Skip to content

ব্যাংক কর্মকর্তার ছদ্মবেশে কোটি টাকার খেলা

>লোনের প্রলোভনে ব্যবসায়ী সর্বস্বান্ত, পিবিআই-এর জালে দুই প্রতারক

শাহান সাহাবুদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি

বিদেশি ব্যাংক থেকে ৫ শতাংশ সুদে “বিনা ডকুমেন্টে” ৫০ কোটি টাকা লোন পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন। সেই প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে দিনাজপুরের ব্যবসায়ী মো. নুর আমিন শাহ খুইয়েছেন ২ কোটি ৬ লাখ টাকা। রাজধানীতে অভিনব কায়দায় এই প্রতারণার ঘটনায় পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) ১৯ জুন দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে—মো. সফিকুল ইসলাম ও ড. সিপার আহমেদ।

গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে চারটি মোবাইল ফোন, আটটি সিমকার্ড, ছয়টি ভুয়া চুক্তিপত্র, ১৩টি চেক, ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথোপকথনের রেকর্ডিং এবং একটি কালো রঙের টয়োটা ক্লুগার প্রাইভেট কার।

কীভাবে গড়ায় প্রতারণার নাটক

ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে টাকা সংকটে ছিলেন দিনাজপুরের চিলিবন্দর থানার ব্যবসায়ী নুর আমিন শাহ। পরিচিত ব্যবসায়ী খন্দকার শাহ আলমের মাধ্যমে তিনি পরিচিত হন নিজেকে ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী সফিকুল ইসলামের সঙ্গে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকার শেরাটন হোটেলের লবিতে সফিকুল তাকে পরিচয় করিয়ে দেন আরও একজনের সঙ্গে—ড. সিপার আহমেদ, যিনি নিজেকে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা ও প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির সাবেক পরিচালক বলে দাবি করেন।

তারা আশ্বাস দেন, লঙ্কা বাংলা, ব্র্যাক ব্যাংক বা বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ৫০ কোটি টাকা লোন করিয়ে দিতে পারবেন। শর্ত দুটি—২ শতাংশ কমিশন ও আনুষঙ্গিক ‘প্রসেসিং খরচ’।

প্রতারণার ধাপে ধাপে লেনদেন

প্রথমে মহাখালী আমতলীর পর্যটন হোটেলের ক্যান্টিনে বসে নগদ ১০ লাখ টাকা নেয় তারা। এরপর ৫-৬ ধাপে আরও ৭৬ লাখ টাকা নগদ এবং ব্যাংকের মাধ্যমে ১ কোটি ২ লাখ টাকা নেয়। বিকাশ-নগদের মাধ্যমে নেয় ২৬ লাখ টাকা।

প্রতিশ্রুতির নিশ্চয়তা দিতে অভিযুক্তরা নুর আমিন শাহকে দেয় ১৩টি চেক এবং ৬টি চুক্তিপত্র। পাশাপাশি, জাইকা থেকে ৭ কোটি টাকা ‘অনুদান’ এনে দেবে—এমন দাবি করে নেয় ভুক্তভোগীর স্বাক্ষরিত আরও আটটি চেকও।

সবশেষে ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন, সবই ছিল সাজানো প্রতারণা। ১৮ জুন বনানী থানায় মামলা করেন তিনি (মামলা নং-১৪, ধারা ৪০৬/৪২০/৩৮৬/৫০৬/৩৪)।

একজনের স্বীকারোক্তি

পিবিআই তদন্তে নামে এবং পরদিন ১৯ জুন অভিযুক্তদের রাজধানীর পল্লবী ও বনানী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। ২০ জুন সফিকুল ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)–এর অতিরিক্ত উপ–পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, “ভুয়া পরিচয়ে বিদেশি ব্যাংক থেকে লোন পাইয়ে দেওয়ার নাটক সাজিয়ে আসামিরা ২ কোটি ৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
তদন্ত চলমান।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫