স্টাফ রিপোর্টার ॥ নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নির্ধারণে সংলাপের জন্য ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে শুক্রবার তিনদিনের হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করলেন ১৮ দলীয় জোট নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। এটিই ১৮ দলের প্রাথমিক কর্মসূচি। এরপরও সরকার কিছু না করলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।
রাজধানীর সোহরাওর্য়াদী উদ্যানে ১৮ দলীয় জোট আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালদো জয়িা এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
খালেদা জিয়া বলেন, ২৭ অক্টোবরের পর সরকার অবৈধ। এর আগেই সংবিধান সংশোধন করে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধী দল যে প্রস্তাব দিয়েছে সেটা বাস্তবায়ন করুন। আমরা আলোচনা চাই যদি আলোচনায় না আসেন তবে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। এ সময় তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজ ও আগামীকালের মধ্যে নির্দলীয়- নিরপেক্ষ সরকারের ব্যাপারে আলোচনার ব্যবস্থা না করলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। প্রাথমিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৭ অক্টোবর ভোর ৬টা থেকে ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশব্যাপী লাগাতার হরতাল পালন করা হবে। খালদো জয়িার এই হরতাল র্কমসূচি ঘোষণার পর উপস্থতি জনতা করতালি দেিয় স্বাগত জানায়।
পুলিশ বাহিনীসহ সরকারি র্কমর্কতাদরে উদ্দেশ্য করে খালদো জয়িা বলেন, ‘২৭ অক্টোবর পর সরকার অবৈধ। এরপর আপনারা সরকারের দলীয় কর্মী হিসেবে সরকারের আর কোন কথাবার্তা শুনবেন না। অবৈধ সরকারের সহযোগিতা করা মানে অন্যায় কাজ করা। পুলিশ বাহিনী সত্যিকার গণতন্ত্রের ও নির্বাচিত সরকারের কথাচিন্তা করেন তাহলে এ সরকারকে আর কোন সহযোহিতা না করার আহ্বান জানান।
খালেদা জিয়া তার বক্তব্যের শুরুতেই অভিযোগ করেন, ১৮ দলের সমাবেশ ঠেকাতে সরকার নিজেই অবরোধ করেছে। গাড়ি বন্ধ করেছে, সারা দেশে ধরপাকড় ও তল্লাশি চালিয়ে ও গণগ্রেপ্তার করে নেতাকর্মীদের হয়রানি করেছে।
আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, আপনারা ভোট ছিনতাইয়ের অপচেষ্টা করছেন। জামালপুরের ডিসিকে দিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট চাইয়ে এ অপচেষ্টা শুরু করেছেন। এসময় তিনি সংবাদপত্রে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন জনতার সামনে তুলে ধরেন।
খালেদা জিয়া বলেন, আমরা গত পাঁচ বছর শান্ত ছিলাম। কিন্তু এ অপচেষ্টা রোধে আমরা এখন প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।
তিনি বলেন, এ পাঁচ বছরে সরকারের উন্নয়ন হলো হলমার্ক, ডেসটিনি আর ব্যাংক থেকে অর্থলুট। আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের যে ক্ষতি করেছে তা আগামী ৩০৯ বছরেও পূরণ করা সম্ভব নয়। খালেদা বলেন, তারা লুটপাটের পাশা দলীয়করণ করেছে। আমরা নির্বাচন চাই অশান্তি চাই না। সকল দলের অংশগ্রহণে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন এদেশে হতে হবে। হাসিনার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি লক্ষ্য করে দেখেন নাই। আপনার নৌকার তলা ফুটো হয়ে গেছে। আপনার নৌকা ডুবে গেছে। এদেশে যতবার স্বৈরাচারী শাসক এসেছে ততবার তাদের স্বাগত জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।
খালেদা জিয়া বলেন, সরকার দেশে অঘোষিত বাকশাল কায়েম করা হয়েছে। কিন্তু, বাংলাদেশের জনগণ বাকশালের জন্য দেশ স্বাধীন করেনি। তিনি বলেন, এ সরকার আওয়ামী লীগের সরকার। তারা জনগণের জন্যে কিছু করেনি। যা করেছে আওয়ামী লীগের জন্য করেছে। তিনি বলেন, সরকার ১৪৪ ধারা জারি করেছে, রাস্তাঘাট অবরোধ করেছে। মানুষকে সমাবেশে আসতে দেয়নি। আপনাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না। খালেদা জিয়া বলেন, সরকার জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। আমরা যেখানে সমাবেশ করি সেখানে তরা বাধা প্রদান করে। তিনি আরো বলেন , নির্বাচনে ভারাডুবি হবে বলে তারা নিজেদের অধীনে নির্বাচন দিতে চায়।
বিকেল ৪টায় সমাবেশস্থলে আসেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে পৌঁছলে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা স্লোগান ও করতালি দিয়ে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানায়। পুলশি নয়া পল্টনে সমাবশেরে অনুমতি না দয়োয় সকালে সমাবশেরে মঞ্চ তিৈর করা হয়। তবে বলো ২টার পর সমাবশে শুরু হওয়ার কথা থাকলওে সকাল থকেইে সোহরাওর্য়াদী উদ্যান ভরে যায় জামায়াত শবিরি ও যুবদল ছাত্রদলরে নতোর্কমীদরে মছিলি। মছিলিরে নষিধোজ্ঞা থাকলওে বএিনপওি এর অংগ সংগঠনরে শত শত মছিলি সহকারে দলে দলে নতোর্কমীরা সমাবশে স্থলে এসে উপস্থতি হন। এসময় পুলশিকে নরীব থাকবে দখো গছে।ে সমাবশে স্থলে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় হাজার হাজার জনতা শাহবাগ, দোয়লে চত্বর, ঢাবরি অপরাজয়ে বাংলা চত্বরসহ মৎস্যভবন এলাকায় অবস্থান নয়ে।
খালেদা জিয়া সমাবেশের মঞ্চে উঠেই উপস্থিত নেতাকর্মীর উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন। নেতাকর্মীরাও বেগম জিয়াকে করতালি দিয়ে শুভেচ্ছ জানান।
নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে এ সমাবেশ। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা।
