Skip to content

টংঙ্গীবাড়ীতে অভিযান—জরিমানাতেও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ ড্রেজার

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের টংঙ্গীবাড়ীতে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও কৃষিজমি ভরাটের অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। একের পর এক অভিযান, অর্থদণ্ড এবং ড্রেজার মেশিন ও পাইপলাইন বিনষ্ট করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ উঠছে।

এতে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান সত্ত্বেও কেন অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না? সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, উপজেলার আমতলী, বলই, বালিগাঁও, আউটশাহী, বেতকা, ধীপুর, কাঠাদিয়া—শিমুলিয়া, মূলচর ও হাসাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার দিয়ে জমি ভরাটের অভিযোগে অভিযান চালানো হয়েছে। কোথাও ড্রেজারের পাইপলাইন বিচ্ছিন্ন ও বিনষ্ট করা হয়েছে, কোথাও আবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। তবু বিভিন্ন এলাকায় বালু দিয়ে জমি ভরাটের অভিযোগ সামনে আসছে। সর্বশেষ গত ২১ অক্টোবর হাসাইল ও কে—শিমুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে ড্রেজার স্থাপন করে বালু ভরাটের মাধ্যমে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে থাকা ড্রেজার মেশিন ও পাইপ বিনষ্ট করে অপসারণ করা হয়। এর আগে ১৩ অক্টোবর কাঠাদিয়া—শিমুলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম আলদী ও মূলচর ইউনিয়নের নিতিরা এলাকার বাঘবাড়ি মাদ্রাসাসংলগ্ন স্থানে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। সেখানে ড্রেজার মেশিন ও পাইপলাইন পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে সেগুলো বিনষ্ট করে অপসারণ করা হয়। এ ছাড়া ৪ অক্টোবর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি মামলায় তিনজনকে মোট দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয় বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেও আমতলী, বলই ও বালিগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি ড্রেজারের পাইপলাইন বিচ্ছিন্ন এবং একজনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার খবর পাওয়া যায়। অর্থাৎ, অল্প সময়ের ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক দফায় অভিযান পরিচালনা এবং আর্থিক জরিমানার ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব অভিযান—পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সমন্বিত ও হালনাগাদ সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।

কৃষিজমি ভরাট নিয়ে উদ্বেগ
টংঙ্গীবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার ও বাল্কহেড ব্যবহার করে বালু এনে কৃষিজমি ভরাটের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের আশঙ্কা, ফসল উৎপাদনযোগ্য জমিতে অপরিকল্পিতভাবে বালু ফেলা হলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন কমে যেতে পারে। পাশাপাশি খাল ও জলাধারের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে জলাবদ্ধতা এবং পরিবেশগত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

গত ৭ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উপজেলার সিদ্ধেশ্বরী বাজারের মাছঘাটের পূর্ব পাশে সরকারি খাল থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে বাল্কহেডে কৃষিজমি ভরাটের অভিযোগ প্রকাশিত হয়। সেপ্টেম্বর মাসেও মির্জানগর ট্রেনিং সেন্টার—সংলগ্ন এলাকায় ড্রেজার দিয়ে কৃষিজমি ভরাটের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। তবে এসব স্থানের বর্তমান পরিস্থিতি, সংশ্লিষ্ট জমির প্রকৃত শ্রেণি, বালু উত্তোলনের অনুমোদন এবং জমি ভরাটের বৈধতা সরেজমিনে ও সরকারি নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

জরিমানা হচ্ছে, কিন্তু বন্ধ হচ্ছে কি?
প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানা অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অভিযান শেষে একই স্থানে বা অন্য এলাকায় পুনরায় ড্রেজার বসানো হচ্ছে কি না, সেটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা না হলে দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ কঠিন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে শুধু যন্ত্রপাতি অপসারণ বা অর্থদণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের উৎস, পরিবহনব্যবস্থা, জমি ভরাটের উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট অনুমোদনের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমি ও জলাধার রক্ষায় কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।
টংঙ্গীবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজোয়ানা চৌধুরী ২১ অক্টোবরের অভিযানের পর জানিয়েছিলেন, অবৈধভাবে ড্রেজার স্থাপন করে বালু ভরাটের মাধ্যমে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

স্থায়ী সমাধানের দাবি
স্থানীয় পর্যায়ে ড্রেজার দিয়ে কৃষিজমি ভরাট ও বালু উত্তোলনের অভিযোগের স্থায়ী সমাধানে নিয়মিত নজরদারি, অভিযোগের দ্রুত তদন্ত এবং অভিযান—পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে, সেসব স্থানে পুনরায় অবৈধ কার্যক্রম শুরু হয়েছে কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। কৃষিজমি, নদী ও খাল রক্ষায় প্রশাসনের চলমান উদ্যোগ কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নির্ধারণে প্রয়োজন নিয়মিত তথ্য প্রকাশ এবং মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ। অন্যথায় বারবার অভিযান ও জরিমানার পরও একই অভিযোগ ফিরে আসতে পারে। টংঙ্গীবাড়ী কৃষিজমি ও জলাধার রক্ষায় এখন বড় প্রশ্নÑঅভিযান ও জরিমানার পাশাপাশি অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যাবে কি না।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫