বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, সংঘাত-সহিংসতার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় ধাপের ৬৩৯টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এই ধাপে সহিংসতায় শিশুসহ কমপক্ষে ৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের সন্দীপে তিনজন, কেরানীগঞ্জে এক শিশু এবং যশোর সদর, জামালপুরের মেলান্দহ ও নাটোরের লালপুর উপজেলায় একজন করে নিহত হয়েছে। এইধাপে বিভিন্ন স্থানে আহত হয়েছে পাঁচ শতাধিক।
বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নির্বাচন কমিশন (ইসি) ৩৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে। এর মধ্যে যশোর ও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ৭টি করে কেন্দ্র, চাঁদপুর সদরে ৬টি, মাদারীপুর সদরে ৩টি, জামালপুরের মেলান্দহ, কুমিল্লার বরুড়া, হাইমচর ও কবিরহাটে ২টি করে এবং সিরাজগঞ্জ ও বাজিতপুরে একটি করে কেন্দ্র স্থগিত করা হয়েছে।
ভোট কারচুপিতে সহযোগিতার অভিযোগে যশোরে ২ জন প্রিজাইডিং অফিসার ও একজন সহকারি প্রিজাইডিং অফিসারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শেরপুরের শ্রীবরদীতে প্রিজাইডিং অফিসারকে উদ্ধার করতে গিয়ে আহত হয়েছেন ইউএনও হাবিবা শারমিন।
এদিকে প্রথম ধাপের তফসিল ঘোষণা থেকে গত দেড় মাসে নির্বাচনী সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন ভোটকে কেন্দ্র করে। প্রথম ধাপে আগে-পরে অন্তত ২৪ জন মারা গেলেও দ্বিতীয় ধাপে ভোটের সময়ই ছয়জন মারা যান। এছাড়া ভোটের আগে আরো তিন মারা যান।
প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগে ছয়টি জেলাতেই ইউপি নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সন্দ্বীপে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত হয়েছে। এ বিভাগে সংঘর্ষ-হামলায় অন্তত ১২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহত হয়েছে দেড় শতাধিক। অন্তত ১০টি কেন্দে ভোট স্থগিত করা হয়। সব জেলাতেই বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ভোট বর্জন করেন।
খুলনা বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে চারটির ইউপি নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। যশোরে পুলিশের গুলিতে একজন নিহত হয়েছে। আর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে একজন এএসআইকে ক্লোজ করা হয়। ৬টি কেন্দে র ভোট স্থগিত করা হয়। এ বিভাগে সংঘর্ষে অন্তত ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহত হয়েছে শতাধিক।
ঢাকা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত বেশিরভাগ ইউপিতে কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, জালভোট ও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকার কেরানীগঞ্জে ও জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় সহিংসতায় এক শিশুসহ অন্তত দুই জন নিহত হয়েছে। এছাড়া কয়েক শ’ মানুষ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকদের সংঘর্ষ চলাকালে আহত হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগে ব্যালট ছিনতাই ও প্রিজাইডিং অফিসারকে মারধর, কেন্দ দখলের মধ্য দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় সংঘর্ষে ১৯ জন আহত হয়েছে। নাটোরের লালপুর উপজেলায় একজন নিহত হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় ৬ জনকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া ভোট কেন্দ্রে ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করায় একজনকে ৬ মাসের কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদিকে সুনামগঞ্জের খুরমা ইউনিয়নের ধনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
ব্যালট পেপার ছিনতাই, প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীর সমর্থদের মধ্যে সংঘর্ষ ও জাল ভোট প্রদানের মধ্য দিয়ে রংপুর ও বরিশাল বিভাগের বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনায় আহত হয়েছে প্রায় ৫০ জন। এদের অধিকাংশকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ভোলার আব্দুল্লাহপুরে জাল ভোট প্রদান করায় দু’জনকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
