স্টাফ রিপোর্টার:
গাজীপুরের কাপাসিয়ার টোক ইউনিয়নের ডুমদিয়া বাজারে সরকারি সড়ক দখল করে দোকানঘর তৈরি করেছেন ১৬ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি। এ বিষয়ে দুই বছর আগে ওই গ্রামের মোঃ কামরুজ্জামান গাজীপুরের স্থানীয় সরকার উপ—পরিচালকের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দিলে চলতি জুলাই মাসের ৭ তারিখে তাদেরকে দোকানঘর সরিয়ে নিতে উচ্ছেদ নোটিশ জারি করেন গাজীপুরের ডেপুটি কালেক্টর। সেখানে ৭ দিনের মধ্যে যাবতীয় অবৈধ স্থাপনা নিজ দায়িত্ব সড়িয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হলেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন ওই ঘরমালিকগণ। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, টোক ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের লোকজন ও উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই দখলদাররা তাদের অবৈধ দখল টিকিয়ে রেখেছে।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা থেকে জারি করা উচ্ছেদ নোটিশে স্থানীয় ১৬ জন ব্যক্তির নাম ঠিকানা উল্লেখ করে বলা হয়, গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলাধীন ডুমদিয়া মৌজাস্থিত আরএস ৩ নং খতিয়ানের ১৪৬০ নং দাগের টোক ইউনিয়নের নামে চূড়ান্ত রেকর্ডভুক্ত রাস্তা শ্রেণিভুক্ত ভূমির ০. ০৫০৮ একর জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন তারা। এ নোটিশ জারির পরবর্তী সাতদিনের মধ্যে সকল অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা ও দখল সরিয়ে নিয়ে কাপাসিয়ার সহকারী কমিশনার ভূমির নিকট দখল বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো। অন্যথায় বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপার ডুমদিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি মোঃ হারিছ মিয়া জানান, এ বাজারের মাঝখান দিয়ে ১৮ ফুট প্রশস্ত প্রায় ৩ শত ফুট দীর্ঘ ১০ শতাংশ সরকারি রাস্তা ১৪—১৫ বছর আগ থেকে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল বিভিন্ন সময় দখল করে পাকা, আধাপাকা এবং টিনের চাল ও টিনের বেড়া বিশিষ্ট দোকানঘর তৈরি করে অবৈধ দখলে নিয়ে গেছে। অনেকে আবার সেই দোকানঘর মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে। এখন সরকারি জায়গা যদি সরকারের লোকজন উদ্ধার না করে তবে জনগণের তো আর কিছুই করার নাই। তবে জায়গাটা অবৈধ দখলমুক্ত হলে বাজারটি প্রশস্ত হবে এবং আশপাশের জমিতে অনেক দোকানপাট গড়ে তুলতে সুবিধা হবে। আর খোলা জায়গায় সাধারণ মানুষের তাদের উৎপাদিত নানা কৃষিপণ্য বেচাকেনা করতে এবং একটি সুশৃঙ্খল বাজার গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে কাপাসিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ নাহিদুল হক বলেন, এ সংক্রান্ত নোটিশটি আমি সকল অবৈধ দখলদারদের পৌঁছে দিয়ে গাজীপুরের ডেপুটি কালেক্টরের কাছে এসআর কপি পাঠিয়ে দিয়েছি। দখলদাররা যেহেতু নিজেরা তাদের স্থাপনা সড়িয়ে নেয়নি, তাই এখন প্রশাসনিকভাবে উচ্ছেদের বিষয়টি প্রকিয়াধীন রয়েছে।
