Skip to content

ফন্টেরার দুধ ছাড়িয়ে নিতে তৎপরতা

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ চট্টগ্রাম বন্দরে আটক ফন্টেরার ৬০০ টন দুধ ছাড়িয়ে নিতে জোর তৎপরতা চলছে। ফন্টেরার দুধে স্বাস্থ্যগত কোনো ঝুঁকি নেই জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সম্প্রতি চিঠিও দিয়েছে নিউজিল্যান্ডের হাইকমিশন।

আবুল খায়ের, প্রাণ ডেইরি, নেসলে বাংলাদেশ, সানোয়ারা করপোরেশন ও নিউজিল্যান্ড ডেইরির মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ফন্টেরার এ দুধ আমদানি করে; বর্তমানে যা রাসায়নিক পরীার অপোয় রয়েছে।

তবে ফন্টেরার দুধে তিকর কিছু নেই জানিয়ে গত ২৮ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি ডেস্কের অতিরিক্ত সচিবকে চিঠি পাঠান ভারতে নিযুক্ত নিউজিল্যান্ডের হাইকমিশনার জ্যান হেনডারসন। চিঠিতে বলা হয়, ফন্টেরার উৎপাদিত দুধে কোনো কোসট্রিডিয়াম বটুলিনাম নামের ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়নি। নিউজিল্যান্ডের প্রাথমিক শিল্প মন্ত্রণালয় পরীা করে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া কোসট্রিডিয়াম স্পরোজেনিস নামের কোনো ব্যাকটেরিয়াও এতে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া এ ব্যাকটেরিয়া বিষাক্ত কোনো প্রভাব ফেলতে সম নয়।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, কোসট্রিডিয়াম স্পরোজেনিস ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে কোনো ধরনের খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টির সংযুক্তি নেই। বরং এ ব্যাকটেরিয়া কোনো কোনো েেত্র খাবার পচিয়ে ফেলে। বিষয়টি নিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রাথমিক শিল্প মন্ত্রণালয় একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে। এটিতে ভোক্তাদের কোনো স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নেই।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নিউজিল্যান্ডের হাইকমিশন ছাড়াও স্থানীয় শীর্ষ আমদনিকারকরা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করছেন। ফন্টেরাকেও চাপ প্রয়োগ করছেন আমদানিকারকরা। এরই ধারাবাহিকতায় ফন্টেরার হয়ে নিউজিল্যান্ডের হাইকমিশন সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে। স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে এরই মধ্যে মন্ত্রণালয় নিজস্ব তত্ত্বাবধানে দুধ পরীা করার উদ্যোগ নিয়েছে। পরীার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ শিল্প ও বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদকে (বিসিএসআইআর)।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, ‘হাইকমিশনের চিঠি আমরা পেয়েছি। এখন আরো কিছু তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি।’

হাইকমিশনের চিঠিতে দাবি করা হয়, গত ২ আগস্ট ফরেন্টার পণ্যে কোসট্রিডিয়াম বটুলিনাম পাওয়ার তথ্য পেয়ে প্রাথমিক শিল্প মন্ত্রণালয় গুরুত্বসহকারে বিষয়টি আমলে নেয়। একটি কমিশন গঠনের মাধ্যমে দুধের নমুনা সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে পরীার জন্য পাঠায়। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়, ফন্টেরার পণ্যে তিকর কোনো কিছু নেই।

এর আগে ফন্টেরার দুধে তিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। চীন, ভিয়েতনাম, রাশিয়া ও শ্রীলংকায় এ গুঁড়ো দুধ বাজারজাত নিষিদ্ধ করা হয়। এ ধারাবাহিকতায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এসব দুধ পরীার উদ্যোগ নেয়। ফলে বন্দরে আটকে যায় ফন্টেরা থেকে আমদানি করা ৬০০ টন গুঁড়ো দুধের চালান।

স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক তিকর এ ব্যাকটেরিয়ার খবরে সচেতন হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এসব দুধে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেলে নিষিদ্ধ করা হবে। এছাড়া আগে আমদানিকৃত যেসব দুধ বাজারজাত করা হয়েছে, সেগুলো পরীার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এতে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। আর বাজারজাতকৃত গুঁড়ো দুধ নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।

চট্টগ্রাম বন্দর কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, নিউজিল্যান্ড এর দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফন্টেরা থেকে গুঁড়ো দুধ আমদানি করে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের, প্রাণ ডেইরি, নেসলে বাংলাদেশ, সানোয়ারা করপোরেশন ও নিউজিল্যান্ড ডেইরি। গত অর্থবছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ফন্টেরা থেকে আবুল খায়ের গ্রুপ ৪ কোটি ৭৩ লাখ ডলারের ৯ হাজার ১৬৮ টন গুঁড়ো দুধ আমদানি করেছে। নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেড আমদানি করেছে ২ কোটি ১১ লাখ ডলার মূল্যের ৫ হাজার ৯০০ টন ও সানোয়ারা করপোরেশন ৩ লাখ ৬২ হাজার ডলারের ১০০ টন। এছাড়া নিউজিল্যান্ড ডেইরির ২ কোটি ডলারের প্রায় ৫ হাজার ৪১ টন এবং প্রাণ ডেইরি আমদানি করেছে ৫৩২ টন গুঁড়ো দুধ।

দেশের গুঁড়ো দুধের চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশই মেটানো হয় নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক এবং হল্যান্ড থেকে আমদানি করা দুধের মাধ্যমে। নিউজিল্যান্ডের অন্যতম দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফন্টেরা হলো বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫