নুর আলম সিদ্দিকী মানু :
ঢাকা জেলা সাভারের আশুলিয়ায় পলাতক আওয়ামী লীগ নেতার ছোট ভাই রুবেল মন্ডল (৩৫) কে প্রকাশ্যে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার বড় ভাইয়ের ব্যবসা ও মৎস্য খামার দখলের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
বুধবার (৭ মে) দুপুরে আশুলিয়া ইউনিয়নের পাড়াগ্রাম দেউন এলাকার একটি মাছের খামারের পাশ থেকে রুবেল মন্ডলের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গভীর জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিহতের পাশেই পড়ে ছিল তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল।
রুবেল মন্ডল আশুলিয়ার পাড়াগ্রাম দক্ষিণ পাড়া এলাকার মো. নায়েব আলী মন্ডলের ছেলে। তিনি আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন মন্ডলের ছোট ভাই। এলাকাবাসী জানান, গত বছরের আগস্ট মাসে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে রুহুল আমিন মন্ডল এলাকা ছাড়েন এবং আত্মগোপনে চলে যান। এরপর থেকে তার ব্যবসা ও মৎস্য খামারের দেখভাল করতেন রুবেল মন্ডল। তারই সূত্র ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিহতের বড় ভাই আলমগীর মন্ডল জানান, সকালে আব্বাস মন্ডলের ছেলে শান্ত (৩০), মৃত আশক আলীর ছেলে কুদ্দুস মন্ডল ও তার ভাই আমজাদ মন্ডল রুবেলকে বাসা থেকে ডেকে নেয়। এর আগে শান্ত, মুনসুর, আকবর, কুদ্দুস, আমজাদ, জাহিদুল, জাকির হোসেন ও আলাউদ্দিন তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। দুই দিন আগেও তারা খামার থেকে জোরপূর্বক মাছ ধরে নিয়ে যায়।
আলমগীর আরও জানান, সকালে দোকানে যাওয়ার সময় অভিযুক্তদের এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন। তাদের হাতে একটি বাজারের ব্যাগ ছিল, যেখানে চাপাতি বা ছোরা থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, “ওরা সবাই এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি করে। সাবেক বিএনপি চেয়ারম্যান হুমায়ুনের নাম ব্যবহার করে কারখানাগুলো থেকে চাঁদা তোলে।”
স্থানীয়রা জানান, রুবেল মন্ডল সকালে এলাকায় ঘুরছিলেন, কিন্তু দুপুরে তার মরদেহ খামারের পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ধারনা করা হচ্ছে, ব্যবসা দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের জেরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন বলেন, “মরদেহটি উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।” এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি এবং কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। নিহতের পরিবার দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
