সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের কৈখালী, পদ্মপুকুর, গাবুরা, মুন্সীগঞ্জ ও নওয়াবেঁকী ইউনিয়ন এবং খুলনার কয়রা ও প্রতাপনগর এলাকায় মিঠা পানি এখন দুর্লভ। শুষ্ক মৌসুমে এক কলসি পানি সংগ্রহ করতে গ্রামীণ নারীদের দীর্ঘ পথ হাঁটতে হয়। ঘরের কাজ শেষে পানি সংগ্রহের জন্য তাদের ছুটতে হয় কয়েক কিলোমিটার দূরে।
এ অবস্থায় স্থানীয় পর্যায়ে পানি সরবরাহের জন্য গড়ে উঠেছে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি ও খুলনার কয়রায় প্রায় ১৫ থেকে ২০টি প্লান্ট বসানো হয়েছে, যার মধ্যে শুধু শ্যামনগরেই আছে সাতটির মতো। প্রতিটি প্লান্টে দৈনিক ২৫ থেকে ৩০ হাজার লিটার পানি বিশুদ্ধ করা হয়। নূরনগরের মঈনুদ্দীন লাভলুর প্লান্ট থেকে প্রতিদিন চার হাজারের মতো পরিবার পানি নেন। জারপ্রতি ৩০ লিটার পানি বিক্রি হয় ২৫ থেকে ৪০ টাকায়, দূরত্ব ও পরিবহন খরচ অনুযায়ী এ দাম ওঠানামা করে।
স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফ ঢালী জানান, তিনি প্রায় এক দশক ধরে এসব পানি মানুষের ঘরে পৌঁছে দেন। শুরুতে শুধু খাওয়া ও রান্নার কাজে কেনা পানি ব্যবহৃত হলেও এখন অনেক পরিবার গোসলের কাজেও এই পানি ব্যবহার করছে। বর্ষাকালে দুই মাস ছাড়া বাকি ১০ মাস কেনা পানিতেই চলে মানুষের জীবন।
গাবুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা রবিউল ও মাসুদের অভিযোগ, লবণপানির চিংড়ি ঘেরের কারণে আশপাশের পুকুর ও জলাশয়গুলোতেও মিঠা পানির অস্তিত্ব নেই। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে তৈরি হওয়া জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে। ফলে স্থানীয়রা চর্মরোগ, ডায়রিয়া, আমাশয়সহ নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতাপনগরের সমাজকর্মী শাহিন শানা বলেন, বর্ষার সময় পুরো এলাকা ডুবে যায়। তখন পুকুর—ডোবা থাকলেও সেগুলো ব্যবহারযোগ্য থাকে না। তাই সারা বছরই কেনা পানির ওপর ভরসা করতে হয়।
একটি স্থানীয় এনজিওর নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মণ্ডল জানান, তার নিজের ঘরেও কেনা পানিই একমাত্র ভরসা। গ্রীষ্মে গোসলের পানিও কিনতে হয়।
এ প্রসঙ্গে শ্যামনগরের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকার রিভার্স অসমোসিস (আরও) প্লান্ট বসালেও তা শুধু এক বছর তদারক করা হয়। পরে স্থানীয় কমিটির হাতে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে কোনো বাজেট না থাকায় এ খাতে সরকারি সহযোগিতা আর থাকে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রনি খাতুন স্বীকার করেন, উপকূলের পানি সংকটের পেছনে বড় কারণ চিংড়ি চাষ। তিনি জানান, খাল—নালা সংস্কার ও পুকুর খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ না হলে সংকট কমবে না।
কেনা পানিই উপকূলের মানুষের একমাত্র ভরসা
আপডেট :October 8, 2025
0
সম্পর্কিত আরও সংবাদ
সাম্প্রতিক সংবাদ
আর্কাইব
প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার
প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার
ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।
সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫
