বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ গার্মেন্টে আরেকটি অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশে মঙ্গলবার কমপে ১০ জন নিহত হয়েছেন। লোভের বশে ও অবহেলায় স্বর্ণের ডিম দেয়া হাঁসকে যে বাংলাদেশ সরকার হত্যা করছে- এটা তারই আরেকটি নিদর্শন। এেেত্র নতুন করে নীতি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা উচিত বাংলাদেশ সরকারকে। খালিজ টাইমস-এর সম্পাদকীয়তে বাংলাদেশে গার্মেন্টে অগ্নিকাণ্ডের প্রেেিত এসব কথা বলা হয়েছে। এর শিরোনাম ‘প্লেইং উইথ ফায়ার’ (‘আগুন নিয়ে খেলা’)। এতে আরও বলা হয়েছে, ঢাকার বাইরে আসওয়াদ কম্পোজিট মিলসে যে বিপর্যয় ঘটেছে তা সামপ্রতিক সময়ের তৃতীয় অঘটন।
মাত্র ছয় মাস আগে সবচেয়ে ভয়াবহ এ ধরনের বিপর্যয় ঘটে গেছে। সে সময় কয়েক ডজন পোশাক কারখানা রয়েছে এমন একটি ভবন ধসে পড়েছে। এতে নিহত হয়েছে ১১ শতাধিক। এটি ছিল এ শিল্পের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়। এ ঘটনা কর্মেেত্র নিরাপত্তার মান কঠোর করতে ও আইন লঙ্ঘনকারী কারখানার লাইসেন্স বাতিল করে দিতে উদ্বুদ্ধ করে বাংলাদেশ সরকারকে। কিন্তু এই ট্র্যাজেডি আবারও সংঘটিত হওয়ায় সরকার যে পদপে নিয়েছে তা খাটো করে দিয়েছে তাকে।
এতে এ শিল্পের মূল্যায়নকে অবহেলা করা হয়েছে। বছরে এ শিল্প থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় ২০০০ কোটি ডলার আয় হয়। দণি এশিয়ার এ দেশে অনেক খাতেই যেসব মানুষকে চাকরির কোন সুযোগ দেয়া হয় না তাদেরকে নিয়োগ দেয়া হয় গার্মেন্ট শিল্পে। এর বেশির ভাগই নারী। এসব কারখানার যারা মালিক তাদের ভবনের ব্যবস্থা ও শ্রম আদর্শ বা নিয়ম না মানতে প্রলুব্ধ করেছে। এ শিল্পে রয়েছে প্রচুর অপ্রাপ্তবয়স্ক কর্মী। তারা যেখানে কাজ করে সেখানে ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা নাজুক। তারা কাজ করেন গাদাগাদি অবস্থায়। নেই অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক সরঞ্জাম। নেই দ্রুত বের হওয়ার বিকল্প পথ।
এ শিল্পে কর্মঘণ্টা অনেক দীর্ঘ। কিন্তু বেতন কম। সংেেপ, বিশ্বের বড় একটি সোয়েটশপ (অমানবিক অবস্থায় যেখানে কাজ করা হয়) হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। নিজেরা বড় লাভের জন্য আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো সস্তা শ্রমের সুবিধা নিচ্ছে। নেক্সট, প্রাইমার্ক, গ্যাপ, এইচঅ্যান্ডএম- এই ব্র্যান্ডগুলোর জন্য পোশাক তৈরি করতো আসওয়াদ কম্পোজিট মিলস। তারা ও পশ্চিমা সুপরিচিত অন্য কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের গার্মেন্ট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ব্যবসা করছে। এেেত্র যেসব ট্র্যাজেডি ঘটে চলেছে তার জন্য তারাও দায়ী। প্রথমদিকে চীনে ও ভারতের কিছু অংশে যা যা ঘটেছে এখন তা-ই ঘটছে বাংলাদেশ, লাওস, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারে। চীন ও ভারতে বাসা ভাড়া বেড়ে গেছে। বিদ্যুতের দাম বেড়েছে।
বেড়েছে মজুরি। এ অবস্থায় এ দু’টি দেশের গার্মেন্ট শিল্প যে সস্তা শ্রমের সুবিধা নিতো তা হারাচ্ছে। ফলে প্রস্তুতকারকরা এখন অন্য উন্নয়নশীল দেশের দিকে ঝুঁকছে কম শ্রমমূল্যের দেশে। সুতরাং বাংলাদেশকেও এ নিয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে।
