Skip to content

বেগুন কাঁচামরিচে আগুন এক সপ্তাহে বেড়েছে ৩ গুণ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এক সপ্তাহ আগে বাজারে বেগুনের দাম ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। রমজানে বেগুনের কদর বাড়ে। তাই সপ্তাহ না পেরুতেই এর দাম বেড়েছে তিন গুণ। এখন তা কেজিপ্রতি
বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। একই অবস্থা কাঁচা মরিচেরও। ৭০-৮০ টাকা কেজির কাঁচা মরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, ধোলাইর পাড়, জুরাইন, শ্যামবাজার, বাবু বাজার, ঠাটারি বাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার ও কাওরান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এ দু’টি পণ্যের দামে আগুন। এ বিষয়ে কথা হয় কাপ্তান বাজার (ঠাটারি বাজার) ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা সব পণ্যের দাম দোকানে টাঙিয়ে রেখেছি। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পণ্য মজুদ করছে। এর ফলে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে জেলে না পাঠালে এ সমস্যার সমাধান হবে না বলেও মন্তব্য করেন ব্যবসায়ী এ নেতা। কাঁচা মরিচ, বেগুন, শসা, ধনেপাতা ও রসুন- এ ৫টি পণ্যকে রপ্তানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু তাতেও দাম না কমে বরং আরও বেড়েছে। বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সুপারিশে মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নেয়। এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, কাঁচা মরিচ ছাড়া অন্যগুলোর দাম বেশি বাড়েনি। আমার ধারণা, পরে রপ্তানি করবে সেই চিন্তা থেকে মরিচ হিমাগারে রাখা হচ্ছে। তাই বাজারে বেশি দামে মরিচ বিক্রি হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে যদি থাকত যে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত রপ্তানি নিষিদ্ধ থাকবে, তাহলে আর এ সমস্যা দেখা দিত না।
এ বিষয়ে ক্রেতা কামরুল হাসান বলেন, রমজানের আগে প্রতিকেজি বেগুন কিনেছিলাম সর্বোচ্চ ৪০ টাকায়। প্রথম রমজানে তা কিনেছি ৮০ টাকা দিয়ে। দ্বিতীয় রমজানে এসে দেখি একই বেগুন ১৪০ টাকার কমে দিচ্ছে না। এভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাজার উপরের দিকে উঠলে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকেরা না খেয়ে মরতে হবে। তিনি বলেন, সরকার মুখে বলছে পণ্যের দাম সহনীয় ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আর বাস্তব চিত্র তার উল্টো। মালিবাগ কাঁচা বাজারে আসা আসাদ জোবায়ের বলেন, বেগুনের দাম চরম চড়া। শুক্রবারে এখানে প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। যা অল্প ক’দিন আগেও ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় পাওয়া যেত। ক্রমশই কাঁচাবাজার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে- মন্তব্য করেন তিনি। মূলত শবেবরাতে প্রথম দফা দাম বাড়ে। এরপর দ্বিতীয় দফা বাড়ে রমজানের আগের দিন। ওই দুই দফায় প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম যে বেড়েছিল তা আর নামেনি। গতকাল রমজানের দ্বিতীয় দিনেও সে চড়া দামেই পণ্য বিক্রি হতে দেখা গেছে। রমজান সামনে রেখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কয়েকটি পণ্যের দাম বেঁধে দিলেও সে দামে খুব একটা বিক্রি হচ্ছে না। পাইকারি বাজারে এসব পণ্যের দাম কিছুটা মিল থাকলেও খুচরা বাজারে পুরোটাই বেমিল। পিয়াজ এখনও ভোক্তাদের ভোগাচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে দোকানিরা এখনও আগের দামের তেলই বিক্রি করছেন।
রাজধানীর কাঁচাবাজারে গতকাল প্রতি কেজি করলা ৪০, গাজর ৫০, টমেটো ১৪০ থেকে ১৫০, চিচিঙা ৪০, ঢেঁড়স ৩০, ঝিঙে ৩৫, বরবটি ৪০ টাকা, পেঁপে ও পটোল ২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। টমেটো ছাড়া সব পণ্যই আগের দিনও প্রায় অভিন্ন দামে বিক্রি হয়েছে। পিয়াজের চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে। দেশি পিয়াজ ৪৮ থেকে ৫০ টাকা আর ভারতীয় পিয়াজ ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুন ৭০ থেকে ৭৫ এবং চীনা রসুন ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আদাও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। দেশী আদা ২০০ এবং চীনা আদার কেজি ৯০ টাকা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্যামবাজারের আমদানিকারক খন্দকার বাবুল বলেন, খুচরা বাজারের দায় আমরা নিতে পারব না। আমাদের তরফে সম্ভব সব চেষ্টাই করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, শুক্রবারে পাইকারি হিসেবে প্রতিকেজি আদা ছেড়েছি ৭৮ থেকে ৮০ টাকায়। আর খুচরা বাজারে প্রকারভেদে সে আদাই হয়ে যাচ্ছে ৯০ থেকে ২০০ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম আরও কমিয়েছেন মিলমালিকেরা। কিন্তু সেই তেল সব দোকানে সরবরাহ করা হয়নি। আবার অনেক দোকানে কমানো দামের তেল থাকলেও আগের বেশি দামের তেলটাই বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এখনও এক লিটারের বোতলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩২ টাকায়। তবে কিছু দোকানে ১২৮ টাকায় তেল বিক্রি হতে দেখা গেছে। ৫ লিটারের তেল পাওয়া যাচ্ছে ৬৩৫ থেকে ৬৫০ টাকায়। কয়েক দিন ধরে বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১০৭ থেকে ১০৯ টাকায়। গতকাল এ তেল ১০৯ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। খোলা পাম তেল ৭৩ এবং পাম সুপার ৮০ থেকে ৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনি আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা। তবে প্যাকেটজাত চিনি মিলছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। এদিকে গুড় ও চিড়ার দাম বেড়ে গেছে। ৪৫ টাকার চিড়া গতকাল ৫০ টাকা আর ৬৫ টাকার গুড় ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। তবে কোন কোন দোকানে ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি দরে। আর কানাডার মসুর ডাল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা এবং দেশি মসুর ১০৫ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খেসারির কেজি ৪৫ টাকা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫