স্পোর্টস ডেস্ক ॥ বেশ কয়েক বছর ধরেই সাফল্যখরায় ভুগছে মোহামেডান। প্রিমিয়ার লিগে সবশেষ শিরোপার স্মৃতিতে জমেছে এক যুগের ধুলো। পেশাদার লিগ শুরুর পর ট্রফিটি একবারও আসেনি সাদা-কালোদের তাঁবুতে। সেই অধরা শিরোপার সন্ধানেই পর্তুগিজ ফুটবল তারকা লুই ফিগোর বন্ধুকেই কোচ করে এনেছে মোহামেডান। পর্তুগিজ ভদ্রলোকের নামে অবশ্য বিখ্যাত বেশ কয়েকজনেরই সম্মিলন! রুই কস্তা, ফ্যাবিও ক্যাপেলো, হোসে মরিনহো ও আর্জেন্টাইন সাবেক কোচ সার্জিও বাতিস্তা- এঁদের সবার নামের কিছু কিছু অংশ নিয়ে মোহামেডানের অষ্টম বিদেশি কোচের নাম রুই হোসে ক্যাপেলা বাতিস্তা। লিসবন থেকে তুরস্ক হয়ে দীর্ঘ তিন দিনের বিমানযাত্রা শেষে গতকাল সকালে ঢাকায় পা রাখা এ পর্তুগিজ নিজেকে দাবি করছেন লুই ফিগোর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে।
দীর্ঘ বিমানযাত্রার ধকল ও ইংরেজিতে দুর্বলতা- এ দুই কারণ দেখিয়ে মোহামেডান ক্লাবের কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম ও লোকমান হোসেন ভুঁইয়া খুব বেশি আলাপচারিতার সুযোগ দেননি সংবাদ সম্মেলনে। মোহামেডান ক্লাব সূত্রে পাওয়া জীবনবৃত্তান্ত ও ইন্টারনেটে সুলুক সন্ধান করে ৪৪ বছর বয়সী রুই ক্যাপেলা সম্পর্কে যেসব তথ্য পাওয়া যায়, তা থেকে অবশ্য খানিকটা আশাবাদী হওয়া যেতেই পারে। খেলোয়াড়ি জীবনে রুই ক্যাপেলা ছিলেন মিডফিল্ডার, বেশির ভাগ সময়ই খেলেছেন পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবলে। কিশোর ফুটবলার হিসেবে অবশ্য প্রতিভাবান হিসেবেই দেখা হয়েছিল রুই ক্যাপেলাকে, ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত সময়ে পর্তুগালের অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৮ দলে খেলেছিলেন মোহামেডানের সদ্য নিযুক্ত কোচ। যেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন পর্তুগালের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক ভিতর বাইয়া। ১৯৮৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ ইউরোতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পর্তুগাল, যে দলে ছিলেন ফিগো। খুব সম্ভবত বয়সভিত্তিক ফুটবল খেলার সময়ই ফিগোর সঙ্গে রুই ক্যাপেলার সৌহার্দ্যের সূত্রপাত, ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে তিনি ফিগো প্রসঙ্গে যা বোঝাতে চাইলেন, ‘ফিগো…হ্যাঁ…আমার বন্ধু। আমাদের যোগাযোগ আছে, ফোনে কথা হয় বেশ।’ তবে পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে কোনো যোগসূত্রই নেই তাঁর, ‘রোনালদো, সে তো বিশ্বনাগরিক। তাঁর সঙ্গে কোনো পরিচয় নেই আমার।’
রুই ক্যাপেলার কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা অবশ্য অনেক। পর্তুগাল ও প্যারাগুয়ে- দুই দেশেই বিভিন্ন ক্লাবে কোচিং করিয়েছেন তিনি। সবশেষ দায়িত্ব পালন করেছেন (২০১১-২০১২) প্যারাগুয়ের থ্রি ডিই ফ্যাব্রেরো ক্লাবে। একসময় প্রথম বিভাগে খেললেও ২০১১-তে দলটি নেমে গেছে দ্বিতীয় বিভাগে। এ ছাড়া পর্তুগালের ক্লাব পোর্তোমুনেস, লাগোয়া ও লাগোসের কোচের দায়িত্বে ছিলেন রুই ক্যাপেলা। তবে তাঁর ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে স্কাউট হিসেবে পর্তুগালের দুটি বড় দল, বেনফিকা ও পোর্তোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা। ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বেনফিকার দক্ষিণ পর্তুগাল অঞ্চলের স্কাউটিং ম্যানেজার ছিলেন তিনি, ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত একই পদে কাজ করেছেন পর্তুগালের সবশেষ চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী ক্লাব পোর্তোর হয়ে। যে ক্লাবে একসময় কোচিং করিয়েছেন হোসে মরিনহো ও আন্দ্রে ভিলাস বোয়াস।
ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকায় লম্বা সময় কাটানোয় ইংরেজিতে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্য নন রুই ক্যাপেলা। তবুও সংবাদ সম্মেলনে ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে জানিয়েছেন মোহামেডানের কোচ হিসেবে নিজের লক্ষ্যের কথা, ‘অবশ্যই জিততে চাই, তবে আগে চাই ভালো ফুটবল খেলাতে। আমি আক্রমণাত্মক ফুটবলে বিশ্বাসী, ছকটা হবে ৪-৩-৩।’ প্রিয় কোচের তালিকায় স্বদেশি মরিনহো যেমন আছেন, তেমনি ভালো লাগে পেপ গার্দিওলার কৌশলও। নিজে ইউরোপিয়ান হলেও ফুটবলে লাতিন ঘরানাটাই তাঁর পছন্দ আর বাংলাদেশে এসেছেন নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজে। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার পর এশিয়ার ফুটবল মানচিত্রেও ছাপ রাখতে চাইছেন এ পর্তুগিজ। ক্লাব কর্মকর্তাদের কাছেই শোনা গেছে, ভারতের আই লিগের অন্যতম সফল ক্লাব চার্চিল ব্রাদার্সের সঙ্গেও কথাবার্তা অনেক দূর এগিয়েছিল রুই ক্যাপেলার। অর্থাৎ তৃতীয় আরেকটি মহাদেশে কোচিং করিয়ে জীবনবৃত্তান্তটি আরো সমৃদ্ধ করার ইচ্ছা ছিল রুই ক্যাপেলার, মোহামেডানের প্রস্তাবটি অধিকতর মনঃপুত হওয়াতেই গোয়ার ফ্লাইট না ধরে তাঁর ঢাকায় আগমন। মোহামেডানের সঙ্গে আপাতত ছয় মাসের চুক্তি করছেন রুই ক্যাপেলা, পারিশ্রমিকের অঙ্কটা কেউ খোলাসা করে না বললেও আবছাভাবে জানা গেছে, সেটা মাসে আড়াই থেকে তিন হাজার ডলারের মধ্যে।
