Skip to content

মুন্সীগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বাড়ছে আতঙ্কে এলাকাবাসী 

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
মুন্সীগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। শহর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের দলবদ্ধ অপরাধে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছে।ছিনতাই, চুরি, হামলা ও ভয়ভীতি দেখানো এসব গ্যাং সদস্যদের নিয়মিত কর্মকাণ্ডে সমাজে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। জেলা সদরসহ ছয়টি উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের উপস্থিতি এখন চোখে পড়ার মতো। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব গ্যাং সদস্যদের বয়স সাধারণত ১৪থেকে ১৮বছরের মধ্যে। তারা দলবেঁধে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
১০ মার্চ শহরের উত্তর ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা আমানুল্লাহ ফরাজি কিশোর গ্যাংয়ের হাতে ছিনতাইয়ের শিকার হন। তিনি জানান, সিএনজিতে ওঠার পর কিশোররা তাকে নামিয়ে দিয়ে ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। একইভাবে চাকরিজীবী মোহাম্মদ তারেকের বাসায় ঢুকে গ্যাং সদস্যরা স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট করে নিয়ে যায়। শুধু শহর নয়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকাতেও এমন ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। তবে বেশিরভাগ ভুক্তভোগী ঝামেলার ভয়ে থানায় অভিযোগ করছেন না।
শহরের দক্ষিণ কোটগাঁওয়ের বাসিন্দা খোকন চৌধুরী বলেন, প্রায় সময় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু পুলিশের খাতায় অনেক ঘটনাই আসে না।
ব্যবসায়ী গোলাম মাসুদ বলেন, এই কিশোর গ্যাংয়ের কারণে আমরা আতঙ্কে থাকি। ২০২১ সালের ২৪ মার্চ শহরের উত্তর ইসলামপুরে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় তিনজন খুন হয়েছিলেন। এরপর থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানে কিশোর অপরাধ বাড়তে থাকে। গত বছর শ্রীনগরের কামারগাঁওয়ে নিরব নামের এক কিশোরকে দলবেঁধে হত্যা করে গ্যাং সদস্যরা। জেলা শহরের কয়েকজন শিক্ষক ও আইনজীবী মনে করেন, কিশোর অপরাধ বন্ধ করতে পরিবার, স্কুল, ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান বলেন, শিশু—কিশোরদের সঠিক পথে রাখতে হলে পরিবার, সমাজ এবং শিক্ষকদের দায়িত্ব নিতে হবে। তাদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে হবে।
কিশোর গ্যাং দমন এবং শিশু—কিশোরদের অপরাধ থেকে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদফতর নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। জেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় বর্তমানে ৪৭৯ জন শিশু—কিশোর অপরাধে জড়িয়েছে। এর মধ্যে আদালতের আদেশে ১৩৫জনকে পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং ৩৪৪জনকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, যেসব শিশু—কিশোর আইনের আওতায় এসেছে, তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে জেলা পুলিশও নানা কর্মসূচি চালাচ্ছে। পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, আমরা স্কুল—কলেজে সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম করছি। কিশোরদের জানানো হচ্ছে,কোনো অপরাধ বা হয়রানির শিকার হলে ৯৯৯ —এ কল দিতে।তিনি আরও বলেন, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ নিয়মিত নজরদারি করছে। কিন্তু শুধু প্রশাসনের চেষ্টায় হবে না, কিশোর অপরাধ ঠেকাতে সমাজের সব স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫