Skip to content

কোনোভাবেই দখলমুক্ত হচ্ছে না রাজধানীর ফুটপাত

রাশেদুল হক

রাজধানী ঢাকার রাজপথের দুই ধারে থাকা ফুটপাতগুলো মূলত পথচারীদের চলাচলের জন্য। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এসব ফুটপাত বছরের পর বছর যাবত দখল হয়ে আছে হকার, ভ্রাম্যমাণ দোকান, অবৈধ পার্কিং ও নানা স্থাপনার কারণে। কোথাও কোথাও ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে স্থায়ী বাজার, মার্কেট, পাকা স্থাপনা। সিটি কর্পোরেশনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঝে মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চালালেও পরক্ষণেই দখল হয়ে যাচ্ছে এসব জায়গা। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান কোথায়? আর এর পেছনে কারা দায়ী?

হকারদের দখলে অধিকাংশ ফুটপাত

রাজধানীর নিউ মার্কেট, গুলিস্তান, ফার্মগেট, মিরপুর, উত্তরা কিংবা মোহাম্মদপুর—প্রায় সব এলাকার ফুটপাতেই দেখা যায় শত শত হকারের ভিড়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়কে হেঁটে চলেন, এতে ঘটে দুর্ঘটনা, তৈরি হয় যানজট। ফুটপাতে দোকানপাটের পসরা সাজিয়ে বসা হকারসহ ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা বলেন, “আমাদের পেটের তাগিদে বসতে হয়। আমরা তো জোর করে বসি না। লাইনম্যানদের টাকা দিই, তারাই আমাদের নিরাপদে দোকানপাট বসানোর ব্যবস্থা করে দেয়।”

অভিযান হলেও উদ্ধার হয় না ফুটপাত

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ট্রাফিক পুলিশ মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করে। ২০২৪ সালের জুন মাসেও উত্তরা ও নিউ মার্কেট এলাকায় বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। তখন কয়েকশ দোকান ও অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ফেলা হয়। তবে ২-৩ দিনের মধ্যেই আবার সেই জায়গায় হকারদের দেখা মেলে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা উচ্ছেদ করি ঠিকই, কিন্তু স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালীরা আবার হকারদের বসায়। অনেকে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ও পায়। ফলে আমরা স্থায়ী সমাধান দিতে পারি না।”

আদালতের নির্দেশ অকার্যকর

ফুটপাত দখল বিষয়ে আদালতের নির্দেশ থাকলেও তার বাস্তবায়ন নেই বললেই চলে। আদালত নির্ধারিত মনিটরিং টিম তৈরি ও নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর করার পদক্ষেপ দেখতে পাওয়া যায় না। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এই মনিটরিং টিমগুলো কার্যকর হলে অন্তত দখলের প্রবণতা কমতো। কিন্তু বাস্তবে এমন নজরদারি চোখে পড়ে না।

চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের দাপট

ফুটপাত দখলের পেছনে আছে শক্তিশালী চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। হকাররা প্রতিদিন গড়ে ২০০–৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দেন ‘লাইনম্যান’ বা কথিত স্থানীয় নেতাদের। এই টাকা চলে যায় নানা পর্যায়ে-যার মধ্যে কিছু পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতার নামও উঠে আসে। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে উচ্ছেদ অভিযান কখনোই স্থায়ী ফল দেবে না।

ঝুঁকিপূর্ণ জনচলাচল, অহরহ দুর্ঘটনা

তি‌লোত্তমা ঢাকা বাংলা‌দে‌শের রাজধানী। মেগা‌ শহর‌টির যেম‌ন র‌য়ে‌ছে প্রশস্ত সড়ক, তেম‌নি র‌য়ে‌ছে পথচারী‌দের জন‌্য চওড়া ফুটপাত। কিন্তু বরাবরই ফুটপাতগু‌লো জবরদখল থাকায় একদিকে প্রধান সড়কগু‌লো শ্রীহীন হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছে, অন্যদিকে পথচারীদের জন্য চলাফেরা হয়ে উঠছে চরম ঝুঁকিপূর্ণ । কারণ ফুটপাতগুলো জবরদখল থাকায় পথচারীরা ব্যস্ততম প্রধান সড়ক ধরেই চলাচলে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে অহরহ দুর্ঘটনা আর হতাহতের শিকার হচ্ছেন অহরহ।

প্রধান সড়‌ক লা‌গোয়া ফুটপাত অনেক আগেই জবরদখল হওয়ায় মূল সড়‌কের একাংশ জুড়ে রাখা হচ্ছে নির্মাণসামগ্রী, দোকানপাটের মালামাল। পথচারীরা পায়ে হাঁটার মতো একচিলতে জায়গাও খুঁজে পান না। ফলে নারী, পুরুষ, শিশুসহ অসংখ্য পথচারীকে নামতে হয় প্রধান প্রধান সড়কে। ঘিঞ্জি, জ্যাম আর দ্রুতগতিতে ছুটে চলা যানবাহনের পাশ ঘেঁষে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় এঁকেবেঁকে পথ চলতে বাধ্য হন তারা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫