Skip to content

নির্বাচনী চাওয়া পাওয়ায় আ.লীগ-বিএনপির ঐক্য

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন এখনো বিতর্ক রেখেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে। সরকার দলীয় পক্ষ দিনটিকে বরাবরই গণতন্ত্র মুক্ত দিবস হিসেবে পালন করলেও গ্লানিমুক্ত হতে ও বিতর্ক এড়াতে পারেনি। আর বিরোধী পক্ষ বিএনপি জোট ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিসব হিসেবে পালন করার ঘোষণা দিয়েও সে লক্ষ্যে মাঠেই নামতে পারেনি। পায়নি সমাবেশেরও কোনো অনুমোতি। এর ফলাফল অনেকটা বিএনপি জোটের বিগত আন্দোলনের মতই। এখন পর্যন্ত দলটি তাদের নির্বাচনী অধিকার আদায়ের কোনো আন্দোলনেই সফল হতে না পারায় নজুকই রয়ে গেছে। এর পরেও তারা সামনে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশি। গ্লানি এড়াতে এবার আওয়ামী লীগেরও টার্গেট সর্বসাকূল্যের কাছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।

সরকার বিরোধী আন্দোলন বিষয়ে বিএনপির বিগত ইতিহাস শুধুই গ্লানিময়। আর ক্ষমতাসীনদের গ্লানি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কীত নির্বাচন। তাই সরকার দলীয়রা এবার বিশেষ নজর দিচ্ছেন, যেভাবেই হোক একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার বিষয়ে।

থেমে নেই বিএনপি জোটের শরীকরাও। সরকারের কাছে একটি নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে আসছে তারা। তাই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে উভয় পক্ষেই।

একটি স্বচ্ছ নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের বিষয়ে সরকার দলীয়রা যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন বিষয়টিকে কিভাবে দেখছে বিএনপি- জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ আজম আমাদের অর্থনীতি ও আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের বিষয়ে আওয়ামী লীগের উদ্যোগকে প্রথমেই সাধুবাদ জানায়। বর্তমানে একটি শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের বিষয়ে দলটির নেতাকর্মীরা যে বক্তব্য দিচ্ছেন তার প্রমাণ কাজে দেখাতে হবে। তবেই সেটা হবে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।

বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, আমরা অবশ্যই একটি শান্তি পূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচন চাই। নির্বাচন শুধু শান্তিপূর্ণ হোক সেটা নয়। কারণ শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। জনগণকে ভোট কেন্দ্রে যেতে না দিয়ে, রাতের অন্ধকারে সবার অজান্তে ব্যালটবাক্স ভরে ফেলার ফলেও নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করা সম্ভব।

আহমদ আজম বলেন, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্যে সরকারকে দুটি বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। একটি গ্রহণযোগ্য কার্যকর নির্বাচন কমিশন এবং বিরোধীদের সঙ্গে সংলাপ। এই দুটি জিনিসের সমন্বয় ঘটাতে পারলেই জনগণের মতমতের প্রতিফলন হবে। সরকার যে বক্তব্য রাখছে এখন তার বাস্তবায়ন করতে হবে।

আগামীতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। সৎ, যোগ্য, দক্ষ, সাহসী ও জনপ্রিয় নেতাকে বেছে নিতে কয়েক স্তরে চলছে প্রার্থী জরিপের কাজ। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা সমান্তরালভাবে কাজ করছেন। কোন জেলায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা কেমন, কোথায় কোন নেতা বেশি জনপ্রিয়, সৎ, সাহসী ও স্থানীয় সমস্যাগুলো কী সেসব চিহ্নিত করে এসব তথ্য তুলে আনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাদের। বিশেষ করে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর বিষয়টিকে আরো গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে দলের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও সম্প্রতি একাধিকবার বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচনে বিতর্কিত কেউ দলের প্রার্থী হতে পারবে না। দল খোঁজখবর নিয়ে সৎ ও জনপ্রিয় প্রার্থীকেই সমর্থন দেবে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিককে বলেছেন, আগামীতে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই ক্ষমতায় আসতে চায় আওয়ামী লীগ। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে সৎ, যোগ্য, দক্ষ ও সাহসী রাজনীতিককেই বেছে নিয়ে মনোনয়ন দেয়া হবে।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫