নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই-আগষ্টের আন্দোলন-সংগ্রাম-বিপ্লবে রাজধানীর ১৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তারা একদিকে আন্দোলনকে যেমন চাঙ্গা করেছে, অন্যদিকে রাজপথে অবস্থান নেওয়া ছাত্র-জনতার জীবন রক্ষায় নিয়েছে ভ্যানগার্ডের ভূমিকা। ১৮ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত নেতা কর্মীরা একটানা রাজপথ, অলিগলিতে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার পতন ও পলায়নের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত বিজয়ের পরও ১৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতা কর্মীরা হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ঠেকাতে মাঠে ছিলেন পাহারাদারের ভূমিকায়। এ কারণে বারিধারা, জগন্নাথপুর, বসুন্ধরা, কুড়িল থেকে খিলক্ষেত পর্যন্ত এলাকায় তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
৫ আগস্টের আগে পরে নানা চরম পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ১৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান বলেন, ওই সময় ১৭ নং ওয়ার্ডসহ গোটা ভাটারা থানা এলাকায় প্রতিহিংসামূলক কোনো ঘটনার নজির নেই। ভাটারা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ হোসেন টিটু, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহ জাহাঙ্গীর মিলনসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা কঠোরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন।
তাদের নির্দেশে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নানসহ নেতাকর্মীরা সার্বক্ষণিক মাঠে পাহারাদারের ভূমিকা পালন করেছেন। ফলে কোনোরকম বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত ঘটেনি, শান্তিপূর্ণ ছিল পুরো এলাকা। এ কারণে ১৭ নং ওয়ার্ড বিএনপিসহ ভাটারা থানা বিএনপির নেতা কর্মীরা প্রশংসিত হয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মীরা জানান, ১৮ জুলাই থেকেই টিটু-মিলন-মান্নানের নেতৃত্বে কর্মী সমর্থকরা মাঠে নামেন, সার্বক্ষণিক অবস্থান নেন রাজপথে। কারণ, ব্লক রেইডের মুখে কেউ বিশেষ করে বিএনপির পরিচিত মুখের কারো বাড়ি ঘরে অবস্থান করার উপায় ছিল না। যে যেভাবে পেরেছেন রাস্তায় নেমে এসেছেন, রাস্তাতেই কাটিয়েছেন রাত দিন, অংশ নিয়েছেন মিছিল, স্লোগান, আন্দোলনে। তারা বলেন, বিএনপির কাণ্ডারি তারেক রহমান যখন আন্দোলনে এক দফার ঘোষণা জারি করলেন তখন আমরা আরো দুর্জয় অবস্থান গ্রহণ করি, শপথ নেই বাড়ি না ফেরার।
১৭ নং ওয়ার্ডভুক্ত বসুন্ধরা-যমুনা গেট ছিল ৭/৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মূল মঞ্চ। সে সময় রাজপথের বৈষম্য বিরোধী শিক্ষার্থী আন্দোলনকে সহায়তা দেওয়াসহ তাদের নিরাপদে রাখতে বিএনপি নেতা কর্মীরা বুক পেতে দেয়। সোসাইটির গেটগুলো তালাবদ্ধ করে আন্দোলনকারীদের অবরুদ্ধ রাখতো আওয়ামী লীগ নেতারা। ফলে পুলিশের ধাওয়ায় সেসব গেটে আটকে পড়া ছাত্র জনতার উপর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের ফ্যাসিস্ট দুর্বৃত্তরা হামলে পড়তো, অসংখ্য জনকে আহত করতো। এ অবস্থায় চরম ঝুঁকি নিয়ে আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা সোসাইটির গেটগুলো ভেঙ্গে উন্মুক্ত করে দেন।
আব্দুল মান্নান জানান, ৩ আগস্ট যুবদলের কর্মী হৃদয় পুলিশের গুলিতে মৃত্যুপথযাত্রী হন, আহত হন আরো প্রায় ৩০ জন। ৫ আগস্টে বিএনপির ত্যাগী কর্মী আমজাদ হোসেন আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে নদ্দা ব্রিজের সামনে শহীদ হন। পাশাপাশি নিরীহ একজন দারোয়ানও নিহত হন গুলিতে। এরপর পরই বই বিচিত্রা দোকানের কর্মচারী যুবদল কর্মীসহ দ্জুনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলেও তাদের আর কোনো খোঁজ মেলেনি।
ভাটারা থানা বিএনপির ২ নং যুগ্ম আহ্বায়ক, সাবেক ১৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি ফরিদ হোসেন টিটুর নেতৃত্বে বিএনপির দুর্জয় ঘাটিতে পরিণত হয়েছে ভাটারা। দলের দুর্দিনের কাণ্ডারি, কর্মী বান্ধব নেতা হিসেবে সমধিক পরিচিত টিটু বরাবরই মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন। ৫টি মামলায় সীমাহীন দুর্ভোগে কেটেছে জীবন, পারিবারিক ভাবেও চরম বিপর্যস্ত হয়েছেন তিনি। বারবার কারা নির্যাতিত নেতা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নানকেও চার চারটি মামলায় তাড়িয়ে ফিরেছে প্রশাসন।
তবুও আব্দুল মান্নান বারবার তুলে ধরেন ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আমির হোসেন আমু, সহসভাপতি আমজাদ হোসেন মোল্লা, কোষাধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আলআমীন, জগন্নাথপুর ইউনিট বিএনপির সভাপতি আবুল হাশেম, সাধারণ সম্পাদক নোমান ফারাজী‘র কথা, তারা বিএনপির দুর্দিনের ভ্যানগার্ড।
