স্টাফ রিপোর্টার:
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গাজীপুর মহানগর সভাপতি শওকত হোসেন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কার্যদিবসেই উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় ব্যাপক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, গাজীপুর সিটিকে একটি গ্রীন সিটি হিসেবে গড়ে তুলবো, নাগরিক সেবা দ্রুত নিশ্চিত করবো।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে নগর ভবনে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সিটি করপোরেশনের আঙিনায় নিমের চারা রোপণ করেন।
এ সময় তিনি বলেন, নগরবাসীর জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও বিশুদ্ধ বাতাস নিশ্চিত করতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে। গাজীপুরকে পরিকল্পিত সবুজ নগরীতে রূপান্তর করাই হবে তার অগ্রাধিকার।
প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার আরও জানান, মশা নিধনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, নগরের গ্রামাঞ্চলকে ধীরে ধীরে শহুরে সুবিধার আওতায় আনা এবং ঢাকামুখী সংযোগ সড়কগুলোর উন্নয়ন তার কর্মপরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি আরও বলেন, ঢাকার সঙ্গে সংযোগ সহজ করতে কানেক্টিং রোডগুলো উন্নত করা হবে, যাতে প্রধান সড়কে দ্রুত পৌঁছানো যায়।
নাগরিক সেবা প্রসঙ্গে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাুকর্মচারীদের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে এবং দলের নেতাুকর্মীদের সহযোগিতায় উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা হবে। পর্যায়ক্রমে সব নাগরিক সেবাকে আরও গতিশীল ও সহজলভ্য করা হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে, সোমবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে গাজীপুর সিটির প্রশাসক হিসেবে শওকত হোসেন সরকারকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। শওকত হোসেন সরকার কাশিমপুর ইউনিয়নের বার বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন।
গাজীপুরকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার পর প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপির সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক এমএ মান্নান। এরপর সাবেক মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ও তার মা জায়েদা খাতুন মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জায়েদা খাতুনকে বহিষ্কার করা হলে প্রশাসক হিসেবে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরাফ উদ্দিন আহমেদকে নিয়োগ দেয় সরকার।
উল্লেখ্য, সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে নির্বাচিত কোনো মেয়রই পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। নানা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতায় কেউ শুরুতে, আবার কেউ মাঝপথে দায়িত্ব থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
এমন প্রেক্ষাপটে নতুন প্রশাসকের প্রতিশ্রুতি নগরবাসীর মধ্যে নতুন প্রত্যাশার সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয় প্রতিশ্রুত উন্নয়ন কতটা বাস্তবায়ন হয় এবং গাজীপুর সিটি কত দ্রুত কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের পথে এগোয়, নাকি অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন আগের মতোই থমকে থাকে’ এমন প্রশ্নই এখন নগরবাসীর মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
