স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও বিগত এক বছরে পদোন্নতি পাননি পুলিশের ৬১৭ সদস্য। গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকাসহ সারা দেশে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও উপপরিদর্শক (এসআই) পদে পরীক্ষা হয়। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তাদের পদোন্নতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু না হলে বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা বলেছেন, ইসির অনুমতির পর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ইতিবাচক পদক্ষেপ না হলে তাদের আবার পরীক্ষা দিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে তারা উৎকণ্ঠায় আছেন। পদোন্নতি না হলে অনেকে চাকরি ছেড়ে দেয়ারও হুমকি দিয়েছেন।
এদিকে শেষ মুহূর্তে এসে পদোন্নতির প্রক্রিয়াটি আটকে গেছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তের ওপর। কেননা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশে বদলি, পদায়ন, পদোন্নতির মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার এখন ইসির। ইসি ইতিমধ্যে এ বিষয়ে সদরদপ্তরের আবেদন গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। তবে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত সদরদপ্তরে ইসি থেকে এ সংক্রান্ত কোনো বার্তা পৌঁছায়নি।
নির্বাচন কমিশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশের ৬১৭ পদে পদোন্নতির অনুমতি চেয়ে গত সোমবার পুলিশ সদরদপ্তর ইসিতে আবেদন করে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ইসির বৈঠকে আবেদনটি অনুমোদন পায়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ। তবে খোজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুলিশ সদর দপ্তরে কোনো বার্তা পৌঁছায়নি।
এ ব্যাপারে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) এ কে এম শহীদুল হক শুক্রবার বলেন, ‘আমরা পদোন্নতি দেয়ার চেষ্টা করছি। নির্বাচন কমিশনের অনুমতি পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি।’
পুলিশ সদরদপ্তর সূত্র জানায়, ২০১২ সালের ডিসেম্বরে সারা দেশে একযোগে কনস্টেবল থেকে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও এএসআই থেকে উপপরিদর্শক (এসআই) পদে পদোন্নতি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় ৬১৭ জন উত্তীর্ণ হন। এ সংক্রান্ত পরিপত্রে উল্লেখ রয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তীর্ণদের পদোন্নতি দিতে হবে। নির্ধারিত তারিখের মধ্যে এই আদেশ কার্যকর না করা হলে উত্তীর্ণদের পুনরায় পরীক্ষা দিতে হবে।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, বছরের শেষ দিকে এই পদোন্নতির প্রক্রিয়া চলছিল। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই বেকায়দায় পড়ে যায় পুলিশ সদরদপ্তর। উত্তীর্ণদের পদোন্নতি দিতে সর্বশেষ গত ২৩ ডিসেম্বর ইসির কাছে আবেদন করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, মানবিক কারণে তাদের পদোন্নতি দিতে হবে। তারা মেধা ও শ্রম দিয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। আর পদোন্নতি না পেলে অনেকের মধ্যে হতাশা নেমে আসবে। আবার পরীক্ষা নিয়ে ফল প্রকাশে অনেক সময় ও টাকা ব্যয় হবে।
আবেদনপত্র পেয়ে নির্বাচন কমিশনও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্র।
পরীক্ষায় উত্তীর্ণ একাধিক পুলিশ সদস্য কাছে অভিযোগ করেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ও পরে র্যাবের দুটি ব্যাটালিয়ন, নৌ ও টুরিস্ট পুলিশ ইউনিট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অথচ এক বছর আগে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তাদের পদোন্নতি দেয়া হয়নি। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পদোন্নতি না দিলে অনেকেই চাকরি ছেড়ে দেবেন।
কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কমিশন অনুমতি দিলে আমরা দ্রুত পদোন্নতি চাই। আমরা তো রাজনীতি করি না। তাহলে আমরা কেন বৈষম্যের শিকার হবো?’
