বাংলাভূমি ডেস্ক ॥ উত্তর ও দণিাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় ভারত থেকে ধেয়ে আসা বন্যার পানি ও টানা বর্ষণে ঢেপা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। চলনবিল অঞ্চলে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে দেিণর পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলায় বন্যার অবনতি দেখা দিয়েছে। এখানেও প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
কাউখালীতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে : উজানের ঢল, টানা বর্ষণ এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপজেলার ৫টি নদীতে ৪ দিন ধরে পানি বৃদ্ধি পেয়ে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নদ-নদীর পানি। জোয়ার শুরু হলেই নদীপারের মানুষ গবাদিপশু নিয়ে উঁচু স্থানে ও বেড়িবাঁধে গিয়ে আশ্রয় নেয়; আবার ভাটা হলে ঘরে ফিরে আসে। প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করা এসব মানুষ ক’দিন ধরে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। বন্যাকবলিত এলাকায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার দু’শতাধিক ঘরবাড়ি এক থেকে দেড় ফুট পানির নিচে থাকায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তলিয়ে গেছে দু’শতাধিক হেক্টর জমির আমন বীজতলা ও উঠতি শাকসবজির বাগান। উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ২৬টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। নিচু এলাকার গ্রামগুলোর রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে বানভাসি মানুষ। গবাদিপশুর খাদ্য সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদ-নদীগুলো দিয়ে তীব্র স্রোত প্রবাহিত হওয়ায় সন্ধ্যা, কাঁচা, গাবখান ও কালীগঙ্গা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। সহস্রাধিক একর আবাদি জমি নদীতে নিমজ্জিত হয়েছে।
বীরগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি : দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌরসভাসহ পুরো উপজেলা ভারত থেকে ধেয়ে আসা বন্যার পানি ও টানা বর্ষণে আত্রাই এবং ঢেপা নদী কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নিম্নাঞ্চল, খাল-বিল, নদী-নালা-ডোবাসহ নিজপাড়া ইউনিয়নের বানপাড়া, নখাপাড়ার বিশাল এলাকার ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। গৃহছাড়া হয়েছে অসংখ্য পরিবার। পানির নিচে ডুবে আছে শত শত হেক্টর পতিত ও রোপিত আমন ধানের জমি। কৃষকরা জানান, চড়ামূল্যের বীজতলায় ধান রোপণের পর অতিবৃষ্টি ও বন্যার পানিতে সেগুলো নষ্ট হয়ে গেলে আবারও ধান রোপণ করতে প্রান্তিক চাষীরা অম। গৃহহীন পরিবারগুলো অন্যত্র আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। সরকারিভাবে কোনো আশ্রয় কেন্দ্র বা ত্রাণশিবির খোলার ব্যবস্থা করা হয়নি।
লালমনিরহাটে বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ চরমে : লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। তিস্তার বাম তীর প্রধান বাঁধসহ বিভিন্ন উঁচু স্থানে আশ্রয় নেয়া মানুষের মধ্যে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের মাঝে কোনো ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি। ফলে হাজার হাজার পরিবার তাদের শিশু, বৃদ্ধ ও পরিবার-পরিজন এবং গৃহপালিত পশু নিয়ে অনাহারে-অর্থাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পানিবন্দি অনেকের বাড়িতে দুদিন ধরে রান্নাবান্না বন্ধ রয়েছে। এছাড়া পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ- বিভাগীয় প্রকৌশলী মাইনুদ্দিন মণ্ডল জানান, শুক্রবার সকাল থেকে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে এখনও পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। এদিকে চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে ধসে গিয়ে ১৫টি চরের সঙ্গে জেলা ও উপজেলা সদরের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
চলনবিল অঞ্চলে ৫শ’ একর আমন ডুবে গেছে : চলনবিল অঞ্চলে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত দু’দিনে বিলের তলায় নাবি জাতের ৫শ’ একর আমন ধান ডুবে গেছে। চলনবিলের ৯টি উপজেলায় বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনেক এলাকায় নিচু স্থানে অবস্থিত পুকুরে চাষ করা মাছ ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। এরই মধ্যে গত দু’দিনে বিলের তলায় নাবি জাতের ৫শ’ একর আমন ধান ডুবে গেছে। অনেক এলাকায় কাঁচা রাস্তা ডুবে যাওয়ায় লোকজনকে নৌকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে।
আগৈলঝাড়ায় যোগাযোগ বন্ধ : বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ভারি বর্ষণে একটি সড়ক ধসে পড়ায় যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বাকাল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নওপাড়া ভায়া রাজিহার সড়কের দুটি স্থান সম্প্রতি ভারি বর্ষণে ধসে পড়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে এই সড়কটি ২ কিলোমিটার কার্পেটিং করে এলজিইডি বিভাগ রাস্তাটি নির্মাণের পর বর্তমান সরকার ২০১০ সালে একবার সংস্কার করে। সংস্কার কাজ নিম্নমানের হওয়ায় অল্পদিনের মধ্যেই খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। সাম্প্রতিক ভারি বর্ষণে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান যতীন্ত্র নাথ মিস্ত্রির বাড়ির সামনে ও বাকাল মন্দির সংলগ্ন দুটি স্থানে ধস নামায় দু’সপ্তাহ যাবত্ সড়কটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এমনকি স্কুল-কলেজের শিার্থীদের চলাচলেও চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন নির্বাচিত প্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করলেও দুর্দশা ঘুচাতে রাস্তাটি মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
নবাবগঞ্জের কয়েকটি গ্রাম নদীভাঙনের মুখে : দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বিনোদনগর ইউনিয়নের করতোয়া নদী ঘেঁষা কাঁচদহ, ভোটারপাড়াসহ কয়েকটি গ্রাম নদীভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে কারও কারও বাড়িঘর ভেঙে নদীতে মিশে গেছে। আবার অনেকেই সেই ভাঙনের আশঙ্কায় নিদ্রাহীন রাতযাপন করছেন। তারা শঙ্কিত কখন তাদের আশ্রয়স্থলটুকু হারিয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উত্তর কাঁচদহ গ্রামে গিয়ে দেখা যায় নদীভাঙনে শহিদুল ইসলামের বাড়িটি করতোয়া কেড়ে নিয়েছে। আরও কেড়ে নেয়ার জন্য করতোয়া তাক করে আছে আজিজুল হক ও খলিল মাস্টারের বাড়িঘরের দিকে। ভোটারপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেন জানান, প্রতিবছরই তাদের কাউকে না কাউকে নদীতে ঘরবাড়ি হারাতে হচ্ছে। গ্রামবাসীর ভাষায়—উজান থেকে আসা করতোয়া ও ঘিল্লাই নদীর সংযোগস্থল তাদের গ্রামের কাছে হওয়ায় পানির তীব্র স্রোত হয়। আর ওই স্রোতের কারণে নদীভাঙন বেশি হয়; ফলে প্রতিবছরই অনেককে বাড়িঘর হারাতে হয়।
উত্তর ও দণিাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, চরম দুর্ভোগে বানভাসি মানুষ
আপডেট :July 13, 2013
0
সম্পর্কিত আরও সংবাদ
সাম্প্রতিক সংবাদ
আর্কাইব
প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার
প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার
ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।
সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫
