>জয়দেবপুর থানায় নবাগত ওসির সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় জমি দখল, মাদক ও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা
শাহান সাহাবুদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি:
গাজীপুর জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল থানা জয়দেবপুর। সম্প্রতি এই থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে যোগ দিয়েছেন মো. তৌহিদ আহম্মেদ। দায়িত্ব গ্রহণের পর মঙ্গলবার রাত ৮টায় থানার সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ঘরোয়া মতবিনিময় সভায় মিলিত হন তিনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সাংবাদিক পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা কবি, লেখক ও সাংবাদিক শাহান সাহাবুদ্দিন, সভাপতি মো. মোজাহিদ, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সবুজ, সিনিয়র সহসভাপতি আশরাফুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য সাঈদ চৌধুরী ও জুবায়ের প্রধানসহ কার্যকরী পর্ষদের সদস্যবৃন্দ। থানার পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. আব্দুর রব এবং ইন্সপেক্টর (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা।
সাংবাদিক নেতারা জয়দেবপুর থানার বিভিন্ন এলাকায় মাদক, জুয়া, জমি দখল, চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং মামলা বাণিজ্যের মতো অপরাধচিত্র তুলে ধরেন। বিশেষ করে রাজেন্দ্রপুর ও আশপাশের অঞ্চলে রাতের বেলায় ডাকাতির ঘটনা এবং অসাধু চক্রের জমি দখলের প্রবণতা উদ্বেগজনক বলে মত দেন তাঁরা।
সভায় প্রধান উপদেষ্টা শাহান সাহাবুদ্দিন বলেন, “পুলিশের দায়িত্বশীলতা না থাকলে জনগণের আস্থা গড়ে ওঠে না। আপনি যদি রাজনৈতিক প্রভাব থেকে সরে এসে আইন অনুযায়ী কাজ করেন, তবে জনসাধারণ উপকৃত হবে।”
সভাপতি মো. মোজাহিদ বলেন, “মাঠ পর্যায়ের কিছু পুলিশ সদস্য মামলা বাণিজ্যে যুক্ত বলে অভিযোগ আছে। এসব বন্ধ না হলে পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পাল্টানো সম্ভব নয়।”
সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সবুজ বলেন, “জমি দখলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি করছি। আপনি যদি দখলদারদের পৃষ্ঠপোষকতার বদলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেন, আমরা পাশে থাকব।”
সিনিয়র সহসভাপতি আশরাফুল ইসলাম বলেন, “রাতের বেলায় সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল চলাচল নজরে রাখতে হবে। অনেক ছিনতাইকারী ও ডাকাত এভাবেই পালিয়ে যায়।”
নির্বাহী সদস্য সাঈদ চৌধুরী বলেন, “ইভটিজিং বেড়ে গেলে মেয়েরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। স্কুল-কলেজ এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করুন।”
জুবায়ের প্রধান বলেন, “থানা হলো জনগণের আশ্রয়স্থল। যারা থানায় এসে হয়রানির শিকার হন, তাদের জন্য একটি অভিযোগ বক্স চালু করা যেতে পারে।”
সব বক্তব্য শোনার পর ওসি মো. তৌহিদ আহম্মেদ বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ দমন শুধু পুলিশের পক্ষে সম্ভব নয়। সাংবাদিকেরা সমাজের চোখ-কান। বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন ও সঠিক তথ্য দিয়ে আমাদের সহায়তা করুন। আমি কারো রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধের ভিত্তিতে কাজ করব।”
তিনি আরও বলেন, “জমি দখল, মাদক ব্যবসা, ইভটিজিং, ছিনতাই ও ডাকাতি—এ ধরনের অপরাধে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। থানায় এসে কেউ হয়রানির শিকার হোক, সেটা আমি চাই না। আমরা সেবা দিতে চাই, শাসন নয়।”
সভা শেষে পুলিশ ও সাংবাদিক নেতারা একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। ওসি তৌহিদ আহম্মেদ সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “আপনারা পাশে থাকুন, আমরা সম্মিলিতভাবে জয়দেবপুর থানা এলাকাকে একটি নিরাপদ ও মানবিক এলাকায় পরিণত করব ইনশাআল্লাহ।”
