Skip to content

বাঁশখালীতে পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে ব্যক্তিমালিকানাধীন পার্ক, অজানা বনবিভাগ—প্রশাসনের

 

রহিম সৈকত
চট্টগ্রাম ব্যুরো:
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পাহাড়ি টিলা ও বনভূমি উজাড় করে নির্মিত হয়েছে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন বিনোদন পার্ক—যার বিষয়ে কোনো তথ্য নেই বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে। পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর জলদি এলাকায় প্রায় এক একর জায়গা জুড়ে গড়ে উঠেছে এই পার্ক, যার নাম ‘আমানা পার্ক’।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পার্ক নির্মাণের জন্য পাহাড় কেটে এবং প্রায় ৫ হাজার গাছ নিধন করে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মিয়ার বাজার থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে গড়ে তোলা এই পার্কে বৃষ্টির দিনে যাতায়াত অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।

পার্কের প্রবেশমুখে রয়েছে একটি টিকিট কাউন্টার—প্রতি দর্শনার্থীর জন্য প্রবেশমূল্য ৩০ টাকা। টিলার উপরে দৃষ্টিনন্দন সিঁড়ি, পশুর ভাস্কর্য, কংক্রিটের বেঞ্চ ছাড়া তেমন কোনো বিনোদনের উপাদান নেই।

স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের শুরুতে পার্ক নির্মাণের কাজ শুরু হয় এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এটি দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এলাকাবাসীর দাবি, পূর্বে এই এলাকায় ঘন বনভূমি ছিল এবং বিপুলসংখ্যক গাছ গাছালি ছিলো।

উদ্যোক্তা মোহাম্মদ মুমিন বলেন, “এটি আমার ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জায়গা। আমি পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই পার্কটি তৈরি করেছি। গাছ কাটা বা পাহাড় কাটার অভিযোগ সঠিক নয়।” তবে উপজেলা প্রশাসন বা বন বিভাগের কোনো অনুমতি পেয়েছেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

স্থানীয় কলেজছাত্র এনামুল হক বলেন, “এই পার্কে আসছে মূলত উঠতি বয়সী তরুণ—তরুণী আর ইউটিউবার—টিকটকাররা। বিনোদনের তেমন কিছু নেই, বরং পাহাড় নষ্ট করে টাকা আদায়ের ফাঁদ তৈরি হয়েছে।”

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস্ ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, “পাহাড় কেটে স্থাপনা তৈরি করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। উচ্চ আদালতও এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু এখনো পাহাড় কাটা অব্যাহত—যা সরাসরি আইন লঙ্ঘনের শামিল।”

স্থানীয় শিক্ষক নুরুল মোস্তফা চৌধুরী বলেন, “বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামে বন ধ্বংসের দায় প্রশাসনিক অবহেলার। ভূমিদস্যুরা নির্বিঘ্নে পাহাড় কেটে যাচ্ছে, অথচ বন বিভাগ ও প্রশাসন কার্যত নীরব দর্শক।”

চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ কর্মকর্তা দীপান্বিতা ভট্টাচার্য বলেন, “যদি জায়গাটি বন বিভাগের হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেব। আর যদি ব্যক্তি মালিকানাধীন হয়, তাহলে তা দেখার দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের।”

চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের জলদি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, “এই পার্ক নির্মাণের জন্য বন বিভাগ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। আমরা নোটিশ দিয়েছি। বর্ষা শেষে সরেজমিন জরিপ করে দেখবো জায়গাটি বন বিভাগের কিনা—যদি হয়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামশেদুল আলম বলেন, “আমি সম্প্রতি এ ব্যাপারে অবগত হয়েছি। পার্কটি আমার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই নির্মিত হয়েছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন হলেও কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা তৈরি করতে হলে প্রশাসনের অনুমতির প্রয়োজন হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, বন ধ্বংসের কারণে হাতিসহ বন্য প্রাণীর লোকালয়ে প্রবেশ বেড়ে গেছে, ঘটছে প্রাণহানি। পরিবেশ রক্ষায় অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫