স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জনগণের সেবা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
সোমবার সকালে গাজীপুরের কাশিমপুরে ২৫০ শয্যার শেখ ফজিলাতুন নেছা মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নাসিং কলেজের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো শ্রী মোহাম্মদ নজিব বিন তুন আব্দুল রাজাক।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ জাতির পিতার স্বাধীনতা সংগ্রামের লক্ষ্যই ছিল গরীব মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। এ লক্ষ্যেই ১৯৯৪ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট গঠন করা হয়। এ ট্রাস্ট থেকে ১৭শ’ দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেয়া হচ্ছে। দুস্থ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সহায়তা করা হচ্ছে। এছাড়া এ ট্রাস্টের সর্ববৃহৎ জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ হচ্ছে শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ।’
৬ একর জমির ওপর ২১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ হাসপাতালে দরিদ্র জনগোষ্ঠী, বিশেষত শিল্প কলকারখানা ও ইপিজেডের অনেক গার্মেন্টসকর্মী সেবা পাবে। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকছে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান কামপুলান পেরুতান জহর (কেপিজে)। বিশেষায়িত এ হাসপাতাল থেকে শতকরা ৩০ ভাগ দরিদ্র রোগী বিনা পয়সায় চিকিৎসা সেবা পাবে।’
এ উদ্যোগকে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের ক্ষেত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে এজন্য মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশের পরম বন্ধু আখ্যায়িত করে বলেন, ‘দারিদ্র এ অঞ্চলের প্রধান শত্রু। তাই মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বিনিয়োগ সম্পর্ক শক্তিশালী হচ্ছে। মালয়েশিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বাবা তুন আব্দুল রাজাক হোসেইন যখন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তখন বঙ্গবন্ধুও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বহু প্রত্যাশিত শেখ ফজিলাতুন নেছা মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের যাত্রা জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্যে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো শ্রী মোহাম্মদ নজিব বিন তুন আব্দুল রাজাক মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের উঞ্চ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘এ হাসপাতাল উদ্বোধনের মাধ্যমে শুধুমাত্র স্বাস্থ্যসেবা উন্নীত হবে না, দু’দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।’
এ সময় তিনি স্বাস্থ্যসেবায় তার দেশে কেপিজের ভূমিকা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান।
এ সময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ছোটবোন ও ট্রাস্টের সহসভাপতি শেখ রেহানা, মালয়েশিয়া প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী দাতিন শ্রী রোশমা মন্সুর, মন্ত্রী পরিষদের কয়েকজন মন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যবর্গ, সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী সকাল সোয়া ১০টায় ফিতা কেটে হাসপাতালের উদ্বোধন করেন।
