আবদুল কাইউম খান
স্টাফ রিপোর্টার:
শরীয়তপুরের সখিপুর থানাধীন আরশিনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পর থেকে অভিযুক্ত হিসেবে নাম উল্লেখ করা যুবক পলাতক রয়েছেন বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এদিকে ঘটনার বিচার ও বিয়ের দাবিতে অভিযুক্তের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে টানা তিন দিন ধরে অনশন করছেন ওই তরুণী।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে আরশিনগর ইউনিয়নের হাজীকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ইমান হোসেন মোল্লার ছেলে রিপন মোল্লা (২৫)—এর বিরুদ্ধে একই এলাকার এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত রিপন মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তাঁর পরিবারের সদস্য খাদিজা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এ অভিযোগ সঠিক নয়। বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’
অভিযোগের পর শনিবার রাত থেকে একই গ্রামের আফজাল সরদারের মেয়ে সাবিকুন নাহার অভিযুক্তের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন। তাঁর দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং পূর্ব প্রতিশ্রম্নতি অনুযায়ী বিয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ‘ন্যায়বিচার না পেলে আমি অনশন চালিয়ে যাব। প্রয়োজনে মৃত্যুকেও বরণ করে নেব।’
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর সখিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও স্থানীয় কয়েকজন মুরুব্বি বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন। তবে তিন দিন অতিবাহিত হলেও কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। তাদের দাবি, স্থানীয়ভাবে সমঝোতার উদ্যোগ চলাকালেই অভিযুক্ত যুবক এলাকা ছেড়ে চলে যান।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, অভিযুক্তের পরিবার ৫ আগস্টের পর হঠাৎ করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে প্রভাবিত করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং অভিযুক্ত পরিবারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে পৃথক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য বলেন, ‘আমরা গরিব কৃষক পরিবার। স্থানীয় মুরুব্বিরা বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরে জানতে পারি অভিযুক্ত পালিয়ে গেছে। আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করে স্থানীয় ব্যক্তি হারুন মাদবর বলেন, আমি গরুর জন্য ঘাস কাটতে জমিতে গিয়েছিলাম। তখন তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পাই। আমাকে দেখে রিপন মোল্লা পালিয়ে যায়। পরে বিবস্ত্র অবস্থায় থাকা মেয়েটিকে একটি গামছা দিয়ে ঢেকে, সোবহান আখনসহ ঐ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে নিয়ে যাই। সেখানে অভিযুক্তের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনো সেই প্রতিশ্রম্নতির বাস্তবায়ন হয়নি। আমি চাই, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হোক।’
সমাজ প্রতিনিধি ও সখিপুর থানা যুবদলের সহ—সভাপতি আফজাল হোসেন বালা বলেন, ‘অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
এ বিষয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হুসাইন বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে অবগত আছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, এত গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও এখনো কেন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হয়নি এবং কারা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন, সে বিষয়েও স্পষ্টতা নেই। এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং আইন অনুযায়ী ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করা হোক।
