বিশ্ববিদ্যায় রিপোর্টার ॥ ২০১২-২০১৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগে ১৩৫ আসনের মধ্যে সব মিলিয়ে ভর্তি হয়েছেন মাত্র ৫৪ জন শিক্ষার্থী। ফলে কমপক্ষে ৮১টি আসন ফাঁকা রয়েছে বিভাগটিতে।
অথচ এ বিভাগে ভর্তির জন্য হাজার হাজার শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে। কিন্তু শর্তের বেড়াজালে তাদের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে।
জানা যায়, ভর্তি পরীক্ষায় কঠিন শর্ত আরোপ, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বাংলা ও ইংরেজিতে ২০০ নম্বরের কোর্স থাকা বাধ্যতামূলক থাকার শর্ত এবং গত বছরের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন তুলনামুলক কঠিন হওয়ায় এমনটি হয়েছে।
ফলে পছন্দের শীর্ষে থাকা সত্ত্বেও অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ঢাবির অন্যতম এ বিভাগটিতে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
ঢাবির আইন বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় কলা (খ-ইউনিট) ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের (ঘ-ইউনিট) এর মাধ্যমে। সম্মান শ্রেণির প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হয় মোট ২০০ নম্বরের। যার মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় ১২০ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফলের ভিত্তিতে ৮০ নম্বর নির্ধারিত।
কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা ১২০ নম্বরের হয়। এর মধ্যে বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং সাধারণ জ্ঞানে ৬০ (বাংলাদেশ বিষয়াবলী-৩০+ আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী-৩০) নম্বর বরাদ্দ থাকে।
২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় আইন বিভাগে ভর্তির জন্য বাংলায় ন্যূনতম ১৮ এবং ইংরেজিতে ন্যূনতম ২০ নম্বর পাওয়ার শর্ত ছিল। ফলে মেধা তালিকার শীর্ষে থেকেও নির্ধারিত নম্বর না পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী আইন বিভাগে ভর্তি হতে পারেনি।
এর আগে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে আইন বিভাগে ভর্তির জন্য বাংলা ও ইংরেজিতে যথাক্রমে ১৬ ও ১৮ নম্বর ছিল ন্যূনতম। ২০১০-২০১১ শিক্ষাবর্ষে বাংলা ও ইংরেজিতে শর্ত ছিল যথাক্রমে ১৪ ও ১৬।
এছাড়া, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে ২০০ নম্বরের কোর্স থাকা বাধ্যতামূলক করায় মাদ্রাসা থেকে পাশ করা শিক্ষার্থী ও ইংরেজি মাধ্যম থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের জন্যও আইন বিভাগে ভর্তির দরজা বন্ধ হয়ে যায়।
কিন্তু এর আগে এ ধরনের কোনো শর্ত না থাকায়, মাদ্রাসা থেকে পাস করা এবং ইংরেজি মাধ্যম থেকে ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল করা শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারতেন। যার ফলে আইন বিভাগের আসন অন্য সব বিভাগের আগেই পূর্ণ হয়ে যেত।
কিন্তু গতবার খ-ইউনিটের (কলা অনুষদ) মেধাতালিকায় থাকা প্রথম ২ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থীর মধ্য থেকেও আসন পূর্ণ না হওয়ায় একাধিকবার অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আহ্বান করা হয়।
ঘ- ইউনিট থেকেও মেধা তালিকা থেকে আসন পূর্ণ না হওয়ায় একাধিকবার অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী ডাকা হয়। শেষ পর্যন্ত এ দুই ইউনিট ও কোটা মিলিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়া সমস্ত শিক্ষার্থীদের ডাকা হলেও ৫৪ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে ভর্তি করানো যায়নি।
ফলে ফাঁকাই থেকে গেছে আইন বিভাগের অধিকাংশ আসন।
সব মিলিয়ে আইন বিভাগের সম্মান প্রথম বর্ষের আসন সংখ্যা কমপক্ষে ১৩৫। তবে আরো বেশি শিক্ষার্থীও ভর্তি হয় বলে জানা যায় । যার মধ্যে খ-ইউনিট থেকে ৯০ জন এবং ঘ-ইউনিট এবং বিভিন্ন কোটা মিলিয়ে বাদবাকি শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আইন বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক শাহনাজ হুদা বলেন, ‘আইন বিভাগটি তুলনামূলক কঠিন হওয়ায়, আমরা চেয়েছি যোগ্যতম শিক্ষার্থীদের ভর্তি করাতে। কারণ, আগের বছর গুলোতে অনেক খারাপ মানের শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ায় প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য শিক্ষার্থী
ফেল করেছে।’
আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক তসলিমা মনসুর দেশের বাইরে থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এত সংখ্যক আসন ফাঁকা থাকায় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হল কি না, জানতে চাইলে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হল একথা ঠিক। তবে একটি বিভাগে এতগুলো আসন ফাঁকা থাকার অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য প্রথম। বিষয়টি নিয়ে ডিনদের সাথে আলোচনা করা হবে।’
