স্টাফ রিপোর্টার:
নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ নিশ্চিত করতে পশুখাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচ কমিয়ে প্রান্তিক খামারিদের টিকিয়ে রাখতে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ প্রদান এবং সব খামারিকে ‘কৃষক কার্ড’—এর আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় গাজীপুর মহানগরীরে পিটিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ‘নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০ বাস্তবায়ন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদারকরণ’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনের প্রথম শর্তই হলো প্রাণীকে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য খাওয়ানো। ফিড মানসম্মত হলে প্রাণী সুস্থ থাকবে এবং সেখান থেকেই নিরাপদ মাংস, ডিম ও দুধ পাওয়া সম্ভব হবে। তাই জনগণের নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ নিশ্চিত করতে ফিডের মান নিয়ন্ত্রণে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। পাশাপাশি খামার ব্যবস্থাপনায় অযথা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করা এবং উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
উৎপাদন খরচ কমানোর তাগিদ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিল্প ও খামারে অপচয় কমিয়ে উৎপাদন ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে, যা উৎপাদক ও ভোক্তা উভয়ের জন্যই লাভজনক পরিবেশ তৈরি করবে। এ ছাড়া দেশের বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার পাশাপাশি যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে কঠোর আইনি অবস্থান নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
কর্মশালার উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে জেলার প্রান্তিক খামারিরা তাঁদের নানা সংকটের কথা তুলে ধরেন। খামারিরা অভিযোগ করেন, উৎপাদিত পণ্যের মূল্য নির্ধারণে তাঁদের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় তাঁরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত গরমে সময়মতো বিদ্যুৎ না পাওয়া এবং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের তুলনায় প্রান্তিক খামারিদের কম ওজনের মুরগির বাচ্চা দেওয়ার বৈষম্য দূর করার দাবি জানান তাঁরা।
খামারিদের অভিযোগের জবাবে খাদ্যের নিরাপত্তা ও মূল্য সাধারণ ভোক্তার নাগালের মধ্যে রাখতে সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি জানান, এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সম্প্রসারণ পরিচালক ড. বেগম শামছুন নাহার আহম্মদ এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গাজীপুরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. হারুন অর রশিদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, মানসম্মত ফিড নিশ্চিত করা গেলে দেশে পোল্টি্র ও মাংস খাতে বিপুল উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শাহজামান খান খামারিদের বাস্তব সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নূরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহজাহান খান, গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন পিপিএম (বার)সহ জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা ও খামারি প্রতিনিধিরা।
