নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহি কুস্তি খেলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নেত্রকোনায় গ্রামবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে কুস্তিখেলা।
শনিবার (২৮ জুন) বিকেলে জেলা সদরের কাইলাটি ইউনিয়নের পেড়ারগাতী বটতলা গ্রামের মাঠে দীর্ঘদিন পর কুস্তিখেলা উপভোগ করতে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। দীর্ঘদিন পর প্রিয় খেলার খবর পেয়ে আশপাশ ও জেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ ছুটে আসেন খেলা দেখতে। দর্শনার্থীদের পাশাপাশি খেলা এবং খেলার স্টাইল দেখতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসেন কুস্তিগিররাও।
কাইলাটি ইউনিয়নের পেড়ারগাতি, বটতলা ও সিধলাউরসহ কয়েকটি গ্রামের কৃষক শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ এই খেলার আয়োজন করে। গত কয়েকদিন ধরে জেলা সদরসহ বেশ কিছু ইউনিয়নে তারা মাইকিংও করেন। ফলে দুপুর থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা।
এদিকে হারিয়ে যাওয়া কুস্তিখেলাকে নতুন প্রজন্মের সামনে তোলে ধরা এবং মাদকমুক্ত সুস্থ একটা প্রজন্ম গড়ে তুলতে আবারও গ্রামে শুরু করেছেন এমন খেলার। এই খেলায় যেমন শক্তি সাহস লাগে তেমিনি বুদ্ধিরও প্রয়োজন হয়। তাই নতুন প্রজন্মকে সুস্থ রাখার জন্যেও ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার আয়োজন করার তাগিদ অনুভব করছেন অনেকে।
আয়োজক কমিটির সদস্য কামরুল ইসলাম জানান, নতুন প্রজন্মের অনেকেই খেলা দেখে ভীষণ আবেগাপ্লুত। কেউ কেউ বাপ দাদার খেলা থেকে নিজেও কুস্তিগির হয়েছেন। এক সময় কুস্তিগিরদেরকে মানুষ দেখতে আসতো। দাওয়াত করে নিয়ে খাওয়াতো। সেই অবস্থা এখন না থাকায় সেটিকে পুনউদ্ধার করা প্রয়োজন।
আয়োজন কমিটির আহবায়ক কাইলাটি ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক এবং বিশেষ অতিথি আব্দুল আজিজ জানান, এই উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকা থেকে কুস্তিগিরসহ দর্শনার্থীরা আসছেন। আশপাশ জুড়ে বসেছে বিভিন্ন খাবারের দোকানপাট। বর্ষা মওসুমে আগে প্রতিবছর কয়েকটি খেলা হলেও গত ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে খেলাটি হারিয়ে যেতে বসেছিলো। আমরা চেষ্টা করব প্রতিবছর এই খেলাটির আয়োজন করতে
গত শুক্রবার থেকে আয়োজন কমিটির কাছে মোট একশত উপরে কুস্তিগির তালিকায় নাম লিখান। খেলা শেষে জয়ীরা ছাতা, ক্রেস্ট, এলইডি ও ছাগল নিয়ে খুশি হয়ে বাড়ি ফিরছেন। নতুন প্রজন্মের কুস্তিগীরদের মধ্যে প্রথম হয়ে এলইডি পেয়েছেন উলুয়াটি গ্রামের শাহ আলম ও ২য় স্থান হয়েছে রবি মিয়া ও আলম মিয়া।
