Skip to content

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে মাটি সরে হেলে পড়েছে সেতু চলাচলে বিঘ্ন 

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের দাশপাড়া সেতুটি ছিল চার গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের সড়কপথে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে সেটির গোড়ার মাটি সরে যেতে থাকে। দিন ১৫ পর মাটি ধসে গিয়ে সেতুটি পশ্চিম পাশে হেলে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংযোগ সড়কের মাটি সরে যাওয়ার খবর জনপ্রতিনিধিরা উপজেলা প্রশাসনকে সময়মতো জানালে সেতুটি ধসে ভোগান্তিতে পড়তে হতো না। দাশপাড়ার সেতু দক্ষিণ কলমা গ্রামে অবস্থিত। সেতুটি হেলে পড়ায় কলমা ইউনিয়নের বিধুয়াইল, পাঁচনখোলা, দাশপাড়া, পূর্ব কলমা গ্রামের মানুষ বিপাকে পড়েছেন। কলমা—পাঠানবাড়ী খালের ওপর নির্মিত সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষকে হাটবাজারে যেতে হয়। সেতুটি হেলে যাওয়ার কারণে হাটবাজার, স্কুল— কলেজগামী মানুষ চলাচলে সমস্যায় পড়েন।
আগে এ সেতু দিয়ে রিকশা, ভ্যান,ইজিবাইক, পিকআপ চলত। এখন যানবাহন চলাচল বন্ধ।
এ অবস্থায় সেতুটির উত্তর পাশে একটি সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। এটি দিয়ে শুধু হেঁটে পার হওয়া যায়। ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দে গত সোমবার সাঁকোর নির্মাণকাজ শেষ হয়।
দাশপাড়ার সেতুর পশ্চিম পাশের গোড়ার মাটি সেপ্টেম্বরের শুরুতে ধীরে ধীরে সরে যেতে থাকে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মাটি সরে যাওয়া স্থানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলেও কাজ হয়নি। মাসের মাঝামাঝিতে সেতুর ৬০ ফুট অংশ দক্ষিণ দিকে হেলে পড়ে। এতে বিপাকে পড়েন এলাকাবাসী।সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন দূরে থাক,হেঁটে আসা —যাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়।তবু অনেকে ঝুঁকি নিয়ে হেলে পড়া অংশের রেলিং ধরে সেতুতে ওঠেন।
এলাকাবাসী জানান, সেতু হেলে পড়ার সময় সেতুর পশ্চিম পাশে থাকা বিদ্যুতের খুঁটিও হেলে যায়। পরে ঝুঁকিতে থাকা সেই খুটি বিদ্যুৎ বিভাগ দ্রুত সরিয়ে নেয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়,২০০৬ সালে উপজেলা স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে কলমা—পাঠানবাড়ী খালের ওপর ১০ ফুট প্রশস্ত ও ৮০ ফুট দীর্ঘ দাশপাড়া সেতু নির্মাণ করা হয় ব্যয় হয় ১৪ লাখ টাকা। সম্প্রতি ধীরে ধীরে পশ্চিম পাশের গোড়ার মাটি সরে যেতে থাকা এবং তাতে গুরুত্ব দিয়ে সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় সেতুটি হেলে পড়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
গত সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, দাশপাড়ার পূর্ব পাশে দক্ষিণ বিধুয়াইল জামে মসজিদের নির্মাণকাজ চলছে। হেলে পড়া সেতু দিয়ে শ্রমিকরা ঝুঁকি নিয়ে ইট, বালু, সুরকি, সিমেন্ট, রডের বস্তা মাথায় করে পার হচ্ছেন।
যাটোর্ধ্ব বিলকিস বেগম বলেন, সেতুটি হেলে পড়াতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন বাজারে যেতে হয়।বিধুয়াইল গ্রামের বাসিন্দা রতন শেখ বলেন, সেতুটি হেলে যাওয়ার কারণে হাটবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস আনা—নেওয়ায় খুবই সমস্যা হচ্ছে। কলমা ইউনিয়ন পরিষদের(ইউপি)প্যানেল চেয়ারম্যান হিরণ দোকানদার জানান, এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে পরিষদের অর্থায়নে হেলে পড়া সেতুর উত্তর পাশে সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। নতুন সেতু তৈরির জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো: রেজাউল ইসলাম জানান,  সেতুটি যেভাবে হেলে পড়েছে, সেটি আর সংস্কার করার সুযোগ নেই। এটি ভেঙে নতুন সেতু করতে হবে।
ইউএনও নেছার উদ্দিন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে হেলে পড়া সেতু অপসারণ করে সেখানে নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বর্ষা শেষে পানি নেমে গেলে সেতুটি অপসারণ করে সেখানে নতুন সেতু তৈরি করা হবে।

 

 

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫