল করে খাগড়াছড়ি ও দীঘিনালা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতি। সম্প্রতি দীঘিনালা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতিতে তার মনোনীত নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়ের এক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাকে বলতে শোনা যায়, “যে যেভাবে পারো টাকা কামাও। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ব্যবসা বাণিজ্য কেড়ে নাও। ১৭ বছর অনেক কষ্টে দল চালিয়েছি, এখন টাকা কামানোর সময়…।”

আওয়ামী উপদেষ্টা নাসির মাটিরাঙ্গার সর্বেসর্বা
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপি নেতা কর্মীদের উপর সবচেয়ে বেশি জুলুমবাজি, নিপীড়ন-নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েছেন মাটিরাঙ্গা উপজেলার জনৈক নাসির উদ্দিন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম উপদেষ্টা। অথচ ৫ আগস্টের পর অজ্ঞাত কারণে সেই আওয়ামী উপদেষ্টা নাসির হয়ে উঠেছেন ওয়াদুদ ভূঁইয়ার ডান হাত। তার মাধ্যমেই মাটিরাঙ্গা এলাকার চাঁদাবাজি, দখলবাজি, জুলুমবাজি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলে এন্তার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত আট-নয় মাসে শুধু আওয়ামী নাসিরের মাধ্যমেই দুই শতাধিক কোটি টাকার চাঁদাবাজি, দখলবাজি সম্পাদনের অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ এই নাসির উদ্দিন মাটিরাঙ্গা রসুলপুর এলাকায় সাংবাদিক হাসান আল মামুনের কোটি টাকার বাড়ি গিলে খাওয়ার ফন্দিফিকির চূড়ান্ত করেছে। তিনি ওয়াদুদ ভূঁইয়ার নাম ভাঙ্গিয়ে প্রকাশ্যেই হুমকি ধমকি দিচ্ছেন এবং বিনাশর্তে পুরো বাড়ি লিখে দেওয়ার জন্য সাংবাদিক হাসান আল মামুনকে চাপ প্রয়োগ করছেন। এ ব্যাপারে ওয়াদুদ ভূঁইয়াকে বিস্তারিত জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। বরং তিনি নাসিরের পক্ষেই রায় দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নাসিরের অব্যাহত চাপের মুখে ওই সাংবাদিক তার পুরো পরিবারসহ বাড়িঘর ছেড়ে চট্টগ্রাম শহরে গিয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। নাসিরের দখলবাজ বাহিনীর সদস্যরা রাত-দিন ওই বাড়িতে মহড়া দিয়ে চলছে।

বিএনপির মামলায় আসামি বিএনপি নেতা…
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়ার বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৫১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ২শ-৩শ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার। ওই মামলায় ১৫ নম্বর আসামি করা হয়েছে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, রামগড় উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও খাগড়াছড়ি আসনের সাবেক বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া ফরহাদকে।
মামলার বাদী খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার বলেন, জেলা নির্বাহী কমিটির সভায় ফরহাদকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়েছে। ফরহাদ অন্যায় করেছেন, তিনি ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন, তাই তাকে মামলার আসামি করা হয়েছে। তবে মামলার আসামী শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া ফরহাদ বলেন, আমি খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি আসন থেকে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ছিলাম এবং ২০১৪ সালে বিএনপির মনোনয়নে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। আমি ১৭ বছর আওয়ামী নির্যাতনের শিকার হয়েছি। অথচ বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মামলায় সেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আমাকেও আসামি করা হয়েছে।

মামলা হলেও গ্রেফতার হয় না ৮৭ দাপুটে
লিখিত অভিযোগ, সাংবাদিক সম্মেলনে নাম প্রকাশ, বিক্ষোভ প্রদর্শন এমনকি থানায় মামলা হলেও ‘দাপুটে ৮৭ জন’ বরাবরই থাকেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় থানায় পরোয়ানা থাকলেও তারা বুক ফুলিয়ে সদাপটে বিচরণ করেন সর্বত্র। যখন তখন থানায় গিয়ে বিচার বৈঠকেও বসেন এ অপরাধীরা। তবু তাদের বিরুদ্ধে আঙুল তোলার সাহস পান না দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তারা।
৫ আগস্টের পর থেকে জেলায় সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর, জ¦ালাও-পোড়াও, লুটপাট, সহিংসতার প্রতিটি ঘটনাতেই এ ৮৭ জনের কারো না কারো নেতৃত্ব ছিল। সংঘবদ্ধ পেটোয়া বাহিনীটি পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার। তাদের মাথার ওপর ওয়াদুদ ভূঁইয়ারও বিশেষ আশীর্বাদ ছোঁয়া রয়েছে। ফলে জেলার সর্বত্র তারা অপ্রতিরোধ্য, চরম বেপরোয়া।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চাঁদা না দেয়ায় খাগড়াছড়িতে এক ঠিকাদারকে মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ৮৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগী ঠিকাদার কিশোর কুমার নামক এক ব্যক্তি। গত ২৭ এপ্রিল এ মামলা রুজু করা হয়। মামলায় জেলা যুবদল সভাপতি মো. সবুজ, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাগর নোমান, সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম, সম-অধিকার খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আসাদ উল্ল্যাহকে আসামি করা হলেও পুলিশ তাদের কাউকে গ্রেফতার করে না। ভুক্তভোগীরা চাঁদাবাজদের গ্রেফতারের দাবিতে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ পর্যন্ত করে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি, থামানো যায়নি তাদের অপরাধ অপকর্মও।
(ওয়াদুদ ভূঁইয়ার সাম্রাজ্যে আবছারের থাবা- পাঠ করতে চোখ রাখুন দৈনিক বাংলাভূমি পাতায়)

 

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫