Skip to content

বিএনপি নেতার ইভিএম হ্যাক করার চ্যালেঞ্জ

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কেনা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) হ্যাক করে ভোটে হের-ফের করার চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সাল আলীম। বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে ‘ইভিএমকে না বলুন, আপনার ভোট সুরক্ষিত করুণ’ শীর্ষক সেমিনারে এই চ্যালেঞ্জ দেন তিনি।
একই কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল সেমিনারে র্যাশবেরি পিআই অপারেটিং সিস্টেমের একটি ভোটিং মেশিনে ভোট গরমিলের নমুনা দেখান। আগামী সংসদ নির্বাচনে এই অপারেটিং সিস্টেমের ইভিএম ব্যবহৃত হবে বলে জানান তিনি।
সেমিনারে বিএনপির ও অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (অ্যাব) সদস্যরা একটি ভোটিং মেশিনে সোর্স কোড পরিবর্তন করে দুইটি উপায়ে ভোটের (নমুনা) ফলাফল গরমিল করে দেখান। তারা বলেন, যদি এই মেশিনের ফলাফলে গরমিল করা যায় তাহলে নির্বাচন কমিশনের ইভিএমেও গরমিল করা সম্ভব।

ইভিএম নিয়ে তাবিথ আউয়ালের প্রেজেন্টেশনের পরপরই এক বক্তা জিজ্ঞেস করেন, আপনারা এই মেশিন হ্যাক করে দেখালেন, আপনারা কী নির্বাচন কমিশনের ইভিএম হ্যাক করতে পারবেন? সেই ইভিএম কি হ্যাক করা সম্ভব? উত্তরে ফয়সাল আলীম বলেন, ‘সম্ভব। যদি নির্বাচনের দুই দিন আগে আমাদের কাছে ইভিএম দেয়া হয়, তাহলে আমরা এর সোর্স কোড ও লজিক বদলে ভোটে গরমিল করাতে পারবো।’

সেমিনারের প্যানেল ডিসকাশনের অন্যতম সদস্য তাবিথ আউয়াল বলেন, ইভিএমে ভোট দিতে হলে একজন নাগরিকের আঙুলের ছাপের প্রয়োজন। তবে কোনো কারণে কারও আঙুলের ছাপ যদি মেশিনে না বসে তাহলে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের আঙুলের ছাপ নিয়ে তিনি নিজের ভোট দিতে পারবেন। আমরা হিসাব করে দেখেছি, একজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার যদি চান তাহলে তার আঙুলের ছাপ দিয়ে একটি ইভিএমে সারাদিনে ৯৬০টি ভোট দিতে পারবেন।

তাবিথ দাবি করেন, ইভিএমে প্রি-প্রোগ্রাম সেট করে যে কোনো কেন্দ্রের সোর্স কোড পরিবর্তন করে যে কোনো ফলাফল আনা সম্ভব। ভোট দেয়ার সময় যার যতো ভোটই দেখা যাক, কিন্তু প্রিন্টের একদম আগ মুহূর্তে অথবা প্রিন্টের সময় ফলাফলে গরমিল করা যায়।

সেমিনারে প্যানেল ডিসকাশনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, বিএনপির সহ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল, অ্যাবের যুগ্ম-মহাসচিব প্রকৌশলী তানভীরুল হাসান তমাল, প্রকৌশলী একেএম আসাদুজ্জামান, অ্যাব সদস্য প্রকৌশলী মিজানুর রহমান।

সেমিনারে বক্তারা ইভিএমের সময়ভিত্তিক কারচুপি, সংখ্যানির্ভর কারচুপি, ভোটের চূড়ান্ত ফলাফলনির্ভর কারচুপির বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা দাবি করেন, বর্তমান পদ্ধতিতে ভোটারের আঙুলের ছাপ না মিললে ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের সাহায্য নিয়ে ভোট প্রদান করা সম্ভব। এর ফলে একজনের ভোট আরেকজনের দেয়ার সুযোগ স্পষ্ট হয়। ইভিএমে কোনো পেপার টেন নেই। ফলে ভোট পুনরায় গণনার সুযোগ নেই। সব ইভিএম মেশিন থেকে সংগৃহীত ভোটের চূড়ান্ত গণনা প্রক্রিয়াটি স্পষ্ট ও স্বচ্ছ নয়।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫