Skip to content

এক বছরে ১৮ অভিযান, নিহত ৬০ > মূল উৎপাটন ছাড়া তরুণদের বিভ্রান্তির শঙ্কা থাকছেই

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলাসহ বিগত এক বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১৮ টি অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে নিহত হয়েছে কমপক্ষে ৬০ জঙ্গি। এদের মধ্যে নব্য জেএমবির শীর্ষ ১০ নেতাও রয়েছে। পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট বলছে, জেএমবির শীর্ষ নেতাদের অবর্তমানের কারণেই সংগঠনটি নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছে। এতে সংগঠনটির পক্ষে বড় কোনো হামলা চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, জঙ্গিবাদের মূল উৎপাটন করতে না পারলে তরুণদের বিভ্রান্ত করার শঙ্কা থাকছেই।

পহেলা জুলাই ২০১৬ গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার মধ্যদিয়ে নতুন ও বৃহৎ পরিসরে অস্তিত্বের জানান দেয় জঙ্গিরা। পুলিশ ও বিদেশি নাগরিকসহ নিহত হন ২২ জন। সারারাত অবরুদ্ধ রাখার পর পরদিন (২ জুলাই) হলি আটির্জান রেস্তরাঁয় চালানো হয় কমান্ডো অপারেশন থান্ডারবোল্ট। এতে নিহত হয় ৫ হামলাকারীসহ ৬ জন, উদ্ধার হন ১৩ ব্যক্তি।

গুলশান হামলার রেশ না কাটতেই ৮ জুলাই কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের পাশে আবারও হামলা করে জঙ্গিরা। হামলায় পুলিশসহ নিহত হয় ৪ জন।

শোলাকিয়া হামলার পর নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। শুরু হয় জোর অভিযান। ২৬ জুলাই কল্যাণপুরে অপারেশন স্টর্ম-টোয়েন্টি সিক্সে নিহত হয় ৯ জঙ্গি।

নরায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় একটি জঙ্গি আস্তানায় অপারেশন হিট স্ট্রং-টোয়েন্টি সেভেন নামের অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড কানাডিয়ান নাগরিক তামিম চৌধুরীসহ ৩ জঙ্গি নিহত হয়। জানা যায়, তার নেতৃত্বেই আত্মপ্রকাশ করে নব্য জেএমবি। পরে তামিমের সেকেন্ড ইন কমান্ড অবসরপ্রাপ্ত মেজর জাহিদ মারা যান রূপনগরে। আজিমপুর অভিযানে নিহত হন নব্য জেএমবির অর্থের যোগানদাতা তানভীর কাদেরী।

৮ অক্টোবর গাজীপুরে অপারেশন ‘শরতের তুফান’ এ নিহত হন নব্য জেএমবির ঢাকা বিভাগীয় কমান্ডার আকাশসহ ৭ জন। একই দিনে আশুলিয়ায় পাঁচতলা ভবন থেকে লাফ দিয়ে আহত নব্য জেএমবির আরেক শীর্ষ নেতা সারোয়ার জাহান মারা যান হাসপাতালে। আর আশকোনায় অপারেশন রিপল-টোয়েন্টি ফোরে তানভীর কাদেরীর ছেলেসহ নিহত হয় ২ জঙ্গি।

হলি আর্টিজান থেকে আশকোনা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অভিযানে নব্য জেএমবির শীর্ষ কজন নেতা নিহত হওয়ায় কোণঠাসা হয়ে পড়ে নেতৃত্ব শূন্য জঙ্গিরা।

২০১৭ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে আবারও নতুন নেতৃত্বে সংগঠিত হয় নব্য জেএমবি। এর মধ্যেই মোহাম্মদপুরে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন গুলশান হামলার অপারেশন কমান্ডার মারজানসহ ২ জঙ্গি। এরপর, জঙ্গিরা পাল্টে ফেলে হামলার ধরণ। হয়ে ওঠে আত্মঘাতী। আত্মঘাতী হামলা হয় ঢাকায় র‌্যাবের নির্মাণাধীন সদরদপ্তরে।

এরপর, আবারও জোর অভিযান শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ১৬ই মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অপারেশন অ্যাসল্ট সিক্সটিনে নিহত হয় ৪ জঙ্গি। ২৫শে মার্চ সিলেটের আতিয়া মহলে অপারেশন টোয়াইলাইটে নিহত হয় নব্য জেএমবিকে নতুনভাবে সংগঠিত করা মুসাসহ চার জঙ্গি। সবশেষ ১১ই মে রাজশাহীর গোদাগাড়িতে অপারেশন সান ডেভিলে নিহত হয় নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা সাজ্জাদসহ ৫ জন।
এ অবস্থায় নব্য জেএমবির বড় হামলার সামর্থ-মনোবল কোনটিই নেই বলে দাবি কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, জঙ্গিরা গ্রেপ্তার হলেও মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় জামিনে বেরিয়ে আসছে অনেকে। তারা তরুণদের বিভ্রান্ত করতে পারেন বলেও রয়েছে শঙ্কা।

জঙ্গি নির্মূলে সামাজিক শক্তিকে রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করার পরামর্শও দিচ্ছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। ইনডিপেন্ডেন্ট টিভি

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫