Skip to content

মাজহারুল, তারিকুলদের ভয়ংকর সিন্ডিকেট

নিজস্ব প্রতিবেদক
গাজীপুরের কাশিমপুর থানার আশপাশে নানা অনিয়ম ও অবৈধ সুবিধা আদায়ে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছেন কাশিমপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম প্রতীক এবং তার সহোদর ভাই কাশিমপুর প্রেসক্লাবের কার্যকরী সদস্য তারিকুল জুয়েল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ভাইয়ের সিন্ডিকেটটি থানার মামলা-মোকদ্দমা সংক্রান্ত সেবা, জমি ও কারখানার দখল সুবিধা আদায়ে নিজেদের ব্যবসা চালাচ্ছে, যেখানে তথাকথিত সাংবাদিকতার আড়ালে চলছে তথ্য বাণিজ্য।
কাশিমপুরের এই সিন্ডিকেট স্থানীয় সাংবাদিক কার্যালয় স্থাপন করে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ পরিবেশন, ভয়ভীতি দেখানো এবং প্রভাব বিস্তার করার কাজ করে। এর মাধ্যমে তারা সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া প্রতিবেদন তৈরি করে চাঁদাবাজি এবং দালালির কাজে লিপ্ত। নারী কেলেঙ্কারিতেও জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে এই সিন্ডিকেটের শীর্ষ ব্যক্তি মাজহারুল ইসলাম প্রতীকের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ: কাশিমপুর ভূমি অফিসের নায়েব আব্দুল লতিফ মিয়া অভিযোগ করেছেন যে, সাংবাদিক পরিচয়ধারী কিছু ব্যক্তি তাঁর কাছে ৪ হাজার টাকা দাবি করে ব্যর্থ হয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেন, যা ভূমি অফিসের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে ছিল।
সচেতন মহলের প্রতিক্রিয়া: এ ব্যাপারে স্থানীয় বিশ্লেষক এবং সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, এই ধরনের তথাকথিত সাংবাদিকতা প্রকৃত সাংবাদিকতার আদর্শকে পদদলিত করছে। জনগণের আস্থা এবং প্রশাসনের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা দাবি করেছেন, এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
কাশিমপুর সিন্ডিকেটের মূল সদস্যরা:
মাজহারুল ইসলাম প্রতীক: কাশিমপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, জমি দখল এবং তথ্য বাণিজ্যের মূল হোতা।
তারিকুল জুয়েল: কাশিমপুর প্রেসক্লাবের কার্যকরী সদস্য, মোহনা টেলিভিশনের গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি এবং সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান সদস্য।
রায়হান ইসলাম: মাজহারুল প্রতীকের ভাতিজা, পেশায় টাইলস মিস্ত্রি, রূপবানী পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার পরিচয়ে সিন্ডিকেটে যুক্ত।
ফয়সাল: কাশিমপুর প্রেসক্লাবের প্রচার সম্পাদক, ভুয়া একাত্তর টেলিভিশনের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত।
আবু সালেহ চৌধুরী: মাজহারুল প্রতীকের শ্যালক, মাতৃভূমি পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার পরিচয়ে সিন্ডিকেটে যোগ দেন।
মাসুদ রানা: কাশিমপুর প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক, নয়াদিগন্তের সাংবাদিক পরিচয়ে সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য।
আব্দুল কুদ্দুস: কাশিমপুর প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক, রাজধানী টেলিভিশনের গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি।
মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ: কাশিমপুর ভূমি অফিসের নায়েব আব্দুল লতিফ মিয়া জানিয়েছেন, ২০ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে তিনি আনন্দ টিভি এবং সময়ের কন্ঠস্বর পত্রিকার প্রতিনিধির বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ করেন। এই সাংবাদিকরা ৪ হাজার টাকা দাবি করে ব্যর্থ হলে মিথ্যা ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে কাশিমপুর ভূমি অফিসের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করেন। তিনি আইনগত সহায়তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
শেষ কথা: এ ঘটনা প্রমাণ করছে যে, তথাকথিত সাংবাদিকতা এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম একে অপরকে সমর্থন করছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং প্রশাসনের উপর আস্থা হারানো হচ্ছে। সচেতন মহল এখন আশা করছে, এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সত্যিকারের সাংবাদিকতা আবার প্রতিষ্ঠিত হবে ।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫