নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ আনোয়ার হোসেন শামীমের সাহসী বক্তব্য ও পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। সরকারি রাস্তায় চাঁদাবাজি ও জুলুমবাজির বিরুদ্ধে তাঁর বলিষ্ঠ অবস্থান এলাকাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি তিনি ঘোষণা দেন, “চাঁদাবাজ ধর, জেলে ভর” — একটি সরাসরি হুঁশিয়ারি যা চাঁদা আদায়কারীদের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থানের পরিচয় দেয়। সরকারি সড়কে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এ ধরনের স্পষ্ট উচ্চারণ সাধারণ মানুষের হৃদয়ে আশার আলো জাগিয়েছে।
নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু ব্যক্তি রিকশাচালক, অটোরিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দিনমজুরদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম সরেজমিনে গিয়ে অবৈধ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং তাৎক্ষণিক নজরদারি জোরদার করেন।
একজন অটোরিকশাচালক বলেন, “বছরের পর বছর ধরে আমরা চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছিলাম, কিন্তু কেউ আমাদের কথা শোনেনি। আজ একজন পুলিশ অফিসার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন—এটাই আমাদের বড় পাওয়া।”
শুধু কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করেছেন তিনি। এএসপি শামীমের এই সাহসী ভূমিকা বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর পেশাদারিত্ব, দায়িত্ববোধ এবং মানবিকতার দৃষ্টান্ত হিসেবে ইতোমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছে। তাঁর এই অবস্থান দেশের অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্যও একটি প্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।
নরসিংদী সদর সার্কেলের অধীন এলাকায় এখন নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, যেসব ব্যক্তি অবৈধ চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে।
স্থানীয় জনগণের মতে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার হোসেন শামীমের এই উদ্যোগ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তাঁর মতো সৎ, সাহসী এবং মানবিক কর্মকর্তারা দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় যে কী ভূমিকা রাখতে পারেন, তা তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন। নরসিংদীবাসীর প্রত্যাশা, তাঁর মতো পুলিশ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দেশে সত্যিকার অর্থে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং জনমানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি উন্নয়নে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীমের এই ভূমিকা নিঃসন্দেহে একটি অনুকরণীয় উদাহরণ।
