স্টাফ রিপোর্টার ॥
ঢাকা: শাপলা চত্বর থেকে গত ৫ মে মতিঝিলে হেফাজতের সমাবেশকে নিয়ে ‘মিথ্যা’ তথ্য দেয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’সম্পাদক আদিলুর রহমান খানকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করে গত ১১ আগস্ট পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি পুলিশ। বিচারিক আদালতের দেয়া রিমান্ড আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিচারপতি বোরহান উদ্দিন ও বিচারপতি কাশিফা হোসেনের হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ আদিলুরের রিমান্ড আদেশ স্থগিত করে তাকে প্রয়োজনে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।
মঙ্গলবার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আশরাফুল ইসলাম তাকে আদালতে হাজির করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তফা শাহরিয়ার খান হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে জেলহাজতে পাঠান।
সোমবার বিচারপতি বোরহানউদ্দিন ও বিচারপতি কাশিফা হোসেনের সমন্বয় গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ এক আবেদনের শুনানি শেষে সিএমএম আদালতের মঞ্জুরকৃত পাঁচদিনের রিমান্ড স্থগিত করে আদিলুরকে অবিলম্বে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। একই আদেশে প্রয়োজনে তাকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা বলা হয়েছে।
এরআগে রোববার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অমিত কুমার দের আদালত তাকে পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম টিম তথ্যপ্রযুক্তি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আদিলুর রহমান খানকে তার গুলশানের বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাকে ডিবি হেফাজতে রাখা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৫ মে হেফাজত ইসলামের ঢাকা অবরোধের সময় আইন-শৃঙ্খলার বাহিনীর হাতে ৬১ জন নিহত হয়েছে মর্মে মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য প্রকাশের অভিযোগে আদিলুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রোববার ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন ডিবি (দক্ষিণ) পুলিশের পরিদর্শক আশরাফুল ইসলাম।
রোববার রাতেই গুরত্বপূর্ণ তথ্য প্রমাণাদি পাওয়ার আশায় আদিলুর রহমান খানের বাসভবন ও কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ তিনটি ল্যাপটপ ও দুটি সিপিইউ জব্দ করে।
আদিলুর রহমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন।
