স্পোর্টস ডেস্ক ॥ একটা সময় ভাগ্যান্বেষনে, কাজের খোজে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটতো দক্ষিণ আফ্রিকায়। দিন বদলেছে। সেই দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কয়েক দশক ধরেই ক্রিকেটাররা পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ডে। তেমনই ভাগ্যের খোজে প্রিটোরিয়া থেকে নিউজিল্যান্ডে এসেছিলেন নেইল ওয়াগনার। এই ‘মাইগ্রেশন’ যে দারুন সফল হয়েছে, তা অন্তত এবার দাবি করতে পারেন ওয়াগনার। গতকাল ক্যারিয়ারের নবম টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে। আর এখানে পেয়ে গেলেন ক্যারিয়ারের প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট।
বাংলাদেশের মাটিতে, বর্তমান বাস্তবতায় কোনো পেসারের পক্ষে জ্বলে ওঠা খুব কঠিন একটা কাজ। তারওপর নিউজিল্যান্ড এসেছে নিতান্ত অনভিজ্ঞ কয়েক জন পেসার নিয়ে। তারপরও বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসটা ধ্বসিয়ে দিলেন চট্টগ্রাম টেস্টে দলেই সুযোগ না পাওয়া এই বাহাতি তরুন। ১৯ ওভার বল করে ৬৪ রান দিয় একে একে তুলে নিলেন তামিম, মার্শাল, মুশফিক, সোহাগ ও রুবেলের উইকেট। এর মধ্যে তার নেওয়া প্রথম ৪ উইকেটই আসলে ঠিক করে দিল বাংলাদেশের ইনিংসের ভাগ্য।
নেইল ওয়াগনারের টেস্ট অভিষেক হয়েছে গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অ্যান্টিগা টেস্টে। সেই থেকে এই ঢাকা টেস্টের আগ পর্যন্ত ৮ টেস্টে ২৪ উইকেট নিয়ে বেশ আলোচনায়ই ছিলেন তিনি।
প্রিটোরিয়ায় জন্মানো এই বাহাতি পেসারের ক্রিকেটে হাতেখড়ি আফ্রিকান হাই স্কুল ফর বয়েসে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকান অ্যাকাডেমির হয়ে এই বাংলাদেশ সফরেও এসেছেন; গেছেন জিম্বাবুয়ে সফরেও। এরপর সেঞ্চুরিয়ন টেস্টে দ্বাদশ ব্যক্তি হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে মাঠেও নেমেছিলেন! তখন ওয়াগনারের দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে টেস্ট খেলাটা সময়ের ব্যাপার ছিল। কিন্তু বেচারা ওয়াগনার; কপাল পুড়ল তার দক্ষিণ আফ্রিকার কোটা ব্যবস্থার ফলে!
ওয়াগনার তখন পাড়ি জমালেন ইংল্যান্ডে। চেষ্টা করছিলেন ইংলিশ নাগরিকত্ব নেওয়ার। সাসেক্সের সঙ্গে লম্বা চুক্তিও হয়ে যাচ্ছিল। তখনই কেউ একজন পরামর্শ দিলেন নিউজিল্যান্ড যাও, ওখানে পেসারদের আকাল চলছে। ব্যাস! এই বাজিটা জিতে গেলেণ ওয়াগনার। ওটাগোর হয়ে যে পারফরম্যান্স করলেন, তাতে নিউজিল্যান্ড অন্তত তাকে ফেরাতে পারল না।
ভাগ্যিস নিউজিল্যান্ড ফেরায়নি। নইলে ওয়াগনারকে হয়তো আরও কোথাও পাড়ি জমাতে হত!
