Skip to content

স্পিকারের ঘোষণায় নির্বাচনী ধূম্রজাল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরীর মুখে সংসদ রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা রাজনৈতিক মহল বিশেষ করে সরকারি দলের অভ্যন্তরে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এতে অনেকেই অবাক হয়েছেন, নতুন করে একটা ধূম্রজালও সৃষ্টি হয়েছে। কারণ ১২৩ অনুচ্ছেদটি সংবিধানের নির্বাচন সংক্রান্ত চ্যাপ্টারের অন্তর্ভুক্ত। তাছাড়া, এই পরিচ্ছেদের এই বিধান নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে ইতিমধ্যেই মতানৈক্য দেখা দিয়েছে। আপাতত প্রতীয়মান হচ্ছে, সরকারি দল চায় সংসদ রেখে নির্বাচন করতে। আর বিরোধী দল মনে করে সংসদ ভেঙে নির্বাচন করতে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এটাও স্পষ্ট করেছেন যে, ২৪শে জানুয়ারির আগে সংসদ না রেখে নির্বাচন করতে চাইলেও সংবিধান সংশোধনের দরকার পড়বে। কারণ ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে, সংসদের মেয়াদ পূরণ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। ২৫শে জানুয়ারি সংসদের প্রথম বৈঠকটি বসেছিল। সে হিসেবে ৯০ দিন গণনা শুরু হবে ২৭শে অক্টোবর থেকে। এই হিসেবে স্পিকারের ঘোষণাও ত্রুটিপূর্ণ। কারণ তিনি বলেছেন, ২৫শে অক্টোবর থেকে ২৪শে জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হতে পারবে। কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী ২৫ ও ২৬শে অক্টোবরে নির্বাচন হলে তা বেআইনি হিসেবে চিহ্নিত হতে বাধ্য। তাই স্পিকার কেন ২৫ ও ২৬শে অক্টোবরের প্রসঙ্গ তুলেছেন তা স্পষ্ট নয়।
তবে অনেকে কৌতুক করে বলছেন, যার বিয়ে তার খবর নেই, পাড়া-পড়শির ঘুম নেই। দেশে সংবিধান অনুযায়ী একটি সাধারণ নির্বাচন হবে। অথচ খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনের কোন খবর নেই। তিনি ঘুম পাড়ছেন। বরং তার কমিশনাররা একেকজন একেকরকম বক্তব্য দিয়ে চলেছেন। এর আগে ইসি সচিব ইঙ্গিত দেন যে, নির্বাচন হবে জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে। সেই ঘোষণাকে সঠিক বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ। আর কমিশনের অনেক সদস্যই নিশ্চিত করেছেন যে, এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কমিশনের কোন বৈঠকে আলোচিত হয়নি। তারা জানেন না। ইসি’র সচিব কমিশনের বৈঠকে হাজির থাকেন বটে, কিন্তু কমিশনের নীতিনির্ধারকদের তিনি কেউ নন। এখন খোদ স্পিকার বলছেন, নির্বাচন হতে পারে ২৫শে অক্টোবর থেকেই।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের মুখে এখন পর্যন্ত সাধারণ নির্বাচন সংসদ রেখে হবে না ভেঙে হবে সে বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেননি। নির্বাচনের বিষয়ে এপর্যন্ত সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমতাসীন দলের কেউ নন, ব্রিফিং করেছেন মন্ত্রিপরিষদের সচিব। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ক্ষেত্রে সচিব বলেছিলেন, ১২ কোটি টাকা কর ফাঁকির জন্য তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরদিনই এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এটা ঠিক নয়। তার বিরুদ্ধে আয়কর ফাঁকির অভিযোগ আনা হচ্ছে না। সে কারণেই সচিবকে দিয়ে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার বিষয়টিকে অনেকেই কৌতূকপ্রদ মনে করছেন। সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী বিশ্বের কোন গণতন্ত্রেই সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ইসি’র সচিবের কাছ থেকে আসে না।
কেউ বলছেন, তিনি সাধারণভাবে একটি মামুলি ঘোষণা দিয়েছেন। আবার কেউ বলছেন, এর তাৎপর্য না থেকে পারে না। কারণ সংসদ রেখে না রেখে সেটা এই মুহূর্তের একটি রাজনৈতিক দরকষাকষির বিষয়। স্পিকারের মন্তব্য সরকারি দলকে সুবিধা দেবে। অথচ তার এই ভূমিকার কোন প্রয়োজন নেই। এই বিতর্কে তার পক্ষ নেয়ার কোন আবশ্যকতা ছিল না। সংবিধান বা কার্যপ্রণালীর বিধির কোথাও তাকে এবিষয়ে ভূমিকা রাখতে নির্দেশনা দেয়নি।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫