মীর আলাউদ্দিন, খাগড়াছড়ি থেকে ফিরে:
৫ আগস্টের পূর্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা মায়ের কালো বসে রাজনীতির সুযোগ নিলেও বিপ্লব পরবর্তী ওয়াদুদ ভূঁইয়া ফিল্মি স্টাইলে জেলার একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানে তার দোসরদের মাঝে দপ্তর বণ্টন করে দিয়েছেন। টেন্ডারবাজি, ভুয়া প্রকল্প, ওয়াদুদ ভূঁইয়া কোনো জনসভায় প্রতিশ্রুতি দিলে সেই সব উন্নয়ন প্রকল্প টেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করায় এ দোসররা দায়িত্ব নিয়েছেন বলে বলে একাধিক কর্মকর্তারা জানান। সকল সরকারি দপ্তর নিয়ন্ত্রণ ও খবরদারি দেখভাল করার মূল দায়িত্বে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার।
ওয়াদুদ ভূঁইয়ার বিলাসবহুল বাড়ি সংলগ্ন গণপূর্ত বিভাগের দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবছার, তার সাথে রয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ভাতিজা নজরুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রানা ও নাসির মৃধা। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের দপ্তরে দায়িত্বে রয়েছেন ওয়াদুদ ভূঁইয়ার জনসংযোগ কর্মকর্তা কথিত সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ প্রকাশ হৃদয় নুর ও সদ্য সাবেক জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহেদ সুমন। এদিকে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্বে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক তালেব মেম্বার, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি বাপ্পী মজুমদার ও সাবেক ছাত্রদল ক্যাডার প্রাইমারি শিক্ষক সাজ্জাদ মাহমুদ।
অপরদিকে, পার্বত্য জেলা পরিষদের দায়িত্বে-জেলা যুবদল সভাপতি মাহাবুবুল আলম সবুজ, সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম, ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাগর নোমান। এছাড়াও এলজিইডির দায়িত্বে আব্দুর রব রাজা, জেলা যুবদল নেতা সবুজ ও কমল দে। শিক্ষা প্রকৌশলের দায়িত্বে ওয়াদুদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আবসার ও বাঘাইছড়ির আওয়ামী দোসর বিল্লাল হোসেন। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে বিল্লাল হোসেন এবং কালেক্টর মোস্তফা কোম্পানি, পানি উন্নয়ন বোর্ডে জহিরসহ পৌরসভার দায়িত্বে ছাত্রদল ক্যাডার জাহিদসহ একাধিক জনের দপ্তর বণ্টনের বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট।
স্থানীয় এক ঠিকাদার জানান, এসব দপ্তরে যে কোন টেন্ডারের ২% চাঁদা এখন দিতে হচ্ছে। আর সব টেন্ডার এখন কলাবাগানেই। ৫ আগস্টের সময়কালে চলমান সব কাজই এখনও বিএনপি নেতাকর্মীরা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়েছেন। ফলে বিপাকে পড়েছেন পাহাড়ি লাইসেন্সধারী ঠিকাদার এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা, তাপস ত্রিপুরা, বঙ্গমিত্র চাকমাসহ একাধিক পাহাড়ি ঠিকাদার। তাদের বক্তব্য, বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের নামীয় লাইসেন্স দিয়ে চলমান কাজগুলো নয়ছয় করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করছে এবং দায়ভার যার নামে লাইসেন্স তার ওপরই।
জেলার সরকারি দপ্তরগুলো নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে ছাত্রদলের বাপ্পী দা? দায়িত্ব পালন করছেন থানা-পুলিশ সংক্রান্ত যাবতীয় কর্মকাণ্ডের। অল্পদিনেই ছাত্রদলের এ নেতা থানা-পুলিশের এমনই অঘোষিত নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছেন যে, তার ইশারা ছাড়া মামলা রুজু, আসামি ধরা-ছাড়ার সাহসও পান না পুলিশ কর্মকর্তারা। মিথ্যা মামলার ভীতি ছড়িয়ে, দলীয় লোকজনের মাধ্যমে আসামিদের অবস্থান সংক্রান্ত খোঁজখবর নিয়ে পুলিশে খবরদারি করেন এ বাপ্পী দাস। গ্রেফতার এড়ানো, মামলা ও চার্জশিট থেকে আসামীর নাম কর্তনের দায়দায়িত্ব সবই এখন বাপ্পী দাসের ওপর। অল্পদিনেই বাপ্পী দাস বনে গেছেন কোটিপতি।
সরকারি দপ্তর দখল ওয়াদুদ দোসরদের
আপডেট :June 5, 2025
0
সম্পর্কিত আরও সংবাদ
সাম্প্রতিক সংবাদ
আর্কাইব
প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার
প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার
ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।
সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫
