সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে সরকারি খাল ইজারার নামে বাঁধ নির্মাণ করে অবৈধ ভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছে। খালের প্রাকৃতিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়ায় প্রায় ২ হাজার বিঘা ফসলি জমি এখন ক্ষতির মুখে। স্থায়ী জলাবদ্ধতায় ভুগছে অন্তত ১৫ হাজার মানুষ। এতে কৃষি উৎপাদন,পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রাম ও ৯টি মৌজার বিস্তীর্ণ বিলের মধ্য দিয়ে ৩শ বছরেরও পুরনো একটি খাল প্রবাহিত ছিল। খালটি এ অঞ্চলের পানি নিস্কাশনের এক মাত্র মাধ্যম। এর সঙ্গে সংযুক্ত শাখা খালগুলো বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তবর্তী ইছামতি ও কালন্দি নদীতে গিয়ে মিশেছে।
কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী আব্দুল গফফার, শেখ রহমত আলী, হাসান আলী, ইউনুছ আলী, রজব আলী, রওশন আলী, মাহামুদ আলী, শান্তি কুমার ঘোষ, আবুল কালাম, আব্দুল ওহাব, আব্দুল গাজী সহ কয়েকজন ব্যক্তি সরকারের কাছ থেকে শর্ত সাপেক্ষে খাস জমি ইজারা নিয়ে খালের উপর বাঁধ দিয়ে মৎস্য চাষ শুরু করেন। শর্ত অনুযায়ী প্রবাহিত খাল ভরাট, বাঁধ নির্মাণ বা পানি নিস্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কোনো অনুমতি না থাকলেও তা অমান্য করে তারা খালের প্রাকৃতিক প্রবাহ ব্যাহত করে একাধিক স্থানে বাঁধ দিয়েছেন। ফলে খালটি আজ প্রায় মৃত প্রায় অবস্থায় দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম ফারুক,হাবিবুল্লাহ সহ অনেকে জানান,খালে বাঁধ দেওয়ায় বর্ষায় শত শত বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে যায়। ফসলি জমি,বসত ভিটা,পুকুর, মৎস্য ঘের পানিতে ডুবে কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। একই সঙ্গে গবাদি পশু ও মানুষের জীবন-জীবিকায় মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে।
তাদের দাবি,২০১০ সালে তৎকালীন ইউএনও খালটিকে খাস খাল হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এমনকি ২০২১ সালে বিএসডিসির অর্থায়নে খালটি খনন করে উন্মুক্তও করা হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে প্রভাবশালীরা নতুন করে বাঁধ নির্মাণ করে অবৈধ ভাবে দখল করে নেয়। এর প্রতিকার চেয়ে এলাকাবাসী ইতো মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনুজা মন্ডল গত ২০ সেপ্টেম্বর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন,ভূমি মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়ে সরেজমিন তদন্ত করেছি। এক পক্ষ দাবি করছে খালটি তাদের রেকর্ডীয় সম্পত্তি। অন্য দিকে স্থানীয়রা খালটি অবমুক্তের আবেদন জানিয়েছেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
অভিযুক্তদের মধ্যে মোস্তাফিদ লিটন জানান,তাদের দাদা ১৯৬৭ সালে সরকারের কাছ থেকে রেজিস্ট্রি করে জমিটি ক্রয় করেন এবং বর্তমানে খতিয়ানভুক্ত। তাদের দাবি,ওই স্থানে আগে খাল ছিল না।
এদিকে, পরিবেশ আইনবিদ সংগঠন (বেলা) এর খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়ক মাহফুজুর রহমান মুকুল বলেন,এ বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। সরেজমিন পরিদর্শন শেষে স্থানীয়দের সাথে সমন্বয় করে খালটি অবমুক্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,সরকারি খালকে দখল করে রাখা হলে কৃষি,পরিবেশ ও পানির প্রাকৃতিক প্রবাহ চরম হুমকির মুখে পড়বে। তাই দ্রুত বাঁধ উচ্ছেদ করে খালটি উন্মুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে অবৈধ ভাবে সরকারি খালে বাঁধ নির্মাণ
আপডেট :September 25, 2025
0
সম্পর্কিত আরও সংবাদ
সাম্প্রতিক সংবাদ
আর্কাইব
প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার
প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার
ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।
সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫
