বিশেষ প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার সাইটালিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মো. নাজিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে পরিচালনা কমিটি গঠনে অনিয়ম, ভোটার তালিকায় জালিয়াতি এবং প্রতিষ্ঠানের অর্থে ব্যক্তিগত জমি কেনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি—ফ্লুইড দিয়ে ওভাররাইট করে ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে অভিভাবকদের ভোটার ও কমিটির সদস্য করা হয়েছে।
গত ২৯ জুলাই মাদরাসার অভিভাবক সদস্য সাইফুল্লাহ শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে নির্বাচন স্থগিতের লিখিত আবেদন জানান। তাঁর অভিযোগ—ভোটার তালিকা সঠিকভাবে প্রণয়ন করা হয়নি এবং এতে বহিরাগত ভুয়া শিক্ষার্থীর নাম যুক্ত করা হয়েছে।

অভিভাবক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, “ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কবে গোপনে ভোটার তালিকা হলো জানতে পারিনি। অনেকে হুমকির মুখে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।”
অভিযোগে বলা হয়েছে, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে আফতাব আহাম্মেদ আরাফাতের নাম তালিকায় থাকলেও তিনি আসলে এমসি বাজার সংলগ্ন মোড়লপাড়া সোলাইমানিয়া মাদরাসার নিয়মিত শিক্ষার্থী। হাজিরা খাতায় ফ্লুইড দিয়ে পুরনো নাম মুছে ওভাররাইট করে তার নাম বসানো হয়েছে। একইভাবে ব্রাইট স্কলারের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেদুয়ানের বাবাকেও মাদরাসা কমিটির সদস্য বানানো হয়েছে।
এছাড়া জমি সংক্রান্ত অভিযোগে বলা হয়—স্থানীয় আফির উদ্দিনের কাছ থেকে মাদরাসার জন্য জমি বিক্রির টাকা নিলেও তা না দিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরের জমি নিজের নামে দলিল করে রেখেছেন সুপার নাজিম উদ্দীন।
অভিযোগ অস্বীকার করে সুপার নাজিম উদ্দীন বলেন, “সবকিছু নিয়ম মেনেই হয়েছে। দুজন শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন আমাদের আছে, যদিও তারা অন্য প্রাইভেট মাদরাসায় পড়ে। সবাই প্রার্থী হতে পারতেন, কিন্তু হননি। জমি বিক্রির অভিযোগও ভিত্তিহীন—প্রতিষ্ঠানের জমি বিক্রি করা যায় না।”
শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, “ভোটার তালিকা করা ম্যানেজিং কমিটির কাজ। অভিযোগটি যদি আগে আসত, নির্বাচন স্থগিত করা যেত। এখন আদালতই তা করতে পারে।”
