টিটু সরকার
১৯৭১ সালে ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে ছিনিয়ে আনা হয় বাংলার স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ শাসন করেছেন। স্বাধীনতার ৫৫ বছর অতিবাহিত হলেও স্বাধীনতার সুখ সাধারণ মানুষ কখনো ভোগ করতে পারেনি।
এক সময় রাজতন্ত্র চলেছে, তারপর ব্রিটিশ শাসন, ভারতের অঙ্গ রাজ্য, পাকিস্তানিদের শাসন থেকে মুক্তি পাওয়া স্বাধীন জাতি বাঙালি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনে ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ত্যাগ করেন আওয়ামী লীগ সরকার। দেশের দায়িত্ব নেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কিন্তু স্বাধীনতা কোথায়? চাঁদা না দেয়ায় প্রকাশ্যে পাথর নিক্ষেপ করে মানুষ মারা, প্রকাশ্যে গুলি করে মানুষ মারা, এ কেমন স্বাধীনতা? এজন্যই কি দেশ ২য় বার স্বাধীন হলো? সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
কেউ অপরাধ করলে তা প্রকাশ্যে আসলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করলেই কি সেই দলের দায়িত্ব শেষ? এসব অপরাধের দ্বায় কি তাদের দলের উপর আসে না? মানুষের জীবন নিয়ে এ কেমন নিষ্ঠুর খেলা চলছে? সাংবাদিক সাগর, রুনি হত্যার বিচার বার বার পিছিয়ে যাচ্ছে। গণমাধ্যমকে শিকল পড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ করা হয়েছে। দেশে ধর্ষণ, খুন বেড়েই চলেছে।
আলোচিত এসব ঘটনার বিচার দ্রুত এবং জনগণের সামনে করা উচিৎ যাতে এমন ঘটনা ঘটানোর আগে অপরাধীরা শতবার চিন্তা করে। স্বাধীনতা এমন এক সোনার হরিণ যা শুধু মানুষের মুখে মুখে বা কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ। গণমাধ্যমকে মুক্ত করতে না পারলে সাধারণ মানুষ শিকল পড়ানো গণমাধ্যম থেকে কি পাবে? মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জনগণের অনেক প্রত্যাশা থাকলেও তারা কি তা পূরণ করতে পারবে?
অপরাধীর পরিচয় একটাই হওয়া উচিৎ সে অপরাধী। স্বাধীন সোনার বাংলায় কোন অপরাধীর ঠাঁই নাই। সকল অপরাধীদের ঠিকানা কারাগারের বিছানা। স্বাধীন বাংলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব জনগণের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এভাবে চাঁদার জন্য প্রকাশ্যে পাথর মেরে মানুষ হত্যার জন্যই এই স্বাধীনতা? সাধারণ মানুষের লাশের উপর দিয়ে কোন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসতে পারবে? যারা দেশের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করার পাঁয়তারা করে তাদের কোন দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না।
জণগণ একত্রিত হয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আবার প্রমাণ করতে হবে জণগণই সকল ক্ষমতার উৎস। জণগণ ক্ষেপে গেলে কোন অপরাধী সোনার বাংলায় টিকে থাকতে পারবে না।
