রায়হান পারভেজ
জেলা প্রতিনিধি ॥
লালমনিরহাট: কালীগঞ্জ উপজেলার বানীনগর এলাকায় দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক কিশোরী। এ ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে রকি নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত রকি কালীগঞ্জ উপজেলার তালুক বানিনগর গ্রামের রজব আলীর পুত্র। এক রাতে অন্তত সাতজন ধর্ষণ করেছে বলে জানায় ভুক্তভোগী ওই কিশোরী। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বানীনগর এলাকায় ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে।
নির্যাতিতা কিশোরী জানায়, সে মঙ্গলবার বিকেলে ট্রেনে পাটগ্রাম থেকে এসে কালীগঞ্জের কাকিনা রেল স্টেশনে হালকা খাবারের জন্য নামলে ট্রেনটি ছেড়ে দেয়। পরে রকি নামের এক যুবক তাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়ার কথা বলে একটি অটোরিকশায় উঠায়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরায়। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে রাতে একটি সেচপাম্পের ঘরে নিয়ে রকি তাকে ধর্ষণ করে। এরপর পর্যায়ক্রমে কয়েকটি জায়গায় রকির পরিচিত একাধিক ব্যক্তি ধর্ষণ করে ভোরের দিকে তাকে একটি ট্রাকে উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। সকালে ঘটনা জানাজানি হলে খোঁজ নিয়ে রকির বাড়িতে বিচার নিয়ে গেলে বাবা-মায়ের সামনে উল্টো মারধরের শিকার হন। এরপর সেখান থেকে স্টেশন এলাকার একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন।
এ ঘটনার পর থেকে মেয়েটি কান্নাকাটি শুরু করলে ওই এলাকায় সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে অভিযুক্তদের কাছ থেকে আদায় করা জরিমানাও মেয়েটিকে না দিয়ে সেখান থেকে তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সঠিক বিচার চেয়ে শুক্রবার কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবে গিয়ে ঘটনাটি সাংবাদিকদের জানান।
প্রেসক্লাব থেকে উদ্ধার করে ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে চিকিৎসার জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পাঠায় কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে কালীগঞ্জ থানায় বাদি হয়ে মামলা করে ওই কিশোরী। মামলায় সাত ধর্ষকসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করেন। ওই কিশোরীর বাড়ি পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) ফরহাদ হোসেন মন্ডল জানান, ধর্ষণের শিকার কিশোরী ও গ্রেপ্তারকৃত রকিও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের সাথে তিনিসহ সরাসরি জড়িত সাতজনের নাম প্রকাশ করেছে। এদিকে মামলায় সালিশকারী হিসাবে বাণীনগর এলাকার রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা সোলায়মান আলী, তুষভান্ডার ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলাম এবং স্থানীয় একটি অনলাইন পত্রিকার সম্পাদককে আসামি করা হয়েছে। মামলায় সালিশকারী হিসাবে অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
