Skip to content

বাস্তবের মৎস্যকুমারী!

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ নাতি-নাতনিদের ঘুম পাড়াতে বা আনন্দ দিতে দাদা বা দাদিরা নানা রূপকথার গল্প শোনান। এ সব রূপকথার গল্পের অন্যতম একটি চরিত্র হলো- মৎস্যকুমারী।

এই অর্ধেক মানবী আর অর্ধেক মাছরূপী মৎস্যকন্যা বা মৎস্যকুমারীর সুরে বিমোহিত হয়ে জাহাজের নাবিকের অতলে সাগরের জলে লাফিয়ে পড়ার গল্পটা খুবই মনোমুগ্ধকর।

শৈশবে সত্যি মনে হলেও বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মৎস্যকুমারীর অস্তিত্ব নেই-এমন ধারণা জন্মে মৎস্যকুমারীর গল্প শুনতে শুনতে ঘুমোতে যাওয়া নাতি-নাতনিদের। গল্পকথক দাদা-দাদিরাও জানতেন, মৎস্যকুমারী শুধুই কল্পনা, বাস্তব নয়।

কিন্তু, এবার বাস্তবে সাক্ষাৎ মিলছে মৎস্যকুমারীর। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট মাইরেড কেলি ও তার দুই বান্ধবী হচ্ছেন, বাস্তবের মৎস্যকুমারী।

২৫ বছর বয়সী মাইরেড কেলি ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত একজন রোগী ছিলেন। রোগ থেকে সেরে ওঠার পর মৎস্যকন্যা হওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেন তিনি।

পড়াশোনা শেষ করে অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছেন মাইরেড। কিন্তু, অবসর সময়ে মাছের লেজ সদৃশ তিন হাজার পাউন্ডের সিলিকন লেজ পরে সাঁতার কাটেন।

অফিস না থাকলে একজন পেশাদারী মৎস্যকন্যা হিসেবে কাজ করেন তিনি। সাঁতার কাটায় তার অসুস্থতা কেটে উঠেছে বলে জানান তিনি।

২০১০ সালে কেলির ব্রেন টিউমার শনাক্ত হয়। এক বছর পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা হলেও ফের টিউমার দেখা দিলে চলতি বছরের জানুয়ারিতে আবার অস্ত্রোপচার করা হয় মাথায়। এখন অনেকটাই সুস্থ তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যায় ভুগতেন মাইরেড। সেই সময় খুবই ক্লান্ত লাগতো তার। তার চুল পড়ে যেত ও শরীরে কালচে দাগও পড়তো।

নিজের শরীরকে সুস্থ করতে সাঁতারকে শারীরিক অনুশীলন হিসেবেই মেনে তিনি নিয়মিত মৎস্যকন্যা সেজে সাঁতরাচ্ছেন।

নিজেকে সুস্থ করে তুলতে সাঁতার তাকে অনেকটা সহায়তা দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরের তুলনায় আমি বেশ শক্তিশালী। আমি সাঁতার কাটতে ভালোবাসি। পানির নিচে সাঁতার কাটা ধ্যানের মতোই। সেখানকার পরিবেশ বাইরের বিশ্ব থেকে আলাদা এবং সবকিছুই নীরব ও শান্তিপূর্ণ।’

অনেকের কাছ থেকে পারফর্ম করার জন্য আমন্ত্রণও পেয়েছেন বলে জানান তিনি মাইরেড। মৎস্যকন্যা সাজাকে নির্ভুল সিদ্ধান্ত বলে দাবি তার। তিনি বলেন, ‘এটি ভিন্ন এবং পুরোপুরি ব্যতিক্রম।’

প্রথম যেদিন পানিতে নামেন সেদিন খুব চিন্তিত ছিলেন কেলি, নাক ও সাইনাসে কেমন প্রভাব পড়বে এ নিয়ে। কিন্তু তার তেমন কিছুই ঘটেনি।

তার দলের অন্য দুই সদস্য হচ্ছেন ২৪ বছর বয়সী ফ্রাঙ্কি দুবেরি এবং ২৫ বছর বয়সী দেমেলজা হিলিয়ার। তারা শীতল লেক বা পুলে সপ্তাহে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় অতিবাহিত করেন পুরোদস্তুর মৎস্যকুমারী হতে।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫