মাননীয় এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান,
আপনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সর্বোচ্চ দায়িত্বে আছেন। এবং আপনি খুব সম্ভবত এই মুহূর্তে সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে আছেন—একজন অফিসার হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে।
আমি ধরেই নিচ্ছি আপনি সৎ, সংবেদনশীল, পেশাদার। আপনার নৈতিকতা নিয়ে এখন কথা বলছি না। কিন্তু আপনার নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কতিপয় ব্যক্তির একটি গুরুতর অবহেলা এবং কাঠামোগত ব্যর্থতার কারণে কোমলমতি শিশুসহ অনেকের তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। রানা প্লাজার পরে বাংলাদেশে এমন গণমৃত্যু আর হয়নি। এবার সেটা ঘটেছে স্কুলে।
আপনার নৈতিক, সাংবিধানিক ও পেশাগত বাধ্যবাধকতা হলো—নাগরিকদের প্রশ্নের জবাব দেওয়া। এই লেখায় আমি একজন নাগরিকের পক্ষ থেকে কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করছি, যার উত্তর আপনাকে দিতে হবে—স্পষ্টভাবে, দুঃখজনক কিন্তু নির্মোহভাবে।
প্রশ্ন ১:
F-7 যুদ্ধবিমানগুলোর দীর্ঘমেয়াদি যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয় আপনি কি অবগত ছিলেন না? এই বিমানগুলো ১৯৭৬ সালে চীনে তৈরি। বিশ্বের অধিকাংশ দেশে এই মডেল বহু আগেই বাতিল হয়েছে। ২০১৫, ২০১৭, ২০১৯, এমনকি ২০২১ সালে এই মডেল নিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে—আপনিই তখন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। এই ত্রুটি জানা সত্ত্বেও কীভাবে এগুলো প্রশিক্ষণে উড়ানো চলতেই থাকলো?
প্রশ্ন ২:
আপনি এয়ার চিফ হবার পর এই ঝুঁকিপূর্ণ বিমানগুলো বাতিল করার বা প্রতিস্থাপনের কোন পদক্ষেপ নিয়েছেন?
না নিয়ে থাকলে—কেন নেননি? কার অনুমোদনে এত পুরনো, অকার্যকর যুদ্ধবিমান আজও উড়ছে শিশুদের মাথার উপর দিয়ে? এই সিদ্ধান্ত কি শুধুই আপনার? নাকি পদ্ধতিগত জটিলতা দায়ী?
প্রশ্ন ৩:
সর্বশেষ কবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলোর স্বচ্ছ ‘ফিটনেস চেক’ হয়েছে? এবং সেই চেকের ফলাফলে F-7 বিমানের এই ত্রুটি ধরা পড়েনি কেন? এটা কার ব্যর্থতা—টেকনিক্যাল টিম, ইঞ্জিনিয়ারিং উইং, না আপনার কমান্ড লাইন?
প্রশ্ন ৪:
প্রশিক্ষণ ফ্লাইট কেন জনবহুল এলাকায় হয়?
উত্তরা, রামপুরা, বাড্ডা, হাতিরঝিল—এগুলো ঢাকার কেন্দ্রীয় আবাসিক এলাকা। কেন এইসব এলাকায় এত ঝুঁকিপূর্ণ ফ্লাইট চলে, যেখানে শিশুদের স্কুল রয়েছে? টা কি পরিকল্পনার ব্যর্থতা, নাকি অবহেলার অপরাধ?
শেষ কথা:
আপনি যদি সত্যিই একজন পেশাদার দেশপ্রেমিক হন, তবে দায় এড়িয়ে যাবেন না। এই ট্র্যাজেডি আপনার বাহিনীর সামরিক নয়—নাগরিক কর্তব্যের ব্যর্থতা। কোমলমতি শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিক্ষক, কর্মচারী, অভিভাবকদেরও মৃত্যু হয়েছে রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার কারণে। আপনার বক্তব্য এই ট্র্যাজেডির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে—অথবা ধামাচাপা দিতে পারে। আপনার পেশাদার মর্যাদা নির্ভর করবে এই মুহূর্তে আপনার দেওয়া জবাবের স্পষ্টতা ও সাহসের ওপর।
> “এই মৃত্যু শিশুর নয়, এই মৃত্যু রাষ্ট্রের—যেখানে শাসন আছে, শুশ্রূষা নেই।” — রূপান্তরিত জীবনানন্দ
এই দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা জবাব চাই—আর আপনি দেবেন, এটাই সম্মানের পথ, নাগরিক দায়িত্বও।
– শাহান সাহাবুদ্দিন
