জেলা প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ ॥ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলে টানা তৃতীয় দিনের মতো বৃহস্পতিবারও গার্মেন্টস শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
মজুরি ন্যূনতম আট হাজার টাকা উন্নীত করার দাবিতে এ অন্তোষ দেখা দেয়।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে হাজার হাজার শ্রমিক ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করে রাখে। শ্রমিকরা সড়কের ওপর বসে পড়ে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিক্ষোভ দেখায়।
গোটা শিল্পাঞ্চলে বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বেশিরভাগ কারখানাকে কাজ স্বাভাবিক থাকলেও কয়েকটি দুদিন ভাঙচুরে কাজের পরিবেশ না থাকার অজুহাতে গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, মজুরি বাড়ানোর দাবিতে মঙ্গল ও বুধবার সকালে ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলের শিবু মার্কেট এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেআনতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে দুদিন অর্ধশত শ্রমিক আহত হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলের শিবু মার্কেট, কাঠেরপুল, পিটালীপুল, রামারবাগ, কুতুবআইল ও আশপাশ এলাকাতে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সকাল থেকে শ্রমিকরা বিভিন্ন গার্মেন্টে কাজে যোগ দিতে থাকে। ওই সময়ে কিছু গার্মন্টেসের সামনে জটলার সৃষ্টি হলে সেগুলো সরিয়ে দেয় পুলিশ।
শিবু মার্কেট এলাকার টাইমস সোয়েটার, ইউরো টেক্স ও সিক গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিকদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।
এসব কারখানা মালিকপক্ষ জানান, গত দুদিন কারখানার ভেতরে ভাঙচুর হওয়ায় কাজের পরিবেশ না থাকায় শ্রমিকরা ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।
এদিকে সকাল ১০টায় ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলের কয়েকটি গার্মেন্টের শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ করে।
শ্রমিকরা সড়কের ওপর বসে পড়ে মজুরি বাড়াতে স্লোশ্লোগান দিতে থাকে। ওই সময়ে লিংক রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকাল সোয়া ১০ বৃষ্টি শুরু হলে শ্রমিরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে কিছুক্ষণ রাস্তায় থাকলেও পরে বৃষ্টি কারণে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশ-৪-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আহমেদ জানান, ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের জেলা শাখার সভাপতি এম এ শাহীন জানান, গত দুদিন শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে ছিল নির্যাতন। কয়েকটি গার্মেন্টস বহিরাগতরা হামলা চালালে অন্য শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমে আসে। এ সময় পুলিশ শ্রমিকদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ ও গুলি চালিয়েছে।
