Skip to content

হাসিনা-খালেদার প্রতি ক্ষুব্ধ রাষ্ট্রপতি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ১৮ দলের প্রতিনিধি দলের সাথে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে বৈঠককালে বিএনপি চেয়ারপারস বেগম খালেদা জিয়ার কাছে তার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি নিজের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর ১৯৯০ সালে দুই নেত্রীর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সাংবিধানিকভাবে ভূমিকা নির্দিষ্ট করে দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদকে প্রায় ক্ষমতাহীন করে দেয়ার ঘটনা স্মরণ করে মো. আবদুল হামিদ তার ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বঙ্গভবনের বৈঠক সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৮ দলের শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে প্রায় সাড়ে সাতটা পর্যন্ত এক ঘণ্টা বৈঠক করেন।

বৈঠকে ১৮ দলের পক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির কাছে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ শেষে তা হস্তান্তর করেন।

মির্জা ফখরুলের লিখিত বক্তব্য পাঠ শেষে কথাবার্তার এক পর্যায়ে খালেদা জিয়ার উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, ‘আপনারা বলছেন দেশের ক্রান্তিকাল, আমি দেশের অভিভাবক। সংকটে আমাকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানালেন। কিন্তু আপনিও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তিনিও (শেখ হাসিনা) এখন প্রধানমন্ত্রী, এর আগেও তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আপনারা দু’জনে মিলেই তো সংবিধানে রাষ্ট্রপতির কোনো ক্ষমতা রাখেননি। ক্রান্তিকালে অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগ নেয়ার সুযোগ তো আপনারা কেউই সংবিধানে রাখেননি। সংসদে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আমি যে বক্তব্য রাখি, সেটিও লিখে দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আমি শুধু পাঠক। আমিও চাই, আপনারা নিজেরাই আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করুন।’

রাষ্ট্রপতির একথার পর খালেদা জিয়া তাকে বলেন ‘আমরা শান্তি চাই। গণতন্ত্র চাই। সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতা চাই। কিন্তু সরকার সকল জনমত উপেক্ষা করে দেশে একদলীয় নির্বাচন করতে চাচ্ছে। সেই নির্বাচনে আমরা অংশ নেব না এবং নির্বাচন করতেও দেবো না।’

জবাবে আবদুল হামিদ বলেন ‘ঠিক আছে, আপনাদের বক্তব্য নিয়ে আমি সরকারের সঙ্গে আলাপ করবো।’

আলোচনার সময় রাষ্ট্রপতিকে মির্জা ফখরুল বলেন ‘আমরা তো সবসময় আলোচনার কথা বলছি। আমি নিজে সৈয়দ আশরাফ সাহেবকে চিঠি পাঠিয়েছি। আজ পর্যন্ত সেই চিঠির জবাবও আমরা পাইনি। এরপর ফোন করেও তাকে অন্তত মহাসচিব পর্যায়ে আলোচনার উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করেছি। কিন্তু কিছুতেই সরকারের কোনো সাড়া নেই।’

এসময় রাষ্ট্রপতি বলেন ‘ঠিক আছে আমি আশরাফ সাহেবকে বলবো, সৌজন্যতাবোধ থেকেও চিঠির জবাব দেয়া উচিত। এই কাজটি আমি করতে পারি।

সূত্র জানায়, আলোচনা শেষে বিরোধী দলীয় নেতার উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন ‘আপনি আসবেন’। জবাবে খালেদা জিয়া তাকে বলেন ‘আপনি ডাকলে আসবো।’ এরপর রাষ্ট্রপতি বলেন ‘আমি তো ভয়ে আপনাকে ডাকি না, ডাকলে যদি না আসেন’।

উল্লেখ্য, সংবিধানের চতুর্থ ভাগে বর্নিত ৪৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করিবেন এবং এই সংবিধান ও অন্য কোন আইনের দ্বারা তাঁহাকে প্রদত্ত ও তাঁহার উপর অর্পিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করিবেন।’

তবে ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্টপতি তাঁহার অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন।’

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫