Skip to content

সাত প্রাইভেট মেডিকেল কলেজের অনুমতির জন্য বেদম দৌড়ঝাঁপ

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অনুমোদন পাওয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যে ধরনের দৌড়ঝাঁপ চলছে তাকে দম বন্ধ করে দৌড়ঝাঁপ দেয়ার সঙ্গে তুলনা করছেন অনেকে। সরকারের শেষ মুহূর্তে আরও ৭টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমতির জন্য জোর তদবির চলছে। সূত্রগুলো বলছে, নির্বিচারে নতুন কলেজ অনুমোদনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কর্মকর্তা। এ কারণে মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক ডাকা হচ্ছে না। তাতে কী! উদ্যোক্তাদের আবেদনের ফাইল চালাচালি করে অনুমোদনের আয়োজন চূড়ান্ত হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

৩০ সেপ্টেম্বর একসঙ্গে ১১টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অনুমোদন দিয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ওই দিন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আফম রুহুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অনুমোদন চূড়ান্ত করা হয়। অক্টোবর পর্যন্ত এ সরকারের আমলে অনুমোদন পাওয়া কলেজের সংখ্যা ২৫টি। এসব কলেজে শিক্ষকতা করবেন কারা, ল্যাব সুবিধাসহ শিক্ষার্থীদের হাতেকলমে প্রশিক্ষণে ন্যূনতম প্রস্তুতি আছে কিনা তা যাচাই করতে দায়সারা পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন দিয়ে ফেলেছে সংশ্লিষ্ট কমিটি। টাকা খেয়ে ইতিবাচক প্রতিবেদন দেয়ার অভিযোগ আছে কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে। কমিটির একাধিক সদস্য বলেছেন, ‘উপরমহল’ থেকে চাপ ছিল। জানা গেছে, ওই রেশ না কাটতেই আরও কলেজ অনুমোদন দিতে যাচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। অবশ্য নতুন কলেজের অনুমোদনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন স্বাস্থ্য সচিব এমএম নিয়াজ উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আবেদন তো অনেকেই করেছেন। এটা দোষের কিছু নয়। আবেদনগুলো খতিয়ে দেখা হবে।’ পর্যবেক্ষণ মতে, সবক’টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অনুমোদনের নেপথ্যে টাকার খেলা চলছে। কলেজ অনুমোদন পেতে মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট শাখায় কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেন হয়। এই টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন সংশ্লিষ্টরা। রাজধানীতে একটি কলেজ অনুমোদনে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা ঘুষ নিয়েছেন ৫০ লাখ টাকা। আরও দুটি কলেজ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রায় ৪০ লাখ টাকা নেয়ার অভিযোগ অফিসে জমা পড়েছে। এ নিয়ে আরও দ্ব্যর্থহীন তথ্য সংগ্রহে অনুসন্ধান অব্যাহত আছে।

সাত কলেজ: সূত্র বলছে, শেষ মুহূর্তে কমপক্ষে ৭টি কলেজ অনুমোদন করাতে যারা তদবির করছেন তাদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা, এমপি, সরকারি আমলা এবং স্বাচিপ ও বিএমএ নেতারা রয়েছেন। শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসক নেতা ও ঢাকা-৭ আসনের এমপি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন একটি, আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ডাবলু একটি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক স্বাচিপ নেতা একটি কলেজের অনুমোদন পেতে আবেদন করেছেন। এ জন্য তারা মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরে তদবির করে চলেছেন। দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, আরও ৪টি মেডিকেল কলেজ অনুমোদনের তোড়জোড় চলছে। স্বাস্থ্য সচিব এমএম নিয়াজ উদ্দিন এটা চান। কোনোটিতে তিনি উদ্যোক্তাদের একজন, আবার কোনোটিতে জোরালো সুপারিশ করছেন তিনি। আরও বেশ কিছু আবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা আছে। তবে অনুমোদনের দৌড়ে এই ৭টি আবেদন এগিয়ে আছে। ডা. বদিউজ্জামান ডাবলু বলেন, একটি মেডিকেল কলেজ চালানোর আগ্রহ আছে। তবে অনুমোদন এখনও পাইনি। চেষ্টা চলছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

নিয়মানুযায়ী সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ দেখভাল করার দায়িত্ব স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিকিৎসা-শিক্ষা শাখার। এই শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল হান্নান মেডিকেল কলেজ পরিদর্শন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছেন। অধিদফতরের পক্ষে ফোকাল পার্সন হিসেবে মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে যোগ দেন তিনি। নতুন কলেজ অনুমোদনে তোড়জোড় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন। তিনি বিস্তারিত জানেন না। ২০০৮ সাল পর্যন্ত দেশে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ছিল ৪০টি। ২০১০ সাল থেকে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সরকার অনুমোদন দিয়েছে ২৫টি। নতুন ৭টি যোগ হলে বেসরকারি খাতে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ৭২টি-তে দাঁড়াবে। বেসরকারি খাতে মেডিকেল কলেজ অনুমোদনের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রথম সারির এক কর্মকর্তা বলেন, মেডিকেল কলেজ একটি বিশেষায়িত শিক্ষা কেন্দ্র। জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয় সরাসরি জড়িত থাকায় এখানে কঠোরভাবে মাননিয়ন্ত্রণ একান্তভাবে কাম্য। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শুধুই টাকার খেলা হচ্ছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে- বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়ে মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরে গেলাম, টাকা ছিটালাম, ব্যাস, মেডিকেল কলেজ অনুমোদন করিয়ে নিয়ে এলাম। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাগজপত্রে দেখা যায়, ২০১০ সালে ৩টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অনুমোদন পেয়েছিল। ২০১১ সালে ৫টি, ২০১২ সালে ৫টি এবং ২০১৩ সালের শুরুতে অনুমোদন পায় ১টি কলেজ। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ১১টিসহ সরকারের শেষ বছরে ইতিমধ্যেই ১২টি কলেজের অনুমোদন হয়েছে। নতুন ৭টি পেলে এক বছরে অনুমোদিত কলেজের সংখ্যা ১৯টি-তে দাঁড়াবে।

বিদেশী শিক্ষার্থীর কোটা নিয়েও বাণিজ্য: বেসরকারি মেডিকেল কলেজে বিদেশী শিক্ষার্থীর কোটা নিয়ে বাণিজ্যের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করে দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এতদিন পর্যন্ত মোট আসনের ২৫ শতাংশ বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তি করানো যেত। ১০ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কোটা ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এর মাধ্যমে শিক্ষা নয় বরং ব্যবসার সুযোগ বাড়ল। এই সিদ্ধান্ত উদ্যোক্তাদের পেট ভরাবে। জানা গেছে, শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি কলেজ ছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে এই কোটা পূরণ করা সহজ হয় না। ফলে শূণ্য থেকে যাওয়া কোটায় বিদেশী শিক্ষার্থীর সমপরিমাণ টাকা নিয়ে উদ্যোক্তারা স্থানীয় ছাত্রছাত্রী ভর্তি করিয়ে নেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের কোনো মনিটরিং নেই। বিদেশী শিক্ষার্থীর কোটা নিয়ে আরও কয়েক ধরনের বাণিজ্যের মুখরোচক কথা চালু আছে। সূত্রগুলো বলছে, কোটা বাড়াতে মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরে ব্যাপকহারে টাকা ঢেলেছেন বেসরকারি মেডিকেল কলেজ এসোসিয়েশনের নেতারা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫