গণগ্রেফতারের আতংক ছড়িয়েছে শহর ও গ্রামে
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনায় সদর থানায় ৪টি হত্যা মামলা হয়েছে। এর আগে সন্ত্রাস দমন আইনে সদর থানায় ২টি এবং কোটালীপাড়ায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি ও কাশিয়ানী থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৮ মামলায় আসামী হয়েছে ৮ হাজার ৪০৪ জন।
গোপালগঞ্জে নতুন করে রোববার আরো ২৭ জনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠনো হয়েছে। সদর থানা পুলিশ ৯ জনকে, কোটালীপাড়া থানা পুলিশ ৮ জনকে, মুকসুদপুর থানা পুলিশ ৪ জন এবং কাশিয়ানী থানা পুলিশ ৬জনকে গ্রেফতার করে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির করে। আদালত তাদেরকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ নিয়ে গোপালগঞ্জে ঘটে যাওয়া ঘটনায় গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১০ জনে।
এদিকে কারফিউ শেষ হয়ে রোববার সকাল ৬ টায়। এরপর সকাল ৬টা থেকে শুরু হয় জেলাব্যাপী ১৪৪ ধারা। পরীক্ষার্থী, শিক্ষার্থী, জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিস—আদালত এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকলেও সভা—সমাবেশ ও একসঙ্গে একাধিক মানুষের চলাচল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়।
সকালে সীমিত আকারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছে এবং যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। আইন—শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এইচ এসসি পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় বসেছে। অফিস আদালত খুলেছে। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ রাস্তায় বেরিয়েছে। তবে জনমনে গ্রেপ্তার আতংক রয়েছে।
গত শনিবার রাত ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত জেলায় কার্ফিউ বলবৎ ছিল। আইন—শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান রবিবারের জন্য ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা দেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে গত বুধবার গোপালগঞ্জে দফায় দফায় সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হন। পরে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিতসাধিন অবস্থায় গুলিবিদ্ধ আরও একজনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ জনে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন কারফিউ জারি করে, যা মাঝে মাঝে শিথিল করে চলমান রাখে। সর্বশেষ শনিবার রাত ৮টা থেকে রবিবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত কার্ফিউ কার্যকর ছিল।
গত ১৬ জুলাই এনসিপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতার রেশ এখনো রয়েছে জেলা জুড়ে। সকাল ৬টায় কারফিউ শেষ হলেও আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালকে কেন্দ্র করে সারা জেলায় সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। তবে শিক্ষার্থী, পরীক্ষার্থী ও জুরুরী সেবাসমূহ আওতামুক্ত থাকলেও নিষিদ্ধ ছিল সভা, সমাবেশ ও জনসভা। আওয়ায়মী লীগ অধ্যুষিত জেলা হলেও হরতালের কোন প্রভাব পড়েনি গোপালগঞ্জে। হরতালের সমর্থনে কোথাও কোন পিকেটিং বা মিছিল দেয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে শহরের বেশির ভাগ দোকান বন্ধ থাকায় ও সাধারণ মানুষ বাইরে বের না হওয়ায় বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষেরা। দ্রুত তারা এই অবস্থার উত্তরণ চান।
জেলায় ১৪৪ ধারা জারি থাকলে সময় মত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বাস চলাচল স্বাভাবিক না থাকায় পরীক্ষা কেন্দ্র আসতে বিপাকে পড়তে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গণগ্রেফতার করছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। নতুন করে গ্রেফতার করা হয়েছে ১৭ জনকে এতে জেলায় গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩শ’ জনে। ফলে গ্রেফতারের ভয়ে আতংকে রয়েছে সাধারণ মানুষ। দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিত ফিরিয়ে আনার দাবী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের।
সংঘর্ষে ঘটনায় সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং গণগ্রেফতার বন্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপি। এসময় গণগ্রেফতার বন্ধ করা না হলে প্রতিবাদ কর্মসূচী দেয়া হবে বলে জানান, কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস.এম মহিউদ্দিন।
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করার পাশাপাশি নিরাপরাধ মানুষকে গ্রেফতার করে হয়রানী না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এনসিপির সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিন হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীকে আসামী করে ৪টি মামলা করেছে পুলিশ। আর গ্রেফতার করা হয়েছে ৩১০ জনকে।
গোপালগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় আট মামলার আসামী ৮ হাজার ৪শ
আপডেট :July 20, 2025
0
সম্পর্কিত আরও সংবাদ
সাম্প্রতিক সংবাদ
আর্কাইব
প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার
প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার
ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।
সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫
