Skip to content

মুন্সীগঞ্জে লাখো মানুষের প্রশ্ন—কবে হবে সদরের স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড ?

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
লাখো মানুষের প্রশ্ন—কবে হবে মুন্সীগঞ্জ সদরের স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড?স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় এখনো গড়ে ওঠেনি আধুনিক ও স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড।

জেলা শহরের মানুষের দীর্ঘদিনের এই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত না হওয়ায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন কয়েক লাখ যাত্রী। রাজধানী ঢাকার সবচেয়ে কাছের জেলাগুলোর একটি হওয়া সত্ত্বেও পরিকল্পিত বাস টার্মিনালের অভাবে যাত্রীদের অস্থায়ী স্থান থেকে বাসে উঠতে হচ্ছে। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে যাতায়াত ব্যয় ও ভোগান্তি।

শনিবার (১ আগষ্ট) সরজমিনে গেলে স্থানীয়দের ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন জেলায় আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মিত হলেও মুন্সীগঞ্জ সদর এখনো এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। জেলা শহরের হাটলক্ষীগঞ্জ এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বাসস্ট্যান্ড হিসেবে পরিচিত হলেও সেখানে নেই যাত্রীছাউনি, টিকিট কাউন্টার, শৌচাগার, পার্কিং কিংবা বাস দাঁড়ানোর নির্দিষ্ট ব্যবস্থা। ফলে এলাকাটি কার্যত একটি অপরিকল্পিত যানবাহন চলাচলের স্থানে পরিণত হয়েছে। নামেই এটি বাসস্ট্যান্ড। এর উত্তর পাশে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংলগ্ন সরকারি জমিতে বাসস্ট্যান্ড নির্মাণের আলোচনা একাধিকবার হলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

জানা গেছে, সদর উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা—বাণিজ্য, চাকরি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে নিয়মিত রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করেন। কিন্তু জেলা শহর থেকে সরাসরি বাস ছাড়ার কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় অধিকাংশ যাত্রীকে মুক্তারপুর সেতু এলাকায় গিয়ে বাস ধরতে হয়। অনেকে আবার নৌপথে সদরঘাট বা নারায়ণগঞ্জ গিয়ে সেখান থেকে সড়কপথে গন্তব্যে পৌঁছান।

প্রতিদিন ঢাকায় যাতায়াতকারী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ভোরে বের হয়েও বাস ধরতে দৌড়ঝাঁপ করতে হয়। কখনো রিকশা, কখনো অটোরিকশা বদল করে মুক্তারপুর যেতে হয়। এতে সময় ও ভাড়া—দুটোই বেড়ে যায়।

শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান ইফতি বলেন, প্রতিদিন অতিরিক্ত ভাড়া দিতে গিয়ে লেখাপড়ার খরচ বেড়ে যাচ্ছে। জেলা শহরে একটি স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড হলে আমাদের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হতো।
বেসরকারি চাকরিজীবী মো: জহিরুল ইসলাম বলেন, মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকার দূরত্ব মাত্র ২২ কিলোমিটার। অথচ বাসস্ট্যান্ড না থাকায় প্রতিদিন অতিরিক্ত ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়। নিয়মিত যাতায়াতকারীদের জন্য এটি বড় ধরনের আর্থিক চাপ। আমরা জেলা শহরে একটি স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড চাই। একাধিক ব্যবসায়ীও একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সুবিধা না থাকায় ব্যবসা—বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জেলা শহরে একটি আধুনিক বাসস্ট্যান্ড নির্মিত হলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে এবং পরিবহন ব্যয় কমবে।

সূত্র জানায়, অতীতে বিভিন্ন জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় একাধিকবার স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড নির্মাণের প্রস্তাব উঠেছিল। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সম্ভাব্য স্থান নিয়েও আলোচনা করে। শহরের হাটলক্ষীগঞ্জ এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পাশে বাসস্ট্যান্ড নির্মাণের পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতা, ভূমি অধিগ্রহণের সমস্যা এবং প্রকল্প অনুমোদনের অভাবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে বিষয়টি বছরের পর বছর কাগজে—কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

জেলা মহিলা পরিষদের সহ—সভাপতি হামিদা খাতুন বলেন, মুন্সীগঞ্জ বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা, যার পূর্বনাম বিক্রমপুর। এ জেলা থেকে রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ বহু জাতীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন হয়নি। জেলা শহরে একটি পরিকল্পিত বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ না হওয়া উন্নয়ন পরিকল্পনার বড় ব্যর্থতা। সচেতন নাগরিকদের মতে, একটি আধুনিক বাসস্ট্যান্ড নির্মিত হলে শুধু যাত্রীদের দুর্ভোগই কমবে না; একই সঙ্গে যানজট নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, ব্যবসা—বাণিজ্যের প্রসার এবং জেলা শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি দূরপাল্লার বাস চলাচল সহজ হবে এবং পর্যটন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

স্থানীয় যাত্রীদের অভিযোগ, বর্তমান অবস্থায় অসুস্থ রোগী, নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী যাত্রীরাই সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। বৃষ্টি কিংবা তীব্র রোদে মুক্তারপুর সেতু এলাকায় দাঁড়িয়ে বাসের অপেক্ষা করতে হয়। সেখানে কোনো নিরাপদ যাত্রীছাউনি বা স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড না থাকায় ভোগান্তি আরও বাড়ে।

দিঘীরপাড় পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: নুর হোসেন বলেন, ১৯৯০ সাল থেকেই আমরা মুন্সীগঞ্জ শহরে একটি স্থায়ী বাস টার্মিনালের জন্য চেষ্টা করছি। এ নিয়ে একাধিকবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রস্তাব দিয়েছি। শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড ও কাটাখালী এলাকায় বাসস্ট্যান্ড নির্মাণের কথাও হয়েছিল। কিন্তু কোনো অগ্রগতি হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে কোর্ট বা লিচুতলা এলাকায় আপাতত একটি অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ড চালু করা সম্ভব। এতে ঢাকা—যাত্রীদের কিছুটা সুবিধা হবে। তবে আমাদের মূল দাবি, দ্রুত একটি স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ করা হোক।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিশ্রম্নতি বা উন্নয়ন সভার আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে এবার বাস্তবায়নের পথে হাঁটতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে দ্রুত স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হলে জেলার লাখো মানুষের বহু বছরের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মো: আরিফ উল ইসলাম বলেন, জেলা বাসস্ট্যান্ড নির্মাণের বিষয়ে অতীতে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে তা আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমানে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের সময় স্থানীয় নাগরিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করা হয় না। ফলে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা হয় না এবং শেষ পর্যন্ত জেলার মানুষই বঞ্চিত হন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বলেন, স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড নির্মাণের বিষয়ে আপাতত কোনো কার্যক্রম হাতে নেওয়া হচ্ছে না। বর্তমানে সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। এসব কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫